কে জানতে চাইল, কিন্তু জানলে কি করে? বাবার দিকে এখনও তাকাতে পারছে না সে। বাবা যে জেনে গেছেন মাইকের সঙ্গে রাত কাটিয়েছে ও। তাই কথাটার উত্তর দেবার সময়, বাবার মুখের হাসিটা দেখতে পেল না সে।
বুঝতেই পারছ, ওর চিঠি খুলেছিলাম আমরা।
স্তম্ভিত হয়ে গেল কে, তারপর রেগেমেগে ঝট করে এবার বাবার দিকে তাকাল সে। ভাবছে, বাবা যা করেছেন সে তো ওর নিজের অপরাধের চাইতেও জঘন্য। কিন্তু কথাটা তার বিশ্বাস হচ্ছে না। না, বাবা! তুমি চিঠি খোলোনি, খুলতে পারো না।
ওর দিকে তাকিয়ে হাসলেন বাবা। প্রথমে অনেক ভাবলাম, কোনটা বেশি মন্দ কাজ–তোমার চিঠি খোল, নাকি আমাদের একমাত্র সন্তান কোথায় কোন বিপদে পড়ছে সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকা। উত্তরটা সহজ এবং সৎ।
সেদ্ধ মুরগিতে দুটো কামড় বসিয়ে মা বললেন, বয়সের তুলনায় তুই খুব কাঁচা। আমাদের জানা দরকার, অথচ ওর কথা নিজে থেকে কিছুতেই তুই বলবি না।
মাইকেল তার চিঠিতে কখনও ভালবাসার কথা লেখেনি ভেবে কৃতজ্ঞ বোধ করল কে। ওর নিজের লেখা কোন চিঠি মা-বাবা দেখেননি ভেবে একটা হাঁফও ছাড়ল। ওর কথা, ওদের বাড়ির কথা শুনে তোমরা আঁতকে উঠবে ভেবে ভয়ে বলিনি…
প্রফুল্ল কণ্ঠে বললেন মি. অ্যাডামস, আঁতকেই উঠেছিলাম। ভাল কথা, তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি তো মাইকেল?
মাথা নেড়ে কে বলল, ও কোন অপরাধ করতে পারে না।
লক্ষ করল কে, মা-বাবা দৃষ্টি বিনিময় করলেন।
নরম গলায় মি. অ্যাডামস বললেন, যদি অপরাধ করে না থাকে, অথচ কোন খোঁজ নেই, তার মানে হয়তো ওর আর কিছু হয়েছে।
কথাটা প্রথমে বুঝতে পারল না কে। তারপর টেবিল থেকে উঠে দুহাতে মুখ ঢেকে ছুটতে শুরু করল। নিজের ঘরে ঢুকে বন্ধ করে দিল দরজা। বিছানায় আছড়ে পড়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
.
তিনদিন পর। লং বীচে কর্লিয়নিদের উঠানের সামনে একটা ট্যাক্সি এসে থামল। সেটা থেকে নামল কে অ্যাডামস। ফোন করে এসেছে, ওরা জানে আসছে ও। টম হেগেনকে দরজার কাছে এগিয়ে আসতে দেখে একটু নিরাশ হলো কে। ও জানে, টম কিছু প্রকাশ করবে না।
বসবার ঘরে নিয়ে গিয়ে ওর হাতে এক গ্লাস শ্যাম্পেন দিল টম। কয়েকজন লোক এ-ঘর ও-ঘর করছে, কিন্তু তাদের মধ্যে সনি নেই।
মাইক কোথায়, জানেন? সরাসরি প্রশ্ন করল কে। ওর সাথে কোথায় যোগাযোগ করতে পারি জানাতে পারেন আমাকে?
