ওদের ভাষায় ভুঁইফোড় ডন কর্লিয়নিকে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্যে ক্যাপনির কাছ থেকে লক্ষ্যভেদে অব্যর্থ দুজন পিস্তলধারীকে চেয়ে পাঠাল মারানজানো। কর্লিয়নি পরিবারের লোকজন, বন্ধু-বান্ধব আর গুপ্তচর শিকাগোতেও আছে, তারা যথাসময়ে খবর পাঠাল পিস্তলধারীরা ট্রেনে করে রওনা হয়েছে। ওদের একটা ব্যবস্থা করার জন্যে ডন কর্লিয়নি একজন লোককে পাঠালেন। তার নাম লুকা ব্রাসি। উনার সাম্রাজ্যের অন্যতম স্তম্ভতে এমন সব নির্দেশ দিলেন, যা শুনে এই বিস্ময়কর প্রাণীটির মনের সবচেয়ে নৃশংস পৈশাচিক দিকের দরজাটা খুলে গেল।
চারজন লোককে সাথে নিল বাসি। শিকাগো থেকে মেহমান আসছে, মাসি আর তার দল রেলস্টেশনে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে এসেছে। তার একজন লোককে সি একটা ট্যাক্সিতে ড্রাইভার সেজে বসে থাকতে বলেছে। স্টেশনের কুলি মজুররাও ব্রাসির লোক, তারা মেহমানদের ব্যাগ-ব্যাগেজগুলো বয়ে নিয়ে লি, ভুলল ওই ট্যাক্সিটাতেই। মেহমানরাও উঠল গাড়িতে, ব্রাসির লোকেরাও পিছু পিছু উঠে পড়ল। মেহমানরাতো আর এ-ধরনের কোন ঘটনার জন্যে প্রস্তুত ছিল না, তাই সির দল পিস্তল দেখাতেই তারা গাড়ির ভিতর পা রাখার জায়গায় শুয়ে পড়া ছাড়া উপায় দেখল না। আগে থেকেই ভকের কাছে একটা মাল-গুদাম ঠিক করা আছে ব্রাসির, ঝড় তুলে সেখানেই পৌঁছুল ট্যাক্সি।
আল ক্যাপনির নোক দুজনের হাত-পা বেঁধে ফেলা হলো প্রথমে, তারপর তাদের মুখের ভিতর গুঁজে দেয়া হলো দুটো তোয়ালে। এখন তারা যত ইচ্ছা চেঁচাতে পারে, কোন শব্দ বেরুবে না!
দেয়ালের গায়ে দাঁড় করানো রয়েছে একটা কুড়াল, এগিয়ে গিয়ে সেটা নিয়ে এল ব্রাসি। শক্ত কাঠ চেরার জন্যে যতটা গায়ের জোরে কাঠরেরা কুড়াল চালায় ব্রাসিও সেই রকম জোরের সাথে মেহমানদের একজনকে কোপাতে শুরু করে দিল। তবে, এলোপাতাড়ি ভাবে কোন কাজ করতে পছন্দ করে না বালি, প্রথমে সে লোকটার পায়ের পাতা দুটো কেটে নিল। তারপর আলাদা করুল হাঁটুর কাছ থেকে পা দুটোকে। কুচকির একটু নিচে থেকে উরু দুটো কেটে ফেলতেও খুব বেশি সময় নিল না বাসি। গায়ে তার প্রচণ্ড শক্তি, তবে অনেক বার কুড়াল দিয়ে কোপ মারতে হলো তাকে।একটা কাজ শুরু করলে সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার বাপের সাধ্যি তাকে থামায়। এর মধ্যে কখন মরে ভূত হয়ে গেছে লোকটা, কিন্তু বাসি সেই মৃতদেহের উপর আরও কিছুক্ষণ কোপ মারল। মাল-গুদামের পুরো মেঝেতে রক্ত মাংসের ছড়াছড়ি, পা ফেলতে ভয় হয়, এমন পিচ্ছিল হয়ে গেছে। এরপর দ্বিতীয় মেহমানের দিকে ফিরল ব্রাসি। তাকে দেখেই বুবলি, কষ্ট করার আর কোন দরকারই নেই। তোয়ালে গিলে ব্রাসির কাজটা নিজেই সেরে ফেলেছে লোকটা। ইচ্ছা করে, নাকি নিজের অজান্তে তোয়ালেটা গিলেছে তা আর এখন জানার কোন উপায় নেই। শুধু একটা ব্যাপার বোঝা যায়, লোকটা ভয় পেয়েছিল। পুলিশের ডাক্তার ময়নাতদন্ত করার সময় ওই তোয়ালেটা পেটের ভিতর থেকে পেল।
