অপরপক্ষে নাগরিকদের উপর রাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমাহীনভাবে বেড়ে যায় অবাধ গ্রেফতার সম্পর্কে সাংবিধানিক বিধি-নিষেধ না থাকলে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত পদ্ধতি ছাড়া কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তি থেকে। বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদর্শন করতে হবে যে পূর্ব ঘোষিত আইন অনুসারে তিনি দোষী সাব্যস্ত এবং এ ধরনের শাস্তির যোগ্য। একইভাবে ইংল্যান্ডে নির্বাহীদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হলেও আইন পরিষদ সর্বশক্তিমান। পরিষদ এ রকম আইন পাস করতে পারে যে মি. জন স্মিথ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হতে পারেন বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই তাকে পদ্ধতিগতভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করার। যেসব পন্থায় পার্লামেন্ট সরকারি নিয়ন্ত্রণ লাভ করে সর্বগ্রাসী ক্ষমতার মতোই এ ক্ষমতা ছিল অনুরূপ একটি পন্থা। এই ক্ষমতা ভারত এবং একদল শাসিত দেশগুলোতে নির্বাহীদের হাতে এবং তা অবাধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা ঐতিহ্য অনুসারে ঘটে থাকে এবং যেখানে রাষ্ট্র এই শক্তিমত্ততা হারিয়েছে সেখানে তারা তা করে থাকে মানবাধিকার মতবাদের ফলস্বরূপ।
সংগঠনের সংজ্ঞা সদস্য নয় এমন লোকের উপর দেয়া অপেক্ষাকৃত কঠিন। বিদেশিদের সাপেক্ষে যুদ্ধ অথবা যুদ্ধরীতির উপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। তা প্রযোজ্য শুল্ক এবং অভিবাসন নিয়ম-কানুনের বেলায়ও। চীন দেশে সামরিক পরাজয়ের ফলস্বরূপ গৃহীত চুক্তির দ্বারা এ দুটো পরিচালিত হতো। শুধু যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব থাকলে, সব লোকের ধ্বংস অথবা বিতাড়নের হুকুম জারি করা যেতে পারে। এসব প্রায়ই করা হয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ বিবেচনা করা যায় যশোয়ার বই, ব্যাবিলনীয় বন্দিত্ব এবং উত্তর আমেরিকায় ইন্ডিয়ানদের নির্মূলের পরিবর্তে কারাবাসের কথা।
রাষ্ট্র কর্তৃক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাহ্যিক ক্ষমতা ঈর্ষার চোখে দেখাই স্বাভাবিক। তাই এগুলো বহুলাংশে অবৈধ এগুলো নির্ভর করে প্রধানত বয়কট ও চরম ভীতি প্রদর্শনের উপর। সাধারণত এ ধরনের সন্ত্রাসী প্রভাব বিপ্লব বা অজরাকতার ভূমিকাস্বরূপ। রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞ আয়ারল্যান্ডে প্রথমত জমিদার ও পরে ব্রিটিশ আধিপত্যের পতন ঘটায়। জারতন্ত্রের রাশিয়ায় বিপ্লবীরা প্রধানত সন্ত্রাসী তৎপরতার উপর নির্ভর করে। নাজিরা হিংস্রতাপূর্ণ অবৈধ কাজের মাধ্যমে তাদের পথ বেছে নেয়। বর্তমানে চেকোস্লোভাকিয়ায় জার্মান জনগণের ভেতর যারা হেনলিন দলে যোগদান করা থেকে বিরত তারা এমন নোটিশ পাচ্ছে, আপনি একজন চিহ্নিত ব্যক্তি অথবা আপনার পালা আসবে। জার্মানিরা অস্ট্রিয়া দখল করে নিলে বিরোধীদের ভাগ্যে যা ঘটে সে দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের ভীতি প্রদর্শন অত্যন্ত কার্যকারী। যে রাষ্ট্র এ ধরনের কার্যকলাপের সাথে পেরে ওঠে না তারা শীঘ্রই পতিত হয় দুঃখে। এই অবৈধ কার্যকলাপ কোনো একক সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে তার পরিণাম হয় বিপ্লব। কিন্তু তা দস্যুদল বা বিদ্রোহী সিপাহিদের কার্যকলাপ হলে পর্যবসিত হতে পারে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলতায়।
গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এগুলো গোপন সংস্থাগুলোর অনুরূপ নয় এমন অবৈধতা ছাড়াই সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সমর্থ। কারণ, তারা শত্রুকে হত্যার হুমকি দেয় না, তবে ঠেলে দেয় ক্ষুধার দিকে। কোনো স্পষ্ট ঘোষণার প্রয়োজন হয় না এ ধরনের ভীতি প্রদর্শনের জন্য। তারা প্রায়ই এর দ্বারা সরকারকে পরাজিত করেছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যায় ফ্রান্সের অধুনা ঘটনা প্রবাহ। যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখে যে, রাষ্ট্রের ভেতরে এগুলোর সঙ্গে সম্পর্কহীন লোকজন যথেষ্ট খেতে পাবে অথবা পাবে না তত দিন পর্যন্ত মারাত্মক সীমাবদ্ধতার অধীন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বলা যায় যে, রাশিয়ার মতো ইতালি ও জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্যক্তি মালিকানার উপর রাষ্ট্রীয় মালিকানার শ্রেষ্ঠত্ব।
আমি এখন প্রশ্নে আসছি সরকারের প্রকারভেদের। ইতিহাসে জ্ঞাত প্রাচীনতম, সরলতম এবং সবচেয়ে বিস্তৃত সংবিধান হিসেবে পরম রাজতন্ত্র দিয়ে আরম্ভ করা স্বাভাবিক। আমি নিরূপণ করছি না রাজা ও অত্যাচারীর ভেতর পার্থক্য, আমি শুধু এক ব্যক্তির শাসন আলোচনা করছি-হতে পারে সে শাসনক্ষমতা উত্তরাধিকারী সূত্রেপ্রাপ্ত অথবা জোরপূর্বক লব্ধ। ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে শুরু করে মেসিডোনীয়, রোমান প্রভূত্ব এবং খেলাফত পার হয়ে মহান মোগল পর্যন্ত এ ধরনের শাসন সবসময়ই প্রভাব বিস্তার করছে এশিয়ায়। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সি. হুয়াং সি যিনি বই পুড়িয়েছিলেন, তার শাসনকাল ছাড়া অন্য কোনো সময়েই চীনের সম্রাটরা পরম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন না। অন্য সময় পন্ডিত ব্যক্তিরা তাকে পরাস্ত করতে পারতেন। কিন্তু চীন সবসময়ই সব শাসনের ব্যতিক্রম। আজ যদিও পরম রাজতন্ত্র পতনোন্মুখ বলে অনুমিত হচ্ছে তারপরও এর সমান্তরালে থেকে অনুরূপ কিছু বিস্তার লাভ করছে জার্মানি, ইতালি, রাশিয়া, তুরস্ক ও জাপানে। এটা স্পষ্ট যে মানুষের কাছে স্বাভাবিক ও ধরনের সরকারই।
