এ কথা কি সত্যি নয় যে মাঝে মাঝে মর্মান্তিত দুর্ভাগ্যের ফলে অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য লাভ করা যায়? এ বিষয়ে দুজনেই একমত হলেন।
এরই মধ্যে স্যান ফ্রান্সিস্কোর ডনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ডন কর্লিয়নি যে ফ্রেডিকে আশ্রয় দিয়ে তিনি কর্লিয়নিদের যে মহৎ উপকার করেছেন সেজন্যে কর্লিয়নিরা তাঁর কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে। ডন কর্লিয়নি আরও বললেন, তিনি। তার প্রভাব বিস্তার করবেন যাতে সমস্ত প্রধান ঘোড়দৌড়ের তারবার্তার সুবিধে শুধু মলিনারির লোকরাই পায়, ক্ষমতা বন্টনে যত পরিবর্তনই হোক না কেন ভবিষ্যতে। এধরনের গ্যারান্টির অনেক মূল্য আছে। কারণ এই সুবিধাটুকু নিয়ে সব সময়ই ঝগড়া বিবাদ চলে, যথেষ্ট বিদ্বেষেরও সৃষ্টি হয়। অবস্থাটা আরও জঠিল হয়ে ওঠে, কারণ শিকাগোর লোকগুলোর নোংরা হাতও এর মধ্যে রয়েছে। কিন্তু ওই বর্বরদের মুলুকেও একেবারে ক্ষমতাশূন্য নন ডন কর্নিয়নি সোনার চেয়েও দামা তার এই প্রতিশ্রুতি।
৩.০৭ লং বীচ
০৭.
লং বীচ।
ওদের বডিগার্ড তথা ড্রাইভার রকো ল্যাম্পনি ডন কর্লিয়নি আর টম হেগেনকে নিয়ে উঠানে পৌঁছুল। এরই মধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
আমাদের ড্রাইভার রকোর ওপর একটু নজর রেখো, বাড়ির ভিতর ঢুকেই টম হেগেনকে বললেন ডন কর্লিয়নি। ওকে আমার এর চেয়ে ভাল কাজের যোগ্য বলে মনে হয়েছে।
গড ফাদারের মন্তব্য শুনে একটু অবাক হলো হেগেন। একটা কথাও বলেনি সারাদিন রকে। পিছনের সীটের আরোহী দুজনের দিকে একবারও ফিরে তাকায়নি। ওরা যখন বাইরে বেরিয়ে ব্যাংকের সামনে গাড়ির কাছে এসেছিল, ডনের জন্যে গাড়ির দরজা খুলে দিয়েছিল বকো ল্যাম্পনি সব কাজই সে সুচারু ভাবে করেছিল, কিন্তু কোন শিক্ষিত চালকের চেয়ে বেশি কিছু করেনি। বোঝা গেল, ডন নিশ্চয় এমন কিছু দেখেছেন যা চোখে পড়েনি টম হেগেনের।
এরপর টমকে বিদায় করে দিলেন ডন। বলে দিলেন রাতের খাবারের পর আবার যেন ফিরে আসে সে। ব্যস্ততার কিছু নেই, টম যেন একটু বিশ্রাম করে নেয়। কারণ গভীর রাত পর্যন্ত শলা-পরামর্শ চলবে ডন আরও বললেন, ক্লেমে আর টেসিওকেও উপস্থিত থাকতে হবে। দশটার সময় আসে যেন তারা, তার আগে নয়। শান্তি-বৈঠকে কি হয়েছে না হয়েছে, ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওকে টম যেন সব জানিয়ে দেয়।
রাত দশটা। তাঁর কোণার ঘরে ওদের তিন জনের জন্য অপেক্ষা করছেন ডন কর্লিয়নি। এই কামরাটা তার অফিস, তার আইন সম্পর্কিত বইয়ের লাইব্রেরিও বটে এটা, তার বিশেষ টেলিফোনটাও রয়েছে এখানে। একটা ট্রেতে বরফ, সোডা, হুইস্কির বোতল রয়েছে। নির্দেশ দিতে শুরু করেছেন ডন। বলছেন, আজ আমরা শান্তি করলাম। আমি আমার কথা দিয়েছি, ধর্ম সাক্ষী রেখেছি। তোমাদের সকলের জন্যে সেটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। তবে আমাদের বন্ধুরা সবাই অতটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তুই এখনও আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু আর কোন অপ্রত্যাশিত অঘটন যেন না ঘটে, তারপর হেগেনের দিকে ফিরে জানতে চাইলেন, বোচ্চিচ্চিওর জামিনদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে তো?
