গড ফাদারকে বুকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করছে ওরা। এটা ওদের পুরানো বন্ধুত্বের অধিকার। তারপর সবাই একটু করে অ্যানিসেট পান করল। আজ রাতের ঘটনা বর্ণনা দেবার আগে হেগেন নিজ হাতে সবাইকে ঢেলে দিল মদ
সব বলল হেগেন। শুনলেন ডন কর্লিয়নি। তারপর শুধু একটা প্রশ্ন করলেন, আমার ছেলে মারা গেছে, ঠিক জানো?
হ্যাঁ, উত্তরটা দিল ক্যাপোরেজিমি পাট ক্লেমেঞ্জা। সনির দল থেকে আমি নিজে বাছাই করে নিয়েছিলাম বডিগার্ডদের। আমার বাড়িতে যখন ফিরে এল ওরা, আমি নিজে ওদেরকে প্রশ্ন করে সব জেনে নিয়েছি। তোলাখানার আলোয় পড়ে ছিল সনি, পরিষ্কার দেখে এসেছে ওরা। ওদের বর্ণনা শুনে বুঝলাম, ও-ধরনের আঘাত নিয়ে কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। সনি মারা যায়নি একথা প্রমাণ হলে নিজেদের প্রাণ পর্যন্ত দিতে রাজী রয়েছে বডিগার্ডরা।
চরম বাস্তবকে নিঃশব্দে মেনে নিলেন ডন। কোনরকম ভাবাবেগ প্রকাশ করলেন না। শুধু চুপ করে আছেন।
কয়েকটা মুহূর্ত কেটে গেল। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি, তোমরা কেউ এই ব্যাপারটা নিয়ে ব্যস্ত হবে না। কোন প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা নয়। আমার আদেশ ছাড়া আমার ছেলের খুনীকে খুঁজে বের করার কোন তদন্ত নয়। আমি প্রকাশ্যে মুখ ফুটে না বলা পর্যন্ত আমাদের তরফ থেকে পাঁচ পরিবারের সাথে আর যুদ্ধ নয়। আমাদের পরিবারের সমস্ত ব্যবসা এই মুহূর্ত থেকে বন্ধ করে দেয়া হলো, যতক্ষণ না আমার ছেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হচ্ছে। ধু তারপরই আবার আমরা একসাথে বসে ইতিকর্তব্য স্থির করব, তার আগে নয়। আজকের দিনটা সান্তিনোর দিন। তার জন্যে যতটা আমাদের সাধ্যে কুলায় তার সবটুকু করব আমরা, একজন খৃশ্চানের উপযুক্ত আয়োজন সম্পন্ন করে তাকে আমরা সমাধিস্থ করব। পুলিশ আর অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে আমার বন্ধুরা সমস্ত ব্যবস্থা, যা যা করা দরকার, সব ঠিকঠাক করে রাখবে। ক্লেমেঞ্জা, তুমি আমার পাশে, আমার ছায়া হয়ে থাকবে সব সময় তুমি আর তোমার দল। টেসিও, তুমি। আমার গোটা পরিবারকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেবে-তুমি আর তোমার দল। কনসিলিয়রির দিকে ফিরলেন ডন কর্লিয়নি, বললেন, টম, আমার ইচ্ছা তুমি একটা ফোন করে আমেরিগো বনাসেরাকে বলো যে আজ রাতে কোন এক সময় ওর। সাহায্য দরকার হবে আমার। সে যেন তার কাজের জায়গায় আমার জন্যে অপেক্ষা করে। এক, দুই, এমন কি তিন ঘণ্টাও দেরি হতে পারে আমাদের। তোমরা কেউ আমার কথা বুঝতে না পেরে থাকলে প্রশ্ন করতে পারো।
নিঃশব্দে মাথা নেড়ে ওরা তিনজনই জানাল যে গড ফাদারের প্রতিটি আদেশ বুঝতে পেরেছে ওরা।
ক্লেমেঞ্জা, ডন কর্লিয়নি বললেন, কয়েকটা গাড়ি আর কিছু লোক নিয়ে আমার জন্যে অপেক্ষা করো। তৈরি হতে কয়েক মিনিটের বেশি লাগবে না আমার। টম, ভাল কাজ করেছ তুমি কাল সকালে, ওর মায়ের কাছে নিয়ে এলো। কনস্ট্যানশিয়াকে। ও আর ওর স্বামী যাতে উঠানে থাকতে পারে তার ব্যবস্থাও করবে তুমি! সার্ভার যত বান্ধবী আছে তাদের সবাইকে ওর কাছে পাঠিয়ে দাও, তারা ওর কাছে থাকুক। আমি আমার স্ত্রীর সাথে একটু কথা বলব, তারপর তিনিও ওর কাছে যাবেন। দুঃসংবাদটা আমার স্ত্রীই শোনাবেন ওকে। তারপর মেয়েরা সবাই গির্জায় যাবে, সেখানে তারা আমার ছেলের আত্মার কল্যাণের জন্যে প্রার্থনার ব্যবস্থা করবে।
বিশাল আরাম কেদারা ছেড়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন ডন কর্লিয়নি। আর সবাইও সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল। তাকে আবার নিজেদের বুকে জড়িয়ে ধরে। আলিঙ্গন করল ক্লেমেঞ্জা আর টেসিও। কামরা থেকে বেরিয়ে যাবেন ডন, তাই দরজাটা খুলে দাঁড়িয়ে আছে টম হেগেন। বেরিয়ে যাবার সময় একটু থামলেন ডন, ওর মুখের দিকে তাকালেন তারপর ওর মুখে হাত বুলিয়ে তাড়াতাড়ি একটু আদর করলেন, বললেন, তুমি আমার ভাল ছেলে। তোমার কাছে এলে আমি শান্তি। পাই! কথাটার মানে হলো এই ভয়ঙ্কর সময়ে টম হেগেন তার উচিত কাজই করেছে!
নিজের বেডরুমে উঠে গেলেন ডন কর্লিয়নি। এখন তিনি তার স্ত্রীর সাথে কথা বলবেন।
এই সময় আমেরিগো বনাসেরাকে ফোন করে ঈম হেগেন বলছে, কর্লিয়নিদের পাওনা উপকারটা এবার তাকে পরিশোধ করতে হবে।
৩.০৬ সনি কর্লিয়নির মৃত্যু সংবাদ
০৬.
ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়ল সনি কর্লিয়নির মৃত্যু সংবাদ। শিউরে উঠল গোটা যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ জগৎ! নরক ভেঙে পড়বে এবার, বুঝতে বাকি থাকল না কারও। তারপর খবর এল রোগশয্যা থেকে উঠে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছেন ডন কর্লিয়নি। ইনফর্মাররা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখে এসে রিপোর্ট করল, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ডন কর্লিয়নি, তাকে দেখে রুগ্ন বলে আর মনেই হচ্ছে না। নিউ ইয়র্কের পাঁচ পরিবার প্রমাদ গুল এবার। সামগ্রিক যুদ্ধ যে অনিবার্য সেব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকল না কারও মনে। যার যতটুকু ক্ষমতা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করল তারা। সাজ সাজ রব পড়ে গেল চারদিকে। নিকট অতীতে দূর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন ডন কর্লিয়নি, কিন্তু তাই বলে তাকে যে হেয় না, তুচ্ছ জ্ঞান করা চলে না, এটুকু বুঝতে ভুল করল না কেউ।
জীবনে খুব কম ভুলই করেছেন ডন কর্লিয়নি, য়ে কবার করেছেন, সেগুলো থেকে যথেষ্ট শিক্ষা অর্জন করেছেন।
