এঁদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান্টনি স্ট্রাচি। এঁর হাতে আছে নিউ জার্সি আর ম্যান হ্যাটনের পশ্চিম ঘাটার জাহাজি কারবার। নিউ জার্সিতে ইনি জুয়ার ব্যবসা চালান। ডেক্যাট রাজনৈতিক দলের সাথে খুব দহরম মহরম তার। একরাশ মালবাহী ট্রাক আছে, সেগুলো থেকে তাঁর লক্ষ লক্ষ ডলার আয় হয়। এত বেশি আয় হবার কারণ ট্রাকগুলোতে বে-আইনী ভাবে বেশি মাল চাপান তিনি, অথচ ওজন ইন্সপেক্টররা কেউ সেগুলোকে থামাতে, কিংবা জরিমানা করতে পারে না। এই ট্রাকগুলো আবার ভেঙে তছনছ করে দেয় রাস্তাগুলোকে, রাস্তা মেরামতের মোটা মোটা সরকারি কন্ট্রাক্ট পান অ্যান্টনি। এ ধরনের ব্যবসার কথা শুনতেও ভাল লাগে, এক ব্যবসার ভিতর থেকে কেমন বেরিয়ে আসছে আরেক ব্যবসা। স্ট্রাচিও একটু সেকেলে ধরনের মানুষ, বেশ্যা-ব্যবসা তিনি কখনও ছুঁয়েও দেখেন না। কিন্তু জাহাজঘাটার কারবার চালাতে হয় বলে ড্রাগসের ব্যবসা পরিহার করতে পারেন না। কর্লিয়নিদের বিপক্ষে যে পাঁচটি পরিবার দাঁড়িয়েছে তার মধ্যে এর দলটা সব চেয়ে দুর্বল কিন্তু ইনিই আবার সব চেয়ে সুবিবেচক বলে পরিচিত।
একটা পরিবার নিউ ইয়র্ক রাজ্যের উত্তরাংশটা শাসন করে কানাডা থেকে বহিরাগত ইতালীয়দের বে-আইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে তারা, ও-দিককার সমস্ত জুয়ার ব্যবসা ও তাদের হাতে ঘোড়দৌড়ের মাঠ ব্যবহার করার লাইসেন্স পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে তাদের উপর। এদের নেতার নাম ওটিলিও নিও! লোকটাকে দেখলেই গলে যায় মন, গ্রাম্য মায়রার মত গোলগাল হাসিখুশি চেহারা তার! আইনসম্মত ব্যবসা আছে। দুধের কারবার। ছেলেপিলে ভালবাসেন কুনিও, পকেটে সব সময় লজেন্স নিয়ে ঘুরে বেড়ান, আশা, নিজের নাতি-নাতনি আর বন্ধু-বান্ধবদের ছোট ছেলেমেয়েদেরকে খুশি করবেন। গোল একটা ফিডরা টুপি থাকে মাথায়, মহিলাদের রোদ ঠেকাবার টুপির মত তার কার্নিশটা সব সময় নামানো থাকে। এমনিতেই মুখখানা চাঁদের মত গোল, তার উপর ওই টুপিটার জন্যে মুখটাকে আরও চওড়া দেখায়, ঠিক যেন একটা কমেডিয়ানের মুখোশ। যে অল্প কয়েকজন ডন কখনও গ্রেপ্তার হননি, ইনি তাঁদের একজন। এঁর আসল কীর্তিকলাপ সম্পর্কে কারও কোন ধারণাই নেই। এমনি তার প্রতিষ্ঠা যে তিনি বাস্তু বিভাগের সদস্য পর্যন্ত হয়েছেন, নিউ ইয়র্ক রাজ্যের চেম্বার অফ কমার্স তাকে এ বছরের শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী বলে সম্মানিতও করেছে।
