করে। ওদের প্রধান কারবারই এটা। তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ নাইট-ক্লাব রয়েছে এদের হাতে। দেশের যে-কোন অঞ্চলে এরা যে-কোন প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারে। সম্ভাবনাময় গাইয়ে কিংবা ভাড়ামির ওস্তাদদের আয়ত্ত করার জন্যে গায়ের জোর খাটাতে ফিলিপ টাটাগ্লিয়ার বাধে না, রেকর্ডের। কারবারেও হস্তক্ষেপ করেন ইনি। তবে পারিবারিক আয়ের প্রধান উৎস বেশ্যা ব্যবসা।
আর সবার কাছে তার চরিত্রটা অপ্রীতিকর। সব সময় নাকী কান্না কাঁদেন, পারিবারিক ব্যবসাটার কি ভীষণ খরচ, তার ফিরিস্তি দেন। ধোপার বিল আছে, গাদা গাদা তোয়ালে দরকার হয়, তাতে লাভের টাকা খেয়ে যায়। যদিও যে কোম্পানি কাপড় কেচে দেয়, সেটারও মালিক তিনি। বলেন, মেয়েগুলো কুঁড়ে, একটুও বিশ্বাস করা যায় না তাদেরকে কে কখন কেটে পড়ে, আত্মহত্যা করে। দালালগুলো সব বিশ্বাসঘাতক, অসৎ, এতটুকু আনুগত্য নেই মালিকের প্রতি। কাজের উপযুক্ত ভাল লোক পাওয়া দুষ্কর। সিলিণীয় ছোকরাগুলো আবার এ ধরনের। কাজ দেখলে নাক সিটকায়। তাদের ধারণা, মেয়েমানুষ নিয়ে ব্যবসা করা বা তাদেরকে গালাগালি করা অধর্মের কাজ। অথচ নচ্ছারগুলো কোটের বুকে। ইস্টারের সময় তাল পাতার বাহারে ক্রুশ ঝুলিয়ে, দিব্যি গান গাইতে গাইতে মানুষের গলা কাটে। এইভাবে বক বক করেন ফিলিপ টাটাগ্লিয়া, শ্রোতাদের না পান সহানুভূতি, না পান শ্রদ্ধা। তার সবচেয়ে রাগ কর্তৃপক্ষের উপর। নাইট ক্লাব, নাচশালা আর মদের লাইসেন্স যারা ইচ্ছামত দিতে বা কেড়ে নিতে পারে। বলে থাকেন, সরকারী সীলমোহর চোরদের পেটে যত টাকা ঢেলেছেন, তার সাহায্যে তিনি নাকি ওয়াল স্ট্রীটের চেয়েও বেশি লক্ষপতি তৈরি করতে পারতেন।
অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, কর্লিয়নিদের সাথে লড়াই করে প্রায় জিতে গিয়েও যথাযোগ্য খাতির পাননি তিনি। অন্য ডনরা জানেন, টাটাগ্লিয়ার শক্তি প্রথমদিকে সলোযোর কাছ থেকে, পরে বার্জিনির কাছ থেকে ধার করা। তাছাড়া, কর্লিয়নিদেরকে অতর্কিতে আক্রমণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও জয়লাভ অসম্পূর্ণ থাকার ব্যাপারটাও তার অযোগ্যতার সাক্ষ্যসরূপ। সবাই বোঝে, ওদের যদি আরেকটু দক্ষতা থাকত, বর্তমান গোলমেলে অবস্থাটা এড়িয়ে যাওয়া যেত। ডন। কর্লিয়নির মৃত্যু হলে লড়াইটাও বাধত না।
পরস্পরের সথে লড়তে গিয়ে দুজনেই ছেলে হারিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ডন কর্লিয়নি আর ফিলিপ টাটাগ্লিয়া যে শুধু একটু মাথা নেড়ে পরস্পরের উপস্থিতিকে স্বীকৃতি দেবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। ডন কর্লিয়নি আজ সকালের লক্ষ্যস্থল, আঘাত আর বিফলতা তার শরীরে কতটা অবসন্নতার ছাপ রেখে গেছে, সে-বিষয়ে। সবারই দারুণ কৌতূহল। একটা কথা ভেবে সবাই আশ্চর্য যে প্রিয় পুত্রের মৃত্যুর পর কেন শান্তির প্রস্তাব করছেন ডন কর্লিয়নি। এ তো পরাজয় স্বীকারের সামিল, এর ফলে তার ক্ষমতা কমে যাবে। যাই হোক, ভারছে সবাই, শিগগিরই জানা যাবে সব।
