কর্লিয়নি পরিবারের কনসিলিয়রি হিসেবে সনির এই উন্মত্ত কীর্তিকলাপ অনুমোদন করে না টম হেগেন। কিন্তু তবু সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ-বিষয়ে ডুনের কাছে। অভিযোগ করবে না সে। তার কারণ, পদ্ধতিটার খারাপ দিকগুলো যতই থাকুক, এতে কিছু কিছু কাজও হচ্ছে বৈকি। দেখেশুনে তারও মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে পাঁচ পরিবার, এ-ধরনের ধ্বংসাত্মক লড়াই আরও কিছু দিন চললে ওদের পাল্টা আঘাতগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে, তারপর হয়তো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।
শত্রুপক্ষের শান্ত হাবভাব এবং মার খেয়ে মার হজম করার প্রবণতা প্রথম দিকে সন্দেহের চোখেই দেখছিল হেগেন। কিন্তু, সনি প্রথম থেকেই খুব আশাবাদী। রাতিমত উল্লাস লক্ষ করা যায় তার মধ্যে। হেগেনকে বলে, থামছি না আমি। চালিয়ে যাচ্ছি, যাবও তাই। বেজন্মারা তাহলে আপোস করার জন্যে কেঁদে পড়বে পায়ে।
শুধু যুদ্ধ নয়, সাংসারিক বিয়েও অশান্তিতে ভুগছে সনি। ওর স্ত্রী সান্ড্রা বিগড়ে গেছে। কারণ এরই মধ্যে কারও জানতে বাকি নেই যে লুলি ম্যানচিনি প্রচণ্ড একটা নেশার মত হয়ে উঠেছে সনির কাছে। সবাই বলাবলি করে মেয়েটা নাকি যাদু করেছে সনিকে। সনির পুরুষাঙ্গ আর মিলনের ভঙ্গি ইত্যাদি নিয়ে প্রকাশ্যে ঠাট্টা মস্কারা করলেও সাড্রা আসলে বিছানায় স্বামার সান্নিধ্য প্রচণ্ডভাবে কামনা করে কিন্তু দিনের পর দিন, হপ্তার পর হপ্তা সাড্রার সাথে এক বিছানায় ঘুমাচ্ছে না সনি। অবহেলা, অপমান আর যৌন তাড়নায় অস্থির সানড্রা খিটখিটে মেজাজের হয়ে উঠেছে, অতিষ্ঠ করে তুলেছে সনির জীবন।
এসব ছাড়াও, সনি জানে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যভেদে অব্যর্থ হাজার হাজার খুনী এক সেকেণ্ডের একটা সুযোগের অপেক্ষায় আছে শুধু, সেই সুযোগটা পাওয়ামাত্র তাকে ওরা খুন করে ফেলবে। যে লোক এ-ধরনের এই সংখ্যক ঘাতকদের লক্ষ তার একটা মানসিক ক্লেশ থাকতেই হবে। প্রতিটি কাজে, প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হয় ওকে। লুসি ম্যানচিনির কাছে ওর যাওয়া-আসা শত্রুদের কাছে এখন আর গোপন কোন বিষয় নয়, এও জানে সনি। তবে এক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে সে। জানে, মানুষের ইতিহাস-খ্যাত দুর্বলতাটা ওখানেই, মেয়েমানুষ নিয়ে বেশি মাতামাতি ধ্বংস ডেকে আনে। সেজন্যেই এমন ব্যবস্থা করেছে যে এদিক থেকে বিপদ ঘটার প্রায় কোন ভাবনা নেই বললেই চলে। ঘুণাক্ষরেও জানে না লুসি যে সান্তিনোর বিশ্বাসী লোকেরা রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা নজর রেখেছে। তার উপর। তারপর, লুসির পাশের ফ্ল্যাটটা খালি হয়ে যেতেই কর্লিয়নিদের সবচেয়ে বিশ্বাসী লোকদের একজন সাথে সাথে সেটা ভাড়া নিয়ে নিল।