কয়েকদিন কেটে গেল। নতুন আর কিছুই, ঘটছে না। কেমন যেন থমথম করছে বাতাস। কিছু যদি ঘটে, শিকাগোর আল ক্যাপনি ভাবছে, ডনের তরফ থেকেই ঘটবার সম্ভাবনা। ঘটলও তাই। ডন কর্লিয়নির কাছ থেকে একটা চিঠি পেল সে।
ডন কর্লিয়নির চিঠিতে বলা হয়েছে।
এখন তো আর তোমার অজানা নেই, শত্রুর সাথে কি ধরনের আচরণ করি আমি। আচ্ছা, দুজন সিসিলিয়ানের মধ্যে যদি বিরোধ বাধে তার মধ্যে একজন নিয়াপলিটান নাক গলাতে আসে কেন? তবে তোমরা যদি আমাকে বন্ধু বলে গ্রহণ করতে চাও, সেটা আলাদা কথা। সেক্ষেত্রে আমি তোমাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকব, এবং যখনই তোমরা দাবি করবে তখনই সে ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করব। তুমি বোকা। একথা আমি স্বীকার করি না-সুতরাং তুমি নিশ্চয় বুঝবে যে এমন বন্ধু থাকা কি রকম লাভজনক যে তোমার কাছ থেকে কোন রকম সাহায্য চাইবে না, নিজের ঝামেলা নিজেই সামলাবে, অথচ তুমি কখনও যদি বিপদে পড়া, সব রকম সাহায্য নিয়েসে তোমার পাশে দাঁড়াবে। এসব কথার মানে কোরো না যে আমার বন্ধুত্ব তোমাকে চাইতেই হবে! না চাও, সেও ভাল কথা। তবে, সেক্ষেত্রে তোমাকে আমি না জানিয়ে পারি না যে আমাদের এদিকের আবহাওয়া, বড় বেশি সঁতসেঁতে, নিয়াপলিটানদের স্বাস্থ্যের জন্যে মোটেও.অনুকূল নয়। এত কথা বলে তোমাকে আমি ঠিক কি পরামর্শ দিতে চাইছি তা নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পারছ? হ্যাঁ এখানে কখনও এসে না।
চিঠির সুরে একটু দম্ভ রয়েছে, সেটা ইচ্ছাকৃত। ক্যাপনিরা প্রকাশ্যে গলাকাটা খুনে, নির্বোধ, সেজন্যে ওদেরকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেন ভুন। নিজের স্বাভাবিক বুদ্ধির সাহায্যে বুঝতে পেরেছেন প্রকাশ্যে খুব বেশি. সর্দারী ফলাতে গিয়ে আর বেআইনী পথে রোজগার করার টাকার গরমে বেসামাল হয়ে পড়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপত্তি হারিয়ে ফেলেছে ক্যাপনি। ডন জানেন, নিশ্চিতভাবেই জানেন, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এবং তার সাথে একটা নিরীহটাইপের সামাজিক ছদ্মবেশ নেই যার, অর্থাৎ ক্যাপনি অথবা তার মত আর সবার জগতকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া সম্ভব। তিনি বুঝতে পারছেন, ধ্বংসের পথ ধরে নামতে শুরু করেছে ক্যাপনি। তাঁর কাছে খবর আছে শিকাগোর শহর এলাকায় ক্যাপনির ক্ষমতা যতই ভয়াবহ আর বিস্তৃত হোক না কেন, শহরের বাইরে তার কোন মূল্য নেই।
