কঠিন সুরে বলল সনি, অসম্ভব! ড্রাগ নিয়ে ব্যবসা হতে পারে না। বাবা না বলেছেন, সুতরাং তার মতের পরিবর্তন না হলে জবাবটা নাই থাকল।
দ্রুত বলল হেগেন, একটা বাস্তব অসুবিধেও দেখতে পাচ্ছি আমি। বুকমেকিং অথবা পলিসি ব্যবসাতে খোলাখুলি খাটছে আমাদের টাকা। ওখানে আমাদের ক্ষতি করা মোটেও কঠিন নয়। কিন্তু টাটাগ্লিয়াদের এমন কোন ব্যবসা নেই যেখানে ওরা আমাদের মত খোনাখুলি টাকা খাটাচ্ছে। ডক ইউনিয়নগুলোর কাছ থেকে পয়সা খায় ওরা, পয়সা খায় বেশ্যা পাড়াগুলো থেকে। ওদের এইসব রোজগারের ওপর কিভাবে মার দেয়া যায়? আর সব পরিবার কিছু কিছু জুয়া ব্যবসা চালায় বটে, তবে বাড়ি তৈরির ব্যবসাতে টাকা খাটানো, শ্রমিকদের সংঘ পরিচালনা করা, সরকারী কন্ট্রাক্ট যোগাড় করা–বেশিরভাগ এই সমস্ত ব্যাপারেই জড়িত ওরা। নিরীহ, সৎ লোকদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালিয়েও বেশ কিছু রোজগার হয় ওদের। তার মানে, আমি বলতে চাইছি, ওদের টাকা রাস্তাঘাটে ছড়ানো থাকে না, কিন্তু আমাদের থাকে। হ্যাঁ, একটা নাইট ক্লাব আছে বটে টাটাগ্লিয়াদের, কিন্তু এত বেশি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে সেটা যে ওটাকে ছুঁতে গেলে নিজেদের বোকামিই প্রমাণ করব আমরা, আমাদের দুর্নামে ছেয়ে যাবে দেশটা। মনে রাখতে হবে, ডন যতদিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে মাঠে নামতে না পারছেন ততদিন আমাদের রাজনৈতিক। প্রতিপত্তি ওদের চেয়ে বেশি নয়। তাই বলছি, এখানে একটা বড় সমস্যা রয়েছে। আমাদের।
সমস্যাটা আমার, টম, বলল সনি। এর সমাধানও আমি খুঁজে বের করব। ওদের সাথে কথাবার্তা যেমন হচ্ছে হোক, সেই সাথে কাজের কাজগুলোও শুরু করে দাও। ব্যবসা আবার আমাদেরকে শুরু করতেই হবে, করবও তাই, তারপর দেখা যাবে কি হয় না হয়। আগে অবস্থাটা তো বুঝি। অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে। ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওর দলে সৈনিক তো আর কম নেই। তাছাড়া, ওই পাঁচ পরিবারের হাতে মোট যত অস্ত্র আর গোলাবারুদ আছে, তার চেয়ে বেশি আছে আমাদের হাতে। সত্যি যদি বাড়াবাড়ি করেই, আমরাও না হয় তোশক নেব।
স্বাধীনভাবে চলাফেরায় অভ্যস্ত হারলেমের নিগ্রো ব্যাংকারদের হটিয়ে দিতে কোন সমস্যাই পোহাতে হলো না। কর্লিয়নিরা কাউকে পাঠাল না পর্যন্ত, শুধু একটা খবর পৌঁছে দিল পুলিশকে। পুলিশই হানা দিল আস্তানায় প্রচণ্ড আঘাতে সব তছনছ করে দিল রাতারাতি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্যে কোন পুলিশ কর্তাকে বা কোন রাজনৈতিক নেতাকে ঘুষ দেয়া এখনও যুক্তরাষ্ট্রে একজন নিগ্রো। পক্ষে অসম্ভব কল্পনা। কারণ, নিগ্রোদের উপর গোটা জাতির বিদ্বেষ আর অনাস্থা রয়েছে, ওদেরকে কেউ সহ্যই করতে পারে না। তবে, কর্লিয়নিরা সব সময়ই ছোট্ট একটা সমস্যা বলে মনে করে এসেছে হারলেমকে সমাধানটা যে সহজেই হয়ে যাবে সে-ব্যাপারে কারও মনে কোন সন্দেহ ছিল না।
