একই ধরনের সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, লক আউট শিল্পপতির ক্ষমতার ভিত্তি হচ্ছে। অর্থাৎ ফ্যাক্টরি মালিক রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করতে পারেন অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রবেশকরা থেকে বিরত রাখতে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এ ব্যাপারে কোথাও রাষ্ট্রীয় অনীহা থাকতে পারে, পরিণামে ধর্মঘটের সম্ভাবনা দেখা দেয়। রাষ্ট্র কর্তৃক এগুলো