একটু পরই এল কনি। রেডরুমে ঢুকছে না, দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে, যেন স্বামীর ডাক না পেলে ভিতরে ঢুকতে পারে না। ওখান থেকেই বলল, খাবার দেয়া হয়েছে।
রেসিং ফর্মের উপর থেকে চোখ না তুলেই শান্তভাবে বলল কার্লো, খিদে পায়নি এখনও।
আবার কেমন যেন খটকা লাগল কনির। কার্লোর আজ হয়েছে কি? চোখ রাঙাচ্ছে না, মারধোর করছে না, অথচ এমন ব্যবহার করছে, এমনিতেই রাগ হয়ে যাচ্ছে কনির। আবার তার জেদ চেপে গেল। এবার ঝাঝের সাথে বলল, আমার কথা কানে যাচ্ছে না? টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে।
কার্লো যেন স্ত্রীকে আরও ক্ষেপিয়ে তোলার জন্যেই বলল, জাহান্নামে যাও তুমি! আর খাবারগুলো নর্দমায় ফেলে দাও। গ্লাসটা তুলে নিয়ে এক ঢেকে সবটুকু হুইস্কি গিলে নিল সে, তারপর বোতলটা তুলে নিয়ে আবার ভরে নিল গ্লাসটা। কনির দিকে একবার ফিরেও তাকাল না।
ঝড় তুলে কিচেনে ফিরে এল কনি। খাবার ভর্তি প্লেটগুলো এক এক করে টেবিল থেকে তুলে নিয়ে বাসন-পেয়ালা মোয়ার বেসিনের উপর আছড়ে ভাঙতে শুরু করে দিল সে। কাঁচ আর চীনামাটি ভাঙার ঝন ঝন শব্দ শুনে বেডরুম থেকে বেরিয়ে কিচেনে চলে এল কার্লো 1 কিচেনের দেয়ালে তেলতেলে মাংস আর মরিচ সেটে আছে দেখে রাগে মাথায় রক্ত চড়ে গেল তার। লোকটা আবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ভালবাসে। রূঢ় গলায় স্ত্রীকে বলল সে, আনাদ পেয়ে মাথায় চড়েছিস, না? অ্যাই মাগী, এক্ষুণি সব পরিষ্কার কর! একটু যদি দেরি করেছিল, পিটিয়ে পেটের ছেলে বের করব তোর আজ।
যা যা, কুত্তার বাচ্চা! দাঁত মুখ খিঁচিয়ে ভেঙচে দিল স্বামীকে কনি। দুহাতের দশটা আঙুল মাথার দুপাশে তুলে হিংস্র জানোয়ারের মত কার্লোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে দেবার জন্যে তৈরি হয়ে গেছে সে। তুই আমার সাথে যা খুশি তাই ব্যবহার করবি, আর আমি তোকে ছেড়ে দেব ভেবেছিস? তোর মত পূরুষকে আমি থোড়াই কেয়ার করি। তুই বড়জোর একটা বেশ্যার ভেড়া হতে পারিস, আমার স্বামী হবার যোগ্যতা তোর নেই।
একটা কথাও বলল না কার্লো। নিঃশব্দে কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে শোবার ঘরে ঢুকল সে। তারপর নিজের বেল্টটাকে ডবল করে মুড়ে নিয়ে তখুনি আবার ফিরে এল কিচেনে। কনির দিকে তাকিয়ে দাতে দাঁত চাপল সে। বলল, সাফ কর! এই শেষবার বলছি–জলদি!
