কোন চুলোয় যাওয়া হচ্ছে শুনি? বেসুরো গলায় জানতে চাইল সে।
লং বীচে, মন মুখে বলল কনি। বাবাকে দেখতে যাচ্ছি। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না এখনও, কেউ দেখতে গেলে খুশি হন!
হঠাৎ কৌতূহল বোধ করল কার্লো। অকৃত্রিম আগ্রহের সাথে জানতে চাইল এবার, খেল তাহলে সনিই চালিয়ে যাচ্ছে?
ভাবলেশহীন দেখাচ্ছে কনিকে। কিসের খেল?
হঠাৎ মাথায় রক্ত চড়ে গেল কার্লোর। অ্যাই, ছেনাল মাগী তোর বাপ-ভাই কি খেল চালায় জানিস না তুই? আমার সাথে ন্যাকামি করবি তো অ্যায়সা মার মারব, পেটের ছেলে বেরিয়ে আসবে তোর। স্বামীর অগ্নিমূর্তি দেখে ঘাবড়ে গেছে কনি। সেটা লক্ষ করে রাগ আরও বেড়ে গেল কার্লোর। লাফ দিয়ে চেয়ার ছাড়ল সে, চটাস করে চড় মারল কনির মুখে। নাকের পাশে পাঁচ আঙুলের দাগ ফুটে উঠল। গুণে গুণে আরও তিনটে চড় মারল কার্লো। কনির উপরের ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়াচ্ছে, বেঢপভাবে ফুলে উঠেছে নিচের ঠোঁট। দেখতে পেয়ে নিজেকে সামলে নিল কার্লো। একটু ভয় ভয় লাগছে। মুখে দাগ ফুটে উঠবে তা সে ভাবেনি, চড়গুলো জোরে মারা হয়ে গেছে।
স্বামী থামতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে ছুটতে শুরু করল কনি। শোবার ঘরে ঢুকে দড়াম করে বন্ধ করে দিল দরজাটা। তালায় চাবি ঘোরাচ্ছে সে, শব্দটা কানে এল কার্লোর। আপনমনে একটু হাসল সে। কনি মনে করেছে আরও মার খেতে হবে তাকে, কথাটা ভেবে নিজেকে খুব কঠোর আর জাদরেল মনে হচ্ছে কার্লোর। আরাম করে বসল চেয়ারে। কফির পেয়ালাটা তুলে নিয়ে আয়েশের সাথে চুমুক দিচ্ছে তাতে।
একটা সিগারেট শেষ করে উঠে দাঁড়াল কার্লো। বেরুবার সময় হয়েছে, কাপড় পরে তৈরি হতে হয় এবার। এগিয়ে গিয়ে দরজার গায়ে টোকা মারল। কিন্তু দরজা খুলছে না কনি, সাড়াও দিচ্ছে না।
অ্যাই মাগী, দরজা খুলবি তত খোল, তা না হলে লাথি মেরে ভাঙব।
সাড়া নেই কনির।
এই শেষবার বলছি। খোল। কাপড় বদলাতে হবে আমাকে। প্রচণ্ড রাগে চেঁচাচ্ছে কার্লো। কনির পায়ের শব্দ পাচ্ছে সে। তালায় চাবি ঘুরছে।
দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল কার্লো। কনি ওর দিকে পিছন ফিরে রয়েছে। ক্লান্ত পায়ে এগিয়ে আবার বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ল ও, দেয়ালের দিকে মুখ করে।
সময় কম, দ্রুত পোশাক পাল্টাচ্ছে কার্লো। শুধু সেমিজ গায়ে শুয়ে রয়েছে। কনি, এতক্ষণে লক্ষ করল ব্যাপারটা। তবে কি মাগী বাপকে দেখতে যাচ্ছে না? ভাবছে সে। গেলে ভালই হয়, নতুন কোন খবর হয়তো পাওয়া যাবে ফিরে এলে।