ধীরে ধীরে হলেও সেরে উঠছেন ডন কর্লিয়নি পরিবারের নেতৃত্ব কাঁধে নিতে খুব বেশি দেরি করবেন না তিনি। সবাই জানে, ডন চাঙা হয়ে উঠে হাল ধরলেই যুদ্ধের মোড় ঘুরে পরিস্থিতি কর্লিয়নিদের অনুকূলে চলে আসতে বাধ্য। এ ব্যাপারে সনির মনেও কোন সন্দেহ নেই। তাই মনে মনে স্থির করেছে যতদিন না সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে পারছেন বাবা, ততদিন নিজের পদ্ধতিতেই সে তাদের পারিবারিক সামাজ্য রক্ষা করে যাবে, অর্জন করবে বাপের প্রশংসা-এবং, ডন-এর সর্বোচ্চ পদটা যেহেতু বংশপরম্পরায় নিশ্চিতভাবে পাবার মত নয়, তাই কর্লিয়নি সামাজ্যের ওয়ারিশ হবার দাবিটা পাকা করে রাখতে চাইছে সনি।
ওদিকে ওদের শত্রু পাঁচ পরিবারও চুপ করে বসে নেই, তারাও মতলব ভজছে। সমস্ত পরিস্থিতিটা বিবেচনা বিশ্লেষণ করে তারা একটামাত্র সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে: সমূহ পরাজয় এড়িয়ে যাবার একমাত্র উপায় সনি কর্লিয়নিকে সরিয়ে দেয়া। সনির পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড দেখে এতদিনে চোখ খুলেছে ওদের, এখন ওরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ডন কর্লিয়নির সাথে বোঝাপড়া বা কারবার করা তবু সম্ভব হতে পারে, কারণ সবাই জানে তিনি যুক্তি বোঝেন, মেনেও চলেন। কিন্তু সনির কাছে যুক্তি চলে না। রক্তপাত ঘটানোতেই যত আনন্দ তার। তার ধারণা সীমাহীন খুন-খারাবি করতে পারলেই সামাজ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, শত্রুরা নতি স্বীকার করবে। শুধু এই একটা কারণেই পাঁচ পরিবারের চোখের বিষ হয়ে উঠেছে সনি। সনি বোঝে না, সে যা করছে তাতে ব্যবসা-বুদ্ধির এতটুকু পরিচয় নেই। একবারও। ভেবে দেখেনি সে যে আগেকার সেই দিন আর আজকের দিনের মধ্যে অনেক পার্থক্য। হত্যাযজ্ঞে কেউ মেতে উঠতে চায় না আজ, তাতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসার ক্ষতি কিছুতেই সহ্য করতে পারে না মাফিয়া পরিবারগুলো।
একদিন সন্ধ্যাবেলার ঘটনা।
কার্লোর বাড়িতে একটা ফোন এল। এই সময় কার্লোর বাড়িতে থাকার কথা নয়, কখনও থাকে না, আজও নেই। ফোনটা করেছে একটা মেয়ে। কিন্তু নিজের নাম বলছে না। তবু আরেকবার জিজ্ঞেস করল কনি,তুমি কে কথা বলছ?
অপরপ্রান্তে খিক খিক করে অশ্লীল ভঙ্গিতে হাসছে মেয়েটা। কনির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল, কার্লোকে দরকার আমার।
সে বাড়ি নেই।
আবার সেই অশ্লীল হাসি। তারপর বলল, কার্লো আমার বিছানার বন্ধু। আজ রাতে ওর সাথে আমার দেখা হবে না, শুধু এই কথাটা ওকে জানাবার জন্যে ফোন করেছি। শহরের বাইরে যাব কিনা।
বেশ্যামাগী! খানকি মাগী– রাগে অন্ধ কনি কর্লিয়নি চেঁচাতে শুরু করল। সাথে সাথে কট করে কেটে গেল কানেকশন।
