বলেছেন, হ্যাঁ, তুমি আমার মেয়ে, কিন্তু এখন তো স্বামীর হেফাজতে রয়েছ। তোমার ভালমন্দ সে বুঝবে। ইটালীর রাজার কথাই ধরো না, তিনি পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীর নিজেদের ব্যাপারে নাক গলাতে সাহস পাননি। বাড়িতে ফিরে যাও, মা, ভাল ব্যবহার করো স্বামীর সাথে। ভাল স্ত্রীর গায়ে কোন স্বামী হাত চোলে না, তুমি ভাল হয়ে চললে কার্লোও তোমার গায়ে হাত তুলবে না আর।
রেগে গেছে কনি, বাপকে বলেছে, তুমি কখনও মার গায়ে হাত তুলেছ? ছেলেমেয়েদের মধ্যে কনিকেই বেশি আদর করেন ডন, সেজন্যেই এতটা বেয়াদপি করার সাহস পেল সে।
উত্তরে তিনি বললেন, তোমার মা কখনও আমার কথার অবাধ্য হয়নি।
স্বামীর কথায় সায় দিয়ে, একটু গর্বিত ভঙ্গিতে মাকেও মাথা দুলিয়ে হাসতে দেখল কনি।
বিয়ের উপহার পাওয়া টাকাগুলো কেড়ে নেবার সময় কার্লো কি রকম মারধোর করেছে তারও বর্ণনা দিল কনি। বলল, টাকাগুলো নিয়ে কি করেছে না করেছে তা পর্যন্ত বলছে না কার্লো।
মৃদু কাঁধ ঝাঁকিয়ে ডন বললেন, তোমার মত বেয়াড়া স্ত্রী হলে সব স্বামী যা করে কার্লোও তাই করেছে। আমি হলেও তাই করতাম।
মা-বাবার হাবভাব দেখে বোকা মনে গেছে কনি, মনে বেশ একটু ভয় নিয়েই ফিরে এসেছে বাড়িতে। মা-বাবার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আদর পেয়ে মানুষ হয়েছে সে, বিয়ের পর পরই হঠাৎ তাদের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এর কোন কারণই খুঁজে পায়নি কনি।
ভাবভঙ্গিতে যতটা দেখিয়েছেন, ততটা সহানুভূতিহীন নন ডন কর্লিয়নি। কনির অভিযোগ শোনার পরই তিনি খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। বিয়ের উপহার পাওয়া কনির টাকাগুলো নিয়ে কি করেছে কার্লো সে খবর জানতে পেরেছেন তিনি। চিন্তা ভাবনা করে কিছু লোক নিযুক্ত করলেন, যারা কার্লোর বুক মেকারের ব্যবসার উপর নজর রাখবে। কার্লো কিভাবে চলাফেরা করছে, ব্যবসাটাকে কিভাবে চালাচ্ছে এইসব ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য তারা হেগেনকে জানিয়ে দেয়। গোটা ব্যাপারটা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন ডন! এসব ব্যাপারে তিনি কোন ভূমিকা নিতে পছন্দ করেন না। তার কথা হলো, জামাই যদি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ভয় করে, তাহলে স্বামীর কর্তব্য পালন করবে কিভাবে?
এরপর যখন কনির পেটে বাচ্চা এল, ডন ভাবলেন, ন্যায্য সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তিনি। ওদের ব্যাপারে নাক না গলানোটাই ঠিক কাজ হয়েছে। এর মাঝখানে অবশ্য আরও কয়েকবার স্বামীর নামে নালিশ করে গেছে কনি তার মায়ের কাছে, এবং মা অতিষ্ঠ হয়ে উঠে শেষ পর্যন্ত স্বামীর কানেও সে কথা তুলেছেন। মাকে আভাসে জানিয়ে দিয়েছিল কনি, স্বামীকে শ্রাগ করার কথা ভাবছে সে।
কথাটা কানে যেতে এই প্রথম মেয়ের উপর চটে গেলেন ডন। বললেন, তুমি কি ভুলে যাচ্ছ, কনি, সে তোমার সন্তানের জন্মদাতা? বাপ নেই এমন একটা শিওর জন্মে কি লাভ এ-দুনিয়ায়?
