ঘোড়দৌড়ের মাঠে গেছে কার্লো, অনেক রাত করে ফিরল সে। রেস খেলায় প্রচুর হেরে গেছে, মেজাজ তার আজ এমনিতেই সপ্তমে চড়ে আছে। মদের বোতল। সারাক্ষণ সাথে রাখে সে, সেটা প্রায় শেষ করে আধা মাতাল অবস্থা তার দরজার চৌকাঠ টপকে ঘরে সবে পা দিচ্ছে, অমনি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করল স্বামীকে কনি।
কিন্তু স্ত্রীর গালমন গায়ে মাখছে না কার্লো। গুনেও না শোনার ভান করে বাথরুমে ঢুকল সে শাওয়ার সারার জন্যে। গোসল শেষ করে বাথরুম থেকে খালি। গায়ে বেরিয়ে এল সে। কনি দাঁড়িয়ে আছে সামনে, তুফান ছুটছে তার মুখে, কিন্তু সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে সাজগোজ করছে কার্লো-আবার বাইরে বেরুতে হবে তাকে।
দুকোমরে হাত রেখে রুখে উঠল কনি। রাগে চুঁচাল, ফাঁকাসে দেখাচ্ছে তার চেহারা। চিৎকার করে বলছে, আমাকে তুমি চেনোনি, আজ যদি আবার বাইরে বেরোও, খুন করে ফেলব তোমাকে আমি একটা বেশ্যামাগী ফোন করেছিল তোমাকে, সে আজ বাড়ি থাকবে না বলেছে। তার নাকি বিছানার বন্ধু তুমি রাগে অন্ধ হয়ে মুখে যা আসছে তাই বলছে কনি, কুকুরের বাচ্চা, বাস্টার্ড! এত বড় স্পর্ধা, একটা খানকি মাগীকে আমার টেলিফোন নম্বর দিতে বাধে না পোর। শূয়োর, আজ আমি তোকে মেরেই ফেলব… হিংস্র বাঘিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ল কনি স্বামীর উপর। এলোপাতাড়ি হাত পা চালাচ্ছে। খামচাচ্ছে।
পেশীবহুল একটা হাত দিয়ে স্ত্রীকে ঠেকিয়ে রেখেছে কার্লো, নিস্তেজ গলায় বলল, আরে, তুমি কি পাগল হলে?।
কিন্তু কার্লোর ভাবভঙ্গি দেখে পরিষ্কার টের পেয়ে গেল কনি, স্বামী দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। তার এ দুশ্চিন্তার একমাত্র কারণ হতে পারে, কার্লো যে অধিপাগলা মেয়েটার সাথে যৌন খেলায় মেতে উঠেছে তার পক্ষে এ-ধরনের একটা ফাজলামি করে টেলিফোন করা মোটেও বিচিত্র কিছু নয়। কার্লোর ভাবনাটা সঠিক ধরতে পেরেছে মনে করে আরও ক্ষেপে গেল কনি।
দূর পাগলী! বলল কার্লো, ইয়ার্কি মারছিল, তাও বুঝছ না? মাথা খারাপ নাকি! ব্যাপারটাকে গুরুত্ব না দেখার ভান করছে কার্লো।
স্বামীর মোটা হাতের তলা দিয়ে গলে তার মুখে খাচি মারার চেষ্টা করছে কনি। কিন্তু সেই সাথে এও লক্ষ করছে, স্বামী আজ অপ্রত্যাশিত ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। কেমন যেন খটকা লাগছে কনির। কি যেন একটা রহস্য আছে এর মধ্যে, কিন্তু নিজের বুদ্ধিতে সে রহস্যের কিনারা পাওয়া কনির পক্ষে সম্ভব নয়। হাজার হোক, মেয়েমানুষ তো!