মাথা দুলিয়ে বলল হেগেন, বাড়ি পৌঁছেই ক্লেমেঞ্জাকে ফোন করে দিয়েছিলাম।
প্রকাণ্ডদেহী ক্লেমেঞ্জার দিকে ফিরলেন ডন। ক্যাপোরেজিমি মাথা দুলিয়ে বলল, সবাইকে ছেড়ে দিয়েছি। আচ্ছা, গড ফাদার, বোচ্চিচ্চিওরা যতটা ভান করে, কোন সিসিলীয়র পক্ষে অতটা বোকা হওয়া কি সম্ভব?
একটু হাসলেন ডন কর্লিয়নি। কিন্তু ভাল রোজগার করার মত বুদ্ধি আছে ওদের। তার চেয়ে বেশি বুদ্ধি থাকার দরকারটা কি শুনি? এ দুনিয়ায় এত যে গণ্ডগোল, সে সব বোচ্ছিচ্চিওরা বাধায় না। তবে, হ্যাঁ, একথাও সত্যি-সিসিলীয় মাথা নেই ওদের।
যুদ্ধ থেমে গেছে। সবার মনে স্বস্তি। নিজের হাতে পানীয় মেশালেন ডন কর্লিয়নি, প্রত্যেকের হাতে গ্লাস ধরিয়ে দিলেন। নিজের গ্লাসে সযতে চুমুক দিচ্ছেন। চুরুট ধরালেন একটা। তারপর বললেন, সনি কেন, কিভাবে মারা গেল সে ব্যাপারে কোন অনুসন্ধান হোক, এ আমি চাই না। ওসব শোধবোধ হয়ে গেছে। অন্যান্য পরিবারের সাথে সহযোগিতা করতে চাই আমি। তারা যদি একটু বেশি লোভ করে, আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করে, তবুও। আমি চাই এমন কিছু যেন না ঘটে, যাতে এই শান্তি নষ্ট হয়, যতদিন না মাইকেলকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার একটা বন্দোবস্ত করা যায়। এই চিন্তাটাই যেন তোমাদের মনে সব কিছুর আগে থাকে, এই আমি চাই। মনে রেখো, সে যখন ফিরে আসবে, যেন সম্পূর্ণ নিরাপদভাবেই আসতে পারে। না, আমি টাটাগ্লিয়া অথবা বার্জিনিদের তরফ থেকে কোন বিপদের কথা বলছি না। আমার যত ভাবনা পুলিশদেরকে নিয়েই। ওর বিরুদ্ধে বাস্তব প্রমাণ যা আছে, সমস্ত আমরা দূর করে দিতে পারি। ওই ওয়েটারও সাক্ষ্য দেবে না আর এই প্রত্যক্ষদশী বা পিস্তলধারী বা ওকে যাই বলো না কেন, সেও সাক্ষ্য দেবে না। বাস্তব প্রমাণগুলোর কথা তো আমরা জানিই, তাই ওসব নিয়ে মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আমাদের দেখতে হবে শুধু পুলিশ যেন মিথ্যে সাক্ষী তৈরি করে না রাখে। কারণ, ওদের ইনফর্মাররা হয়তো জেনেই বলেছে যে ক্যাপটেনকে মাইকেল কর্লিয়নিই খুন করেছে। বেশ। এবার তাহলে আমাদের দাবি কি হবে? আমাদের দাবি হবে, নিউ ইয়র্কের পাঁচ পরিবার পুলিশের এই ধারণা শুধরে দেবার জন্যে এবার তাদের যথাসাধ্য করুক। ওদের যে সব ইনফর্মাররা পুলিশের সাথে সহযোগিতা করে, তারা নতুন নতুন বিবৃতি দিক। আমার বিশ্বাস, আজ দুপুরে আমার কথা শুনে ওরা সবাই বুঝতে পেরেছে যে, এই কাজটা করে দিলে তাদেরই সুবিধা হবে। কিন্তু তাও যথেষ্ট নয়। আমাদের দিক থেকে এমন একটা নিখুঁত বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ব্যাপারটা নিয়ে ভবিষ্যতে কোন দিন মাইকেলকে ডাকতে বা বিপদে পড়তে না হয়। তা না হলে, এদেশে ওর ফিরে এসেই বা কি লাভ? কাজেই, এসো সবাই মিলে একটু চিন্তা করা যাক। এটাই হলো এখনকার জন্যে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
