একটু দ্বিধা করে বলল ক্লেমেঞ্জা, আমার লোকেরা রাস্তায় গিয়ে পৌঁছবার আগেই সুনি বাড়ি ফিরে যাবে। টাটাগ্লিয়ারাও তা জানে।
ধৈর্য হারাল না হেগেন, বুঝিয়ে দেবার সুরে বলল, হ্যাঁ, তোমার কথাই হয়তো ঠিক। কিন্তু দুর্ঘটনার কথা তো কিছুই বলা যায় না, ঠিক কিনা? সনি আটকা পড়ে যেতে পারে। যতটা পারো করো, পীট।
বিরক্তির সাথে রকো ল্যাম্পনিকে ফোন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিল ক্লেমেঞ্জা। তখুনি কয়েকজন লোক যোগাড় করে লং বীচের রাস্তার উপর নজর রাখার জন্যে বেরিয়ে পড়ল রকো ল্যাম্পনি।
ক্লেমেঞ্জাও তার প্রিয় ক্যাডিলাক গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। ওর বাড়িতে সশস্ত্র একদল গার্ড আশ্রয় নিয়েছে, তাদের মধ্যে থেকে তিনজনকে বেছে সাথে নিল সে। আটলান্টিক রিজ পেরিয়ে এল ওরা, নিউ ইয়র্ক শহরের দিকে যাচ্ছে।
.
মিষ্টির দোকানের কাছেপিঠে ঘুর ঘুর করছে যারা তাদের মধ্যে খুদে একজন জুয়াড়ীও রয়েছে, তার কাজ টাকা খেয়ে টাটাগ্লিয়াদেরকে খবর যোগান দেয়া। কার্লো যখন মার খাচ্ছে, তাড়াতাড়ি ফোন করে টাটাগ্লিয়াদের সাথে যোগাযোগ করল সে। কিন্তু টাটাগ্লিয়ারা আনুষঙ্গিক হাজারটা ঝামেলা কাটিয়ে উঠে এখনও তৈরি হয়নি যুদ্ধ করার জন্যে। জুয়াড়ী লোকটাও নাছোড়বান্দা, কর্তা ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে চায় সে, মানে তাদের কানে এই সুবর্ণ সুযোগটার কথা তুলতে চায়। অনেকগুলো মাধ্যম আর নিরাপত্তা পর্যায় টপকে তবে একজন ক্যাপোরেজিমির সাথে যোগাযোগ করা যায়। ক্যাপোরেজিমির কানে কথাটা পৌঁছুল বটে, সে পরিবারের কর্তার সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনাও করল, কিন্তু ততক্ষণে নিজেদের উঠানের নিরাপদ আশ্রয়ে, বাড়িতে পৌঁছে গেছে সনি কর্লিয়নি।
এবার তাকে বাবার প্রচণ্ড রাগের মুখোমুখি হতে হবে।
৩.০৩ পাঁচ পরিবার একজোট
০৩.
পাঁচ পরিবার একজোট হয়ে যুদ্ধ করছে কর্লিয়নি পরিবারের বিরুদ্ধে। যুদ্ধের খেসারত কোন পক্ষকেই কম দিতে হচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে পুলিশ বিভাগ। ক্যাপটেন ম্যাকক্লাস্কি খুন হওয়ায় ক্ষেপে গেছে তারা, লাগাম টেনে ধরেও সামলানো যাচ্ছে না তাদেরকে। প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে তারা, এই হত্যাকাণ্ডের একটা সুরাহা করে দিতে হবে। যা খুশি তাই বোঝালে চলবে না, সমাধানটা গোটা পুলিশ বিভাগের মনঃপূত, পছন্দসই হতে হবে। এ-কথার একটাই মানে, ওদের হাতে তুলে দিতে হবে খুনীকে। এ-প্রসঙ্গে অবধারিত ভাবে এসে পড়ে দুর্নীতিপরায়ণ রাজনৈতিক নেতাদের কথা। এইসব নেতা সব ধরনের জুয়া-জোচ্চুরী আর বেআইনী ব্যবসাকে প্রশ্রয় দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা করে। এদের রাজনৈতিক ক্ষমতা খুব বেশি। যদি চয়, পুলিশ বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের চাকুরিও খেয়ে দিতে পারে। এরা যে-সব জুয়ার আড্ডা আর বেআইনী ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা করে সেসব জায়গায় হানা দেবার সাহস প্রথম