ও ভাল আছে, এটুকু জানি, মোলায়েম সুরে হেগেন বলল, তবে ঠিক এই মুহূর্তে কোথায় আছে তা বলতে পারি না। ক্যাপটেনের গুলি খাওয়ার কথা শুনে ওর ভয় হলো, ব্যাপারটার সাথে ওকে জড়িয়ে ফেলা হতে পারে। তাই ঠিক করল, নিখোঁজ হয়ে যাবে। মাস কয়েক পর যোগাযোগ করবে, এর বেশি কিছু বলে যায়নি আমাকে।
কথাগুলো সত্যি নয়, এবং বলাও হলো এমন ভাবে যেন কে সেটা ধরতে পারে।
ওই ক্যাপটেন কি সত্যি ওর চোয়াল ভেঙে দিয়েছিল? জানতে চাইল কে।
দুঃখের বিষয়, বলল টম, কথাটা সত্যি। তবে মাইক কোন দিনই প্রতিহিংসাপরায়ণ নয়। পরের ঘটনাটার সাথে ওর কোন সম্পর্ক নেই, এটুকু নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি।
ব্যাগ খুলে একটা চিঠি বের করে কে বলল, ও যদি আপনাদের সাথে যোগাযোগ করে, এই চিঠিটা ওকে দেবেন।
এদিকে-ওদিকে মাখা,নাড়ল হেগেন। পরে আপনি যদি আদালতে বলেন আমি চিঠি নিয়েছিলাম, তার মনে করা হবে, মাইক কোথায় আছে তা আমি জানতাম। আরেকটু অপেক্ষা করুন না কেন? মাইকই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।
পানীয়টুকু শেষ করে, বাড়ি যাবার জন্য উঠে দাঁড়াল কে। হেগেন তাকে হল অবধি নিয়ে এল। কিন্তু দরজা খুলতেই, বাইরে থেকে একজন মহিলা এসে ঢুকলেন। মোটা, বেটে, পরনে কার্লো পোশাক। চিনতে পারল কে, মাইকেলের মা। কেমন আছেন, মিসেস কর্লিয়নি? হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল সে।
ও হো, তুমি তো মাইকের বান্ধবী, কথায় কড়া ইতালীয় টান, কে প্রায় বুঝতেই পারছে না কি বলছেন। মিষ্টি, ছোট্ট করে হাসলেন, তারপর জানতে চাইলেন, কিছু খাবে?
কে বলল, না। খাবার ইচ্ছা নেই ওর।
কিন্তু মিসেস কর্লিয়নি রেগেমেগে টম হেগেনের দিকে ফিরে তাকে ইতালীয় ভাষায় খানিকটা বকাবকি করলেন, বললেন, বেচারা মেয়েটাকে কিছু খেতে পর্যন্ত দাওনি, এ কেমন আক্কেল তোমার! কে-র হাত ধরে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে এলেন তিনি।
একটু কফি আর তার সাথে কিছু খাও, তারপর কেউ তোমাকে গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দেবে। তোমার মত একটা ভাল মেয়ে ট্রেনে করে একা ফিরবে, তা আমার পছন্দ নয়। কে-কে চেয়ারে বসিয়ে ব্যস্তভাবে রান্নাঘরের চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। নিজের টুপি আর কোট খুলে একটা চেয়ারের ওপর ঝুলিয়ে রাখলেন। স্টোভের ওপর কফি ফুটছে।
মাইকের খোঁজ নিতে এসেছিলাম, ভয়ে ভয়ে কে বলল, ওর কোন খবর পাইনি। মি. হেগেন বলছেন, ও কোথায় আছে কেউ জানে না। কিছু দিন পর নাকি নিজেই ফিরে আসবে।
এর বেশি ওকে কিছু বলা যায় না, মা,হেগেন তাড়াতাড়ি বলল।
মিসেস কর্লিয়নি তাচ্ছিল্যপূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে টমকে প্রায় ভস্ম করে দিয়ে বললেন, কি করতে হবে না হবে, সে কি তুই আমাকে শিখাবি? আমার স্বামী পর্যন্ত সে-সুযোগ পায় না। যীশু তার ওপর দয়া করুন। বুকের ওপর কুশ আঁকলেন তিনি।
মি. কর্লিয়নি এখন কেমন আছেন? জানতে চাইল কে।
খুব ভাল আছেন,মিসেস কর্লিয়নি বললেন। বুড়ো হয়েছেন তো, বুদ্ধিশুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে। নইলে অমন ঘটনা ঘটতে দেন কখনও! হতাশ ভঙ্গিতে নিজের মাথায় টোকা দিলেন তিনি। তারপর কফি খাওয়া শেষ করে নিজের মেটে রঙের হাত দিয়ে কে-র একটা হাত ধরলেন, ধীরে ধীরে বললেন, মাইক তোমাকে চিঠি লিখবে না। তুমি তার কাছ থেকে কোন খবর আশা কোরো না। দু-তিন বছর তাকে লুকিয়ে থাকতে হবে। হয়তো তারও বেশি। তুমি ফিরে যাও, তারপর একটা ভাল ছেলে দেখে বিয়ে করো, মা।