টাটাগ্লিয়া পরিবারের সাথে সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠতা ডন এমিলিও বার্জিনির। ব্রুকলিন আর কুইনসে কিছু কিছু জুয়াখেলাও পরিচালনা করেন বার্জিনি। কিছু বেশ্যা ব্যবসাও আছে তাঁর। গুণ্ডা বাহিনী তো আছেই। স্টেটেন আইল্যাণ্ডে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ব্রঙ্কস আর ওয়েন্টচেস্টারে খেলাধুলা সংক্রান্ত বাজির ব্যাপারেও হাত আছে তার। ড্রাগ ব্যবসাতে জড়িত ইনি। ক্লীভল্যাণ্ড আর পশ্চিম তীরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাছাড়া অল্প কয়েকজন ব্যক্তি যারা লাস ভেগাস, রিনো আর নেভাডার শহরাঞ্চলেও নজর দেন তিনি তাদের মধ্যে একজন। মিয়ামি বীচ আর কিউবার সাথে তার কারবার আছে। নিউ ইয়র্ক শহরে, তথা গোটা দেশে, কর্লিয়নি পরিবারের পরেই তাঁর পরিবারের স্থান সিসিলি পর্যন্ত এঁর প্রতিপতি প্রসারিত যেখানে যত বে-আইনী ব্যাপার ঘটে, সবগুলোতে তার হাত আ২। এমন কি, লোকে বলে, ওয়াল স্ট্রীটেও ইনি একটা পা রাখার জায়গা করে নিয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইনি অর্থবল আর পৃষ্ঠপোষকতার সাহায্যে টাটাগ্লিয়া পরিবারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছেন।
তাঁর উচ্চাকাঙ্খা, একদিন তিনি আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাশালী আর শ্রদ্ধাভাজন মাফিয়া হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে ডন কর্লিয়নিকে পদচ্যুত করবেন আর কর্লিয়নি সামাজ্যের খানিকটাকে তো হস্তগত করবেনই। তার প্রকৃতি অনেকটা ডন কর্লিয়নির মতই, তবে ইনি আরও আধুনিক, আরও কেতাদুরস্ত, আরও ব্যবসা-বুদ্ধি সম্পন্ন। একে কেউ বুড়ো গুঁফো সরদার বলে উল্লেখ করে না। যে সব আরও আধুনিক, আরও কম বয়েসী, আরও দুঃসাহসিক নেতা উন্নতির দিকে ক্রমে অগ্রসর হচ্ছে তারা ওঁর ওপর আস্থা রাখে। তার প্রচণ্ড ব্যক্তিত্ব আছে কিন্তু তাতে উত্তাপ নেই। চুন কর্লিয়নির মত সহৃদয়তা নেই। তবে বর্তমানে মাফিয়াদের মধ্যে তাকেই লোকে সবচেয়ে বেশি খাতির করে থাকে।
সবার শেষে এসে পৌঁছুলেন টাটাগ্লিয়া পরিবারের কর্তা, ডন ফিলিপ টাটাগ্লিয়া। তার পরিবারই সলোযোকে সমর্থন করে কর্লিয়নিদের ক্ষমতাকে শক্তি পরীক্ষায় ডাক দিয়েছিল এবং আরেকটু হলে জিতেও গিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অন্যেরা সবাই তাকে একটু তাচ্ছিল্য করেন। তার কারণ, সলোযোর বশ্যতা মেনে নিয়েছিলেন ইনি। সত্যি কথা বলতে কি, চতুর তুর্কী তাঁর নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাত। উপস্থিত হট্টগোল, এই যে ঝামেলা যার জন্যে নিউ ইয়র্কের সমস্ত মাফিয়া পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার জন্যে বাকিরা সবাই দায়ী করেছেন একে। তাছাড়া, ষাট বছর বয়স লোকটার, অথচ শখের অন্ত নেই। আর এক নম্বর লম্পটও বটে। নিজের এই সব দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেবার যথেষ্ট সুযোগও তিনি পান। কারণ টাটাগ্লিয়া পরিবার মেয়েমানুষের ব্যবসা