সারির পুলিশ অফিসারদেরও নেই। কিন্তু খেপে ওঠা সিপাইদের মধ্যে লুটপাট, হত্যা আর ধর্ষণ প্রবণতা মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়লে তাদের বিভাগীয় কমাণ্ডিং অফিসাররা নিরুপায় হয়েই উপরওয়ালাদের হুকুম অমান্য করতে বাধ্য হয়, এবং সেক্ষেত্রে উপরওয়ালাদের অসহায় বোধ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না–এক্ষেত্রে, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদেরও সেই রকম অবস্থা হয়েছে, অসহায় বোধ করা ছাড়া করার। কিছু খুঁজে পাচ্ছে না তারা।
নেতাদের প্রশ্রয় আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কর্লিয়নি পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে বিস্তর, কিন্তু ওদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি স্বীকার করতে হচ্ছে প্রতিপক্ষদের। কর্লিয়নিদের সিংহভাগ আয়ের মূল উৎস জুয়া খেলা। খবরের কাগজে নানা ধরনের বিচিত্র বিজ্ঞাপন বের হয়, তাতে কি সব আবোলতাবোল সংখ্যা ছাপা থাকে, সেই সংখ্যার আসল রহস্য আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, জুয়াড়ীরা ঠিকই বোঝে। তারা সেই সংখ্যা ধরে লটারী খেলে! অত্যন্ত লাভজনক একটা জুয়া খেলা এটা। এই খেলার নাম নম্বর। পলিসি নামে আরেকটা খেলা আছে কর্লিয়নিদের। এই খেলা থেকেও বিস্তর টাকা রোজগার হয় তাদের। এটাও এক ধরনের লটারী খেলা, প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হয়। এই দুটো খেলাই প্রচণ্ড মার খাচ্ছে কর্লিয়নিদের। ওদের অসংখ্য কর্মী আর চর আছে, যারা এই খেলা দুটো পরিচালনা করে, তারা পুলিশের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাকে। হাজতে পাঠাবার আগে কষে মারধোরও করা হচ্ছে এদেরকে। পুলিশ এদের কাছ থেকে একটা কথাই জানতে চায়–ক্যাপটেন ম্যাকক্কাস্কিকে কে খুন করেছে? কিন্তু, শত মারধোর করেও কোন লাভ হচ্ছে না। কর্লিয়নি পরিবারের কমী আর চররা আর যাই করুক, পুলিশের কাছে কখনও মুখ খোলে না : লটারী পরিচালনার সাথে জড়িত ব্যাংক বা জুয়ার আচ্ছাগুলো খুঁজে বের করছে সাধারণ পুলিশ অফিসাররা, সে সব জায়গায় হানা। দিয়ে যাকে পাচ্ছে তারই কোমরে দড়ি বেধে তুলে নিচ্ছে গাড়িতে, সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে বস্তা ভর্তি টাকা। এক কথায়, চারদিক থেকে শুধু লোকসান আর হাঙ্গামার খবর এসে পৌঁছাচ্ছে কর্লিয়নি পরিবারের কানে।
অসংখ্য ব্যাংকারের কাছ থেকে নালিশ আসছে ক্যাপোরেজিমিদের কাছে, তারা আবার কর্লিয়নি পরিবারের আলোচনা বৈঠকে উত্থাপন করছে অভিযোগগুলো। কিন্তু করার আছেই বা কি? ব্যবসা বন্ধ করে দেবার পরামর্শ দেয়া। হচ্ছে ব্যাংকারদেরকে। সবচেয়ে বেশি টাকা আসে নিগ্রো পাড়া হার্লেম থেকে, আপাতত সেখানকার হাত-পা-ঝাড়া স্থানীয় লোকজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ব্যবসার সমস্ত দায়-দায়িত্ব। এই লোকগুলো যেখানে সেখানে ইচ্ছা বারবার জায়গা বদল করে কাজ করে, তাই মালামাল এবং প্রমাণসহ হাতেনাতে এদেরকে ধরা পুলিশের পক্ষে যথেষ্ট কঠিন কাজ।