এসব কথা স্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছে কার্লো। শুরবাড়ির সম্পর্কে তার মনে যথেষ্ট ভয় ছিল, কিন্তু এখন ভয়-ডর থেকে মুক্ত সে। কনির সাথে ওদের আচরণের নমুনা শুনে সাহস আরও লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে তার। ব্যবসা কেন্দ্রে তার দুজন কর্মী আছে, স্যালি র্যাগস আর কোচ, এদেরকে সে গর্বের সাথে শোনায়, বউ তার সাথে বাড়াবাড়ি করতে চেষ্টা করলে অ্যায়সা উত্তম-মধ্যম দেয় যে বাপের নাম পর্যন্ত ভুলতে বসে। কর্মীরা অবাক বিস্ময়ে শোনে ওর কথা। ডন ভিটো কর্লিয়নির মেয়ের গায়ে হাত তোলে, ভাবতে গেলেও গায়ের নোম খাড়া হয়ে যায় তাদের। সেই সাথে কার্লোর উপর ভক্তি-শ্রদ্ধা বেড়ে যায়।
কিন্তু একটা তথ্য কনির কাছ থেকে পায়নি কার্লো পেলে নিজেকে আর এতটা নিরাপদ বলে মনে হত না কখনোই। সে যে কনিকে মারধোর করে, কথাটা সনির কানেও গেছে। শুনে তো মাথায় রক্ত চড়ে গিয়েছিল সনির, সেই মুহূর্তে ও যদি কার্লোকে হাতের কাছে পেত, কি হত বলা যায় না। বোধহয় শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হত না, লাথি মারতে মারতে লাশের হাড়গুলোর গা থেকে মাংসের শেষ কণাটাও খসিয়ে ফেলত। কিন্তু মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন ডন নিজে। তিনি তার বড় ছেলেকে এ-ব্যাপারে নাক না গলাবার জন্যে কঠোর নির্দেশ দিলেন। শুধু বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আছে বলে অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়েছিল সনি। ডনের হুমুক অমান্য করার সাহস এবং স্পর্ধা তারও নেই। সেই ঘটনার পর থেকে তাই কার্লোকে পারতপক্ষে এড়িয়ে চলে সনি। নিজেকেই বিশ্বাস নেই তার। কার্লোকে সামনে পেলে সে হয়তো রাগ সামলাতে পারবে না, হয়তো খুনই করে ফেলবে।
এসব কিছুই জানা নেই কার্লোর, তাই আজকের এই রোববারের সকালে স্ত্রীকে উত্তম-মধ্যম দিয়েও তার মনে আত্মবিশ্বাস আর নিরাপত্তাবোধের কোন অভাব নেই। গাড়ি নিয়ে নাইনটি-সিক্স স্ট্রীট ধরে শহরের উল্টো দিকে ইস্ট সাইডে যাচ্ছে। সে। আরেক দিক থেকে এসে ওদের বাড়ির সামনে থামল সনির গাড়িটা, কিন্তু তা চোখেই পড়ল না কার্লোর।
উঠানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে এসে গত রাতটা শহরে লুসি ম্যানচিনির সাথে কাটিয়েছে সনি। মেয়েটাকে ভাল লাগে ওর যৌন-কামনায় এমন অধীর হয়ে থাকতে আর কোন মেয়েকে দেখেনি সনি। অথচ মেয়েটার মধ্যে রাক্ষুসী ভাব বলতে কিছুই নেই। যাকে বলে পুরুষখেকো মেয়ে, লুসি মানচিনি মোটেও তা নয়। যৌনসঙ্গমের গোটা ব্যাপারটাকে আশ্চর্য একটা শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে লুসি। তার হৃদয়ের সমস্ত কোমল অনুভূতি সনিকে পাবার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকে। সনি যেন ওর পরম পুরুষ, ওকে যেন যাদু করেছে, নিজেকে তার কাছে উজাড় করে দেবার মধ্যেই যেন ওর জীবন আর যৌবনের সার্থকতা। সনিই ওকে কামুকী করে তোলে, আর কোন পুরুষের দিকে ফিরে তাকাতেও ইচ্ছা করে না তার।