কিন্তু পাঁচ পরিবার আঘাত করল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত আরেক দিক থেকে। রেডিমেড পোশাক কারখানার দুই প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা খুন হয়ে গেল। এরা কর্লিয়নি পরিবারের লোক ছিল। কর্লিয়নিদের মহাজনরা জাহাজ ঘাটে যাবার পথে বাধা পাচ্ছে, একই সমস্যায় পড়ছে ওদের বুক মেকাররা জাহাজ ঘাটের ডক শ্রমিকদের সংঘগুলো পরিচালনা করে কর্লিয়নিরা, তারা রাতারাতি দল শ্রাগ করে যোগ দিল পাঁচ পরিবারের সাথে। শহরের সব জায়গা থেকে প্রতি মুহূর্তে খবর এসে পৌচাচ্ছে নিজেদের দলে যোগ দিতে রাজী করাবার জন্যে পাঁচ পরিবারের গুণ্ডাপাণ্ডারা নানা ভাবে ভয় দেখাচ্ছে কর্লিয়নি বুকমেকারদের। কর্লিয়নিদের একজন পুরানো বন্ধু এবং সমর্থক আছে হারলেমে। বিখ্যাত নাম্বার্স ব্যাংকার সে। নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হলো তাকে। তার মানে, সত্যি বাড়াবাড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঁচ পরিবার আর কোন উপায় নেই! ক্যাপোরেজিমিদের তোশক নিতে বলল সনি।
দুটো ফ্ল্যাটের দখল নেয়া হলো শহরে তোশক পেতে দেয়া হল সশস্ত্র সৈনিকদের শোবার জন্যে খাবারদাবার রাখার জন্যে একটা করে রেফ্রিজারেটর নিয়ে আসা হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে বুলেট, বিস্ফোরক আর আগ্নেয়াস্ত্র তো আছেই। ফ্ল্যাট দুটোয় ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওর সৈনিকরা আলাদা আলাদা ভাবে রয়েছে ওদিকে শহরের প্রত্যেক বুক-মেকারকে একজন করে বডিগার্ড দেয়া হয়েছে। কিন্তু হারলেমের পলিসি ব্যাংকাররা বিরোধী দলে যোগ দেয়ায় তাদের জন্যে কিছু করার দরকার পড়ছে না এখনই। এসব দিক সামাল দিতে গিয়ে খরস্রোতা নদীর সোতের মত বেরিয়ে যাচ্ছে কর্লিয়নিদের টাকা, অথচ ঘরে একটা পয়সাও আসছে না।
আরও কয়েক মাস কেটে গেছে, এখন আরও কয়েকটা ব্যাপার পরিষ্কার ধরা পড়ছে চোখে! তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আশঙ্কাজনক ব্যাপার…পাঁচ পরিবার কর্নিয়নিদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এর পিছনে কারণও রয়েছে অনেক। ব্যবসা সংক্রান্ত কোন বিষয়ে অংশগ্রহণ করার মত শারীরিক সুস্থতা এখনও ফিরে পাননি ডন কর্লিয়নি। ফলে কর্লিয়নি পরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না, বেশিরভাগই অকর্মণ্য হয়ে আছে। আরেকটা.কারণ, গত এক যুগ শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় দুই ক্যাপোরেজিমির আগের সেই যুদ্ধ করার শক্তিতে ঘুণ আর ক্ষয় ধরেছে। ঘাতক আর ব্যবস্থাপক হিসেবে এখনও সক্রিয় রয়েছে বটে ক্লেমেঞ্জা, কিন্তু সশস্ত্র সৈনিকদের নেতা হবার সেই প্রচণ্ড উৎসাহ বা অদম্য প্রাণশক্তি এখন আর নেই তার মধ্যে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেক নরম হয়ে গেছে টেসিও-ও, যথেষ্ট নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়া তার পক্ষেও এখন সম্ভব নয়। নানা তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষমতা হাতে থাকা সওে যুদ্ধকালীন উপদেষ্টা হবার যোগ্যতা টম হেগেনেরও নেই। একজন সিসিলীয় নয়, এটাই ওর প্রধান দোষ।