একটুও রাগছে না কার্লো। বারবার ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছে স্ত্রীকে জানে, এতে আরও বেশি বাড়াবাড়ি করার সাহস পাবে স্ত্রী।
হঠাৎ রহস্যের একটা সমাধান পেয়ে গেল কনি। ওর মনে হলো পেটে বাচ্চা রয়েছে বলে কার্লো সাবধান হয়ে আছে, পাল্টা মারধোর করা থেকে বিরত রেখেছে নিজেকে। কথাটা মনে পড়ামাত্র, আরও রাগ দেখাবার সাহস পেয়ে গেল সে।
কনির আজকের এই অপ্রত্যাশিত আচরণের জন্যে শুধু সেই মেয়েটার ফোনই দায়ী নয়। আজই কনি যৌন উত্তেজনায় বেশ খানিকটা অশান্ত হয়ে পড়েছে মনে মনে চাইছে, কার্লো আজ ঠেসে ধরুক ওকে। আর তা মোটে কটা দিন বাকি আছে, তারপর আর ওসব চলবে না। ডাক্তারের নিষেধ। বাচ্চা প্রসব করার দুমাস বাকি থাকতে সব বন্ধ রাখতে হবে যাই হোক, সেই দুমাস শুরু হতে খুব বেশি দেরি নেই আর, তাই বাকি কটা দিন কামনা চরিতার্থ করার ইচ্ছা জেগেছে কনির। অথচ, এমন নিষ্ঠুর কার্লো, নিজের বিছানার ধারেকাছে ঘেষতে পর্যন্ত দেয় না তাকে তবে, কার্লোকে শারীরিকভাবে আহত করার অদম্য একটা প্রবৃত্তিও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আজ কনির মধ্যে।
পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে কনি, খানিকটা ঘাবড়ে গেছে কার্লো তার এই ঘাবড়ানো ভাবটা আসলে যে মেকী, তা বোঝার ক্ষমতা কনির নেই। ব্যাপারটা লক্ষ করে স্বামীর প্রতি ঘৃণা আরও বেড়ে গেল তার, সেই সাথে অদ্ভুত একটা আনন্দও অনুভব করছে নিজের মধ্যে। হাঁপাচ্ছে সে, দাতে দাঁত চেপে বলল, কার বাচ্চা, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন! দেখি, আমি বেঁচে থাকতে আজ তুই কিভাবে বাড়ি থেকে বের হোস।
অসীম ধৈর্যের সাথে কার্লো বলল, আচ্ছা, তাই। তোমার কথা না হয় থাকল খুশি? সিজ-ফায়ার, ঠিক আছে? এখনও কাপড়চোপড় পরা শেষ হয়নি তার, পরনে শুধু শটস রয়েছে ধু এটা পরেই বাড়ির ভিতর ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে ও। ইংরেজি ভি অক্ষরটির মত সরু কোমর, বিশাল কাব–এসব নিয়ে গর্ব কত তার। কার্লো সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করায় দৈহিক ক্ষুধা যেন চেগিয়ে উঠল কনির। গরম হয়ে উঠছে শরীরটা। ক্ষুধার্ত,পশুর মত স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে। সে। হাসি পাচ্ছে না, তবু হাসতে চেষ্টা করে বলল কার্লো, আরে বাবা, খিদেতে চো চো করছে পেট–কিছু খেতে অন্তত দেবে তো!
অন্তত একটা কর্তব্যের কথা স্বামী ওকে মনে করিয়ে দেয়াতে রাগ পানি হয়ে গেল কনির। মায়ের কাছে খুব ভাল রান্না করতে শিখেছে সে স্বামী কিছু খেতে চাইলে সত্যি সে খুশি হয়। ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার সময় দুপদাপ পায়ের শব্দ করে বেরিয়ে গেল বটে, কিন্তু তখুনি কিচেনে গিয়ে মাংস আর মিষ্টি লঙ্কা ভাজতে বসে পড়ল।
চুলোয় রান্না চড়িয়ে দিয়ে নানারকম তরি-তরকারি সহযোগে অতি যত্নের সাথে একটা সালাদ তৈরি করছে কনি। ওদিকে খাটের উপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে কার্লো, আগামীকালের রেস-এর ফর্মটার উপর চোখ বুলাচ্ছে। পাশেই রেখেছে। গ্লাস ভর্তি হুইস্কি, মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছে তাতে।