কার্লো কি সাঙ্ঘাতিক রেগে গেছে, বুঝতে পারছে কনি। গলার সুরে শাসানিটা অনুভব করে গায়ের নোম খাড়া হয়ে উঠছে তার। কিন্তু তবু একচুল নড়ল না সে। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরের মত।
কনির প্রকাণ্ড, মাংসল নিতম্বে সপাং করে এসে লাগল বেল্টের বাড়ি। ব্যথায় আগুন ধরে গেল যেন জায়গাটায়। এক ছুটে আলমারির সামনে চলে এল কনি। ছো মেরে খোলা দেরাজ থেকে তুলে নিল রুটি কাটার লম্বা ছুরিটা। সেটা বাগিয়ে ধরে ঘুরে দাঁড়াল সে।
হাসতে চেষ্টা করে বলল কার্লো, আই বাপ। কি সব্বোনাশ! কর্লিয়নিদের মেয়েরাও দেখছি কম খুনী নয়! টেবিলের উপর বেল্টটা রেখে দিল সে। স্ত্রীর দিকে এগিয়ে আসছে খালি হাতে।
ছুরি দিয়ে আচমকা স্বামীকে একটা খোঁচা মারার চেষ্টা করল কনি। কিন্তু পেটে বাচ্চা, শরীরটা এমনিতেও ভারি, যথেষ্ট দ্রুততার সাথে নড়তে পারল না সে। আজ যা হবার হবে, এই ধরনের একটা দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে কার্লোর কুঁচকি লক্ষ করে ছুরিটা চালাল বটে, কিন্তু অনায়াসে আঘাতটা এড়িয়ে যেতে পারল কার্লো। ছেলেমানুষের হাত থেকে সহজেই খেলনা কেড়ে নেবার ভঙ্গিতে ছুরিটা কনির হাত থেকে ছিনিয়ে নিল সে। তারপর স্ত্রীর মুখে চড় মারল একটা খুব বেশি জোরে মারল না। চামড়ায় দাগ বা ক্ষত দেখা গেলে তো চলবে না।
ওই একটা চড় মেরে ক্ষান্ত হলো না কার্লো। তার অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। তাই একটার পর একটা চড় মেরেই চলল সে।
খুব জোরে মারা না হলেও, প্রতিটি চড় খেয়ে মাথাটা ঝন ঝন করছে কনির, অসহ্য ব্যথায় ছটফট করছে। শেষ পর্যন্ত কার্লোর হাত থেকে ছাড়া পাবার জন্যে কিচেনের চারদিকে ছুটোছুটি শুরু করে দিল সে কিন্তু কার্লো তার পথ আগলে মেরেই চলেছে। একটা সুযোগ পেয়েই কিচেন থেকে বেরিয়ে ছুট দিল.কনি। শোবার ঘরে চলে এল সে, পিছু ধাওয়া করে কার্লোও ঢুকল সেখানে! ঘুরে দাঁড়িয়ে। কার্লোর বাড়ানো হাতটা খপ করে ধরে নিজের মুখের দিকে টেনে এনে কামড় দিতে চেষ্টা করছে কনি। তার চুলের গোছা মুঠো করে ধরেছে কার্লো। এখন আর থামছে না সে।
ব্যথায়, অপমানে এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল কনি। একটু বাঁকা হেসে স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের উপর ছুঁড়ে ফেলে দিল কার্লো। খাটের পাশেই রয়েছে একটা টেবিল, টেবিলটা থেকে হুইস্কির বোতল তুলে নিয়ে আবার গলায় মদ ঢালতে শুরু করুল সে। চেহারা দেখে কনির মনে হচ্ছে মদ খেয়ে বন্ধ মাতাল হয়ে গেছে কার্লো, উজ্জল নীল চোখ দুটো কিসের এক নেশায় চকচক করছে, যেন রক্তপান করতে চাইছে কার্লো। এবার সত্যি ভয়ে, আতঙ্কে শিউরে উঠল কনি।
পা দুটো ফাঁক করে অদ্ভুত এক বেপরোয়া ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে কার্লো। সরাসরি বোতল থেকে হুইস্কি ঢালছে গলায়। হঠাৎ ঝুঁকে পড়ল খাটের দিকে সে, কনির মোটাসোটা উরুর খানিকটা মাংস খামচে ধরে প্রচণ্ড জোরে চিমটি দিল। তীব্র ব্যথায় চিৎকার করছে কনি। বাবা গো! মা গো…আর করব না…
