দ্রুত মাথা নেড়ে বলল কে, একাই বলব।
ডিটেকটিভ ফিলিপসের দিকে তাকালেন মি. অ্যাডামস। আপনারা আমার পড়ার ঘরে বসতে পারেন, মৃদু হেসে বললেন তিনি। তারপর জানতে চাইলেন, আপনারা কি লাঞ্চ খাবার সময় পর্যন্ত থাকবেন?
না-মাথা নেড়ে জানাল ডিটেকটিভ দুজন। পড়ার ঘরে ওদেরকে নিয়ে গিয়ে বসাল কে। নিজে সে বাবার চামড়া দিয়ে বাঁধানো প্রকাণ্ড চেয়ারটায় বসল। সোফার কিনারায় একটু আড়ষ্ট ভঙ্গিতে বসেছে ওরা দুজন।
মিস অ্যাডামস, শুরু করল ডিটেকটিভ ফিলিপস, মাইকেল কর্লিয়নির সাথে শেষ কবে দেখা হয়েছে আপনার, বা তার কাছ থেকে শেষ কবে খবর পেয়েছেন? গত তিন হপ্তার মধ্যে?
কে-কে সতর্ক করে দেবার জন্যে এই একটা প্রশ্নই যথেষ্ট। আজ থেকে তিন হপ্তা আগে বোস্টনের একটা খবরের কাগজ পড়ছিল সে, তাতে বিরাট হেডিং দিয়ে একটা খবর ছাপা হয়েছিল। নিউ ইয়র্কের একজন পুলিশ ক্যাপটেন আর একজন ড্রাগ স্মাগলার ভার্সিল সলোযো খুন হয়েছে। রিপোর্টারের মন্তব্য ছিল, এই হত্যাকাণ্ড কর্লিয়নি পরিবারের সাথে অন্যান্য মাফিয়া পরিবারের দলীয় যুদ্ধের পরিণতি।
এদিকে-ওদিকে মাথা দোলাল কে। গত তিন হপ্তার মধ্যে? না। হাসপাতালে ওর বাবাকে দেখতে যাচ্ছে, সেই আমার সাথে ওর শেষ দেখা। সেটা বোধহয় হপ্তা তিনেকের আগের ঘটনা।
তা আমরা জানি, সহকারী ডিটেকটিভ গম্ভীর, কর্কশ কণ্ঠে বলল। তারপর আবার কবে দেখা হয়েছে?
হয়নি, বলল কে।
ডিটেকটিভ ফিলিপস নরম সুরে বলল, ওর সাথে যোগাযোগ হলে বা ওর কোন খবর পেলে আমাদেরকে যদি জানান, খুব উপকার হয়। মাইকেল কর্নিয়নিকে খুঁজছি আমরা, গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আদায় করার ব্যাপারে। শুধু কর্তব্যের খাতিরে আপনাকে সাবধান করতে চাই–ওর সাথে কোন রকম যোগাযোগ রাখলে বিপদে জড়িয়ে পড়তে হবে আপনাকে। আর, কোন ব্যাপারে, কোন ভাবে ওকে যদি সাহায্য করেন, জেনেশুনে নিজের সর্বনাশই শুধু করা হবে।
শিরদাঁড়া খাড়া করে সোজা হয়ে বসল কে, জানতে চাইল, দরকার মনে করলে কেন ওকে সাহায্য করতে পারব না আমি? আমাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, ওকে সাহায্য করব না তো করব কাকে?