সকলকে অভিবাদন করা হলো। পানীয় পরিবেশন করা হলো। এভাবে প্রায় আধ ঘণ্টা কেটে যাবার পর পালিশ করা আখরোট কাঠের টেবিলে তার আসন নিলেন ডন কর্লিয়নি। ডনের বাঁ দিকে একটা চেয়ার একটু পিছনে সরিয়ে বসল টম হেগেন, যাতে অনধিকার প্রবেশ করা না হয়। আর সব ডনরাও ইঙ্গিত পেয়ে টেবিলের চারধারে বসলেন। সহকারীরা বলল তাদের পিছনে। একটু এগিয়ে এল কনসিলিয়রিরা, যাতে দরকার হলে উপদেশ দিতে পারে।
প্রথমে কথা বললেন ডন কর্লিয়নি। এমন ভাবে বললেন, যেন কিছুই হয়নি। যেন তিনি মর্মান্তিক আঘাত পাননি, তার বড় ছেলে মারা যায়নি, তার সামাজ্য তছনছ হয়নি, নিজের পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি, মলিনারি পরিবারের নিরাপত্তাধীনে ফ্রেডি পশ্চিমে চলে যায়নি, সিসিলির বন-বাদাড়ে মাইক লুকিয়ে নেই। বলা বাহুল্য, সিসিলির ভাষাতেই কথা বলছেন ডন কর্নিয়নি।
ডন কর্লিয়নি বলছেন, আপনারা এসেছেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করি আমার ডাকে আজ এসে আপনারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দয়া করেছেন, সেজন্যে আমি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে ঋণী। সুতরাং শুরুতেই বলে রাখছি, আমি শুধু একটু যুক্তি দেখতে চাই আর নিজে যুক্তি ভালবাসি বলে আজ এখান থেকে আমরা যাতে সবাই হাসিমুখে বিদায় নিতে পারি তার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে চাই। আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে চেনেন, তারা জানেন, কথা আমি কখনও হালকাভাবে দিই না। সে যাই থোক, এখন কাজের কথায় আসা যাক। এখানে আমরা যারা সমবেত হয়েছি তারা। সবাই সজ্জন। আমরা তো আর উকিল নই যে সবার কাছে সবাই প্রতিশ্রুতি দেব।
এই বলে ডন থামলেন। কেউ কোন কথা বলছেন না। কেউ চুরুট ফুকছেন, কেউ গ্লাসে চুমুক দিচ্ছেন। এরা সবাই আদর্শ শ্রোতা, ধৈর্য ধরে কথা শোনেন। এদের সবার আরেকটা গুণও রয়েছে। এঁদের মত মানুষ খুব বিরল, এরা কেউ সংগঠিত, প্রচলিত সমাজের অনুশাসন মানতে রাজী নন, এরা নিজেদের উপর অন্য মানুষের আধিপত্য স্বীকার করেন না। এরা স্বেচ্ছায় না করলে, কোন শক্তি কিংবা কোন মরণশীল মানুষ এদের দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করাতে পারে না এরা চাতুরি আর খুনের সাহায্যে নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা সংরক্ষণ করেন এদের স্বাধীন ইচ্ছা। নতি স্বীকার করে একমাত্র মৃধুর কাছে। একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন ডন কর্নিয়নি, তারপর স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার এতদূর গড়াল.কি করে? থাক সে কথা। নির্বুদ্ধিতা অনেক হয়ে গেছে। শোচনীয়ভাবে, মিছেমিছি উবু আমি যে দৃষ্টিতে বিষয়টাকে দেখেছি, সেটা বলি