কি হলো? রাগ নয়, এখন ঠাট্টার সুরে, প্রায় আদর করার টংয়ে কথা বলছে কার্লো। নাহ, আমার মত পুরুষসিংহের বউ হবার উপযুক্ত নও তুমি। দুএকটা চড়-চাপড় খেয়েই যদি তোমার দম বেরিয়ে যায়, চলে কি করে? মনে মনে ভাবছে, এক নম্বরের হারামী মাগী, দুনিয়ার কুঁড়ে।
যাব না আমি, ফুঁপিয়ে উঠে বলল কনি, শব্দগুলো কেমন ভোতা আর জড়ানো লাগল কার্লোর কানে। আবার তার মেজাজ বিগড়ে যেতে বসেছে। ঝট করে একটা হাত বাড়িয়ে দিল সে, কনির কাঁধ খামচে ধরে টান মারুল নিজের দিকে। মুখ ঘোরাল কনি। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দমে গেল কার্লো। বুঝতে পারছে, কেন যেতে চাইছে না কনি। নিজেও ভাবছে, না গেলেই ভাল হয়। সত্যি খুব জোরে মারা হয়ে গেছে। ঠোঁটের ক্ষতগুলো এখন আরও কুৎসিত ভাবে ফুলে উঠেছে, মুখের বাঁ দিকে পাঁচ আঙুলের দাগগুলোও কদর্য দেখাচ্ছে। ঠিক আছে। যেতে হবে না তোমাকে, বলল সে। আজ রোববার, ফিরতে দেরি হবে আমার।
ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এল কার্লো। পার্কিং এরিয়ায় গাড়ি রেখে যায়নি, পুলিশ তাই জরিমানার টিকেট লাগিয়ে রেখে গেছে। আরও গোছাখানেক টিকেটের সাথে গ্রাভ কমপার্টমেন্টে রেখে দিল সেটাও। মেজাজের অবস্থা ভালই এখন। বউকে ধরে পিটুনি দিলেই মনটা খুশি হয়ে ওঠে তার। যাকে বলে জামাই আদর, জামাই হওয়া সত্ত্বেও কর্লিয়নিদের কাছ থেকে সেটা পাচ্ছে না সে, সেজন্যে রাগ আর ক্ষোভ জমা হয়ে থাকে তার মনে-বউকে মারধোর করলে মনের খেদ খানিকটা কমে যায়, কিছুটা ঝাল মেটে।
প্রথমবার মারধোর করে একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল কার্লো। কারণ চোখের কালসিটে দেখিয়ে নালিশ জানাবার জন্যে সোজা লং বীচে, মা-বাবার কাছে ছুটে গিয়েছিল কনি। সত্যি ভয় সেধিয়ে গিয়েছিল মনে। কিন্তু ঘটল না কিছুই, বরং একেবারে লক্ষ্মী, সুবোধ বালিকা হয়ে ফিরে এল কনি। যেন ওর মত স্বামী-অন্ত প্রাণ, কর্তব্যপরায়ণা ইতালীয় বউ আর হয় না। এই ঘটনাটার পরে, বেশ কয়েক হপ্তা কার্লোও আদর্শ, সুবোধ স্বামীর অভিনয় চালিয়ে গেছে। সেবা করল বউয়ের, খুব যত্ন নিল, কত রকম বিচিত্র ভঙ্গিতে জানাল কনিকে সে ভালবাসে–এমন কি দিনে দুবার করে, সকালে একবার বিকেলে আরেকবার, বউকে নিয়ে শুলো। তার মত তো আর চালাক নয় কনি, এত খাতির যত্নের আসল উদ্দেশ্যটা টের পায়নি। শেষ পর্যন্ত নালিশ জানাতে গিয়ে বাপের বাড়িতে কি কি ঘটেছে, সবই সে বলে ফেল। স্বামীর আশ্চর্য পরিবর্তন দেখে তার ধারণা হয়েছিল, যা করার করেছে, আর কখনও গায়ে হাত তুলবে না কার্লো।
নালিশ জানাতে গিয়ে মা-বাপের কাছ থেকে এতটুকু সহানুভূতি পায়নি কনি। সব কথা শুনে মা একটু বিচলিত বোধ করেছেন বটে, কার্লোকে ডেকে পাঠিয়ে একটু বোঝাবার জন্যে অনুরোধ করেছেন স্বামীকে। কিন্তু সে-অনুরোধ রক্ষা করতে রাজী হননি ডন।
