ইউরোপের সবচেয়ে চরম ব্যাপারগুলোর সবই ছিল মতামতের ব্যাপারে মুক্ত প্রতিযোগিতার প্রতিকূলে। ফরাসি বিপ্লবের চেতনার বিরোধিতায় ১৮১৫ সাল থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত মহাদেশের সর্বত্র চার্চ ও রাষ্ট্র ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। সেন্সর ব্যবস্থা জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সর্বত্র হঠাৎ হাস্যাস্পদ হয়ে ওঠে। নিম্নবর্ণিত শব্দাবলির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ পরিচ্ছেদে হিন উপহাস করেন।
জার্মান সেন্সর ……..
…………. মূর্খ ….
ফ্রান্স ও ইতালির সরকারি নির্যাতনের উদ্দেশ্যই ছিল নেপোলিয়নের রূপকথা এবং বিপ্লবের প্রশংসাস্তুতি। সবরকম উদারনৈতিক চিন্তা-ভাবনা নিষিদ্ধ ছিল স্পেন ও চার্চ শাসিত রাষ্ট্রগুলোতে। পোপের সরকার তখনও কার্যকরিভাবে জাদুবিদ্যায় বিশ্বাস করত। ইতালি, জার্মানি ও অস্ট্রীয় হাঙ্গেরিতে জাতীয়তা নীতির পক্ষে ওকালতি করার অনুমতি ছিল না। সব সময়ই গ্রামীণ জনগণের বিপরীতে সামন্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে বোকা রাজা ও অলস অভিজাতদের সমর্থনে বাণিজ্যিক স্বার্থবিরোধী প্রতিক্রিয়া জড়িত ছিল। এ ধরনের অবস্থায় অবাধ নীতিই ছিল শক্তির স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এগুলো ব্যাহত হয় বৈধ কার্যকলাপে।
আমেরিকার উদারপন্থিরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তাদের আশানুরূপ মুক্তি অর্জন করে; ইংল্যান্ডে ১৮৭১ সালের মধ্যে; জার্মানিতে পর্যায়ক্রমে ১৮৪৮ সাল থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে; ইতালিতে রিজারজিমেন্টো এবং রাশিয়ায় মুহূর্তকালের জন্য ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সময়। কিন্তু আশানুরূপ ফলাফল হয়নি উদারপন্থিদের। শিল্পে তা মার্কসের বিদ্বেষপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীর অনুরূপ ছিল। দীর্ঘ উদারপন্থি প্রথার ধারক হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকাই প্রথম ট্রাস্ট রাষ্ট্র গঠন করে। তা উদ্ভূত হয় প্রতিযোগিতামূলক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফলে। আমেরিকাতে উদারনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অন্যান্য দেশের শিল্পায়নে ক্রমে রকফেলারের নেতৃত্ব অনুসরণ করা হয়। কার্যকরি ব্যবস্থার অভাব হলে প্রতিযোগিতা বিলীন হয়ে পড়ে প্রতিযোগীদের একজনের পূর্ণ বিজয়ের মাধ্যমে।
প্রতিষ্ঠানগুলো কৌশলগত কারণে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী আকার লাভ করেছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে যাজনিক কার্যালয়ের অধীন ছিল রাস্তাঘাটের ব্যবস্থা। বর্তমান এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় কাউন্টি কাউন্সির কর্তৃক। তবে তত্ত্বাবধান ও অর্থ যোগানের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে রয়েছে। বেশ বড় এলাকার তত্ত্বাবধান ও অর্থ যোগানের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে রয়েছে। বেশ বড় এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করতে পারেন যদি ওই এলাকায় থাকে নায়াগ্রার মতো একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। জলসেচের জন্য প্রয়োজন হতে পারে আসাম বাঁধের মতো একটি বাঁধের। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত এলাকা খুব বিশাল না হলে এর খরচ নিষিদ্ধ। প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত দ্রব্যের বিশোষণে সমর্থ বাজার নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভরশীল বৃহদায়তন উৎপাদন অর্থনীতি।
আরও বিভিন্ন এলাকা রয়েছে যেখানে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানো হয়নি বৃহৎ এলাকার সুবিধাগুলো। শিক্ষা সংক্রান্ত সরকারি ফিল্মের মাধ্যমে এবং প্রাথমিক শিক্ষা প্রাণ পেতে পারে বিবিসি পাঠ্যসূচি প্রচারের মাধ্যমে। আরও ভালো হতো যদি এ ধলনের ফিল্ম বা পাঠ্যসূচি আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তৈরি হতো, কিন্তু বর্তমানে তা কাল্পনিক ব্যাপার বলে পরিগণিত। বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পঙ্গু, তবে তা আন্তর্জাতিক পরিসরে এর বিস্তার লাভের জন্য নয়। এটা স্পষ্ট যে অধিকাংশ ব্যাপারই ছোট ছোট রাষ্ট্রের চেয়ে বড় রাষ্ট্র সুবিধাজনক এবং যে কোনো রাষ্ট্রই বিশ্বব্যাপী না হলে যথেষ্ট কিছু করতে পারে না নাগরিকদের জীবনরক্ষামূলক প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য।
যা হোক সুবিধা রয়েছে ক্ষুদ্র এলাকাগুলোতেও। এগুলোর ভেতর রয়েছে জনসাধারণের কাজে আইনের অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহার, দ্রুত সিদ্ধান্ত, স্থানীয় প্রয়োজন এবং প্রথার সাথে সম্ভাব্য অধিকতর অভিযোজন। স্পষ্ট সমাধান হচ্ছে স্থানীয় সরকার, যা সার্বভৌম নয়। তবে এর কিছু নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে তা নিয়ন্ত্রিত হয় কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্রের উচিত যুক্তিযুক্ত কাজে একে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া। যা হোক, আমাদের বিশদ প্রশ্নের সম্মুখীন করে দেয় এই বিষয়। আমি তা আলোচনা করতে চাই না।
আরও কঠিন প্রতিযোগিতার প্রশ্নটি। এর অনেক বিতর্ক হয়েছে অর্থনৈতিক পরিসরে, কিন্তু তা সামরিক ও প্রচারণার সাপেক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতা থাকা উচিত উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ব্যবসা ও প্রচারণার ক্ষেত্রে, কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে নয়। এর সম্পূর্ণ বিপরীত মত প্রকাশ করেছেন ইতালির ফ্যাসিবাদী ও জার্মান নাজিরা। তাদের মতে জাতীয় যুদ্ধের রূপ লাভ ছাড়া প্রতিযোগিতা সবসময়ই খারাপ। এক্ষেত্রে জাতীয় যুদ্ধ মানবীয় কার্যাবলির ভেতর মহত্তম। বিরোধী শ্রেণিগুলোর ভেতর ক্ষমতা লাভের সগ্রাম ছাড়া মার্কসবাদীরা সবরকম প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। আমার যতদূর মনে পড়ে, প্লেটো প্রশংসা করেছেন একটি মাত্র প্রতিযোগিতার। তা হচ্ছে সংগ্রামী সাথীদের ভেতর সম্মান সমীকরণের প্রতিযোগিতা। তিনি বলেছেন যে তা উন্নতি লাভ করে সমরনীতি প্রেমের দ্বারা।