জবাব দিল সহকারী ডিটেকটিভ সিরিয়ানি, সে আপনার ইচ্ছা। কিন্তু ওকে সাহায্য করলে খুন করতে সহায়তা করেছেন, এই অভিযোগ আনা হতে পারে আপনার বিরুদ্ধে। আপনার হবু স্বামীকে আমরা কেন খুঁজছি, জানেন? নিউ ইয়র্কের একজন পুলিশ ক্যাপটেনকে খুন করেছে সে। শুধু তাই নয়, একই সাথে খুন করেছে। একজন ইনফর্মারকে। ক্যাপটেন সেই ইনফর্মারের সাথে বসে কথা বলছিল, এই সময় ওদেরকে গুলি করা হয়। গুলি যে মাইকেল কর্লিয়নি করেছে তা আমরা ভাল করেই জানি।
নিঃশব্দে হাসছে কে। এমন অকৃত্রিম অবিশ্বাসের হাসি, দেখে দুজন ডিটেকটিভই কেমন যেন দমে গেল। পাগল নাকি? বলল কে। এ-ধরনের কাজ মাইক কখনও করতেই পারে না। বাড়ির কোন বিষয় বা লোকদের সাথে ওর তো কোন সম্পর্কই নেই। ওর বোনের বিয়ের দিন আমাকে নিয়ে গিয়েছিল, নিজের চোখেই তো দেখলাম, বাড়ির লোকেরা অনাত্মীয়, পরের মত আচরণ করে ওর সাথে। আপনারা ভাবছেন তাহলে ও লুকিয়ে আছে কেন? এর সোজা কারণ আমি জানি। যা ঘটে গেছে তার সাথে জড়াবার কোন ইচ্ছা নেই ওর। সেজন্যেই চোখে পড়তে চাইছে না। আবার সেই অকৃত্রিম অবিশ্বাসের হাসিটা দেখা গেল কে-র মুখে। মাইককে গুণ্ডা বলে মনে করলে মস্ত ভুল করবেন আপনারা।•••হাসি পাচ্ছে। আমার। আপনাদের বা অন্য সবার চেয়ে ওকে ভাল করে চিনি আমি। মাইক যে কি ধরনের ভাল ছেলে তা আপনারা ওকে চেনেন না বলে বুঝতে পারবেন না। খুনের মত জঘন্য কাজ করা তো দূরের কথা, চিন্তা পর্যন্ত করা সম্ভব নয় ওর পক্ষে। আমি যত লোককে চিনি তাদের মধ্যে ওই সবচেয়ে বেশি আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত। ওকে একটা মিথ্যে কথা পর্যন্ত বলতে শুনিনি কখনও।
কত দিনের পরিচয় আপনাদের? মৃদু কণ্ঠে জানতে চাইল ফিলিপস।
এক বছরের বেশি।
কথাটা শুনে ডিটেকটিভ দুজন মুচকি হাসল দেখে অবাক হলো কে।
কয়েকটা কথা আপনাকে জানানো দরকার, বলল ফিলিপস। হ্যাঁ, সে রাতে আপনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিল ও। কি মনে করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন একজন পুলিশ ক্যাপটেনের সাথে তর্ক হয় ওর। ক্যাপটেন ওখানে তার একটা অফিশিয়াল কাজে গিয়েছিলেন। কথা কাটাকাটির মধ্যে মাইকেল তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, ফলে বেদম মার খেতে হয় ওকে। কয়েকটা দাঁত তো হারিয়েছেই, চোয়ালটাও ভেঙে গেছে। ওর বন্ধুরা ওকে কর্লিয়নিদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন রাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নেবার জন্যে পুলিশ ক্যাপটেনকে গুলি করে ও, ক্যাপটেন সেখানেই মারা যান। খুন করেই গা ঢাকা দিয়েছে মাইকেল, একেবারে মিলিয়ে গেছে বাতাসে। অসংখ্য ইনফর্মার আছে আমাদের, অগুনতি গোয়েন্দা আছে, তারা সবাই খবরাখবর সংগ্রহ করে একবাক্যে জানাচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র নায়ক মাইকেল কর্লিয়নি। তবে, স্বীকার করছি, আদালত গ্রাহ্য করবে এমন কোন নিচ্ছিদ্র প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যখন গুলি করা হয়, সেখানে একজন ওয়েটার উপস্থিত ছিল কিন্তু মাইকের ছবি দেখে চিনতে পারেনি সে। হয়তো সামনে থেকে দেখলে চিনতে পারবে। সলোমোর গাড়ির ড্রাইভারও কাছেপিঠে ছিল, কিন্তু সে ব্যাটার মুখ খোলানো যাচ্ছে না। তবে মাইকেল কলিয়ান অ্যারেস্ট হয়েছে শুনলেই সে হয়তো, মূর্খ খুলবে। আমাদের ডিপার্টমেন্ট, এফ-বি-আই, আরও নানা প্রতিষ্ঠানের সব লোক গরুখোঁজা করছে ওকে। এখন পর্যন্ত ওর কোন হদিসই করতে পারিনি আমরা, তাই ভাবলাম আপনি কিছু জানালেও জানাতে পারেন।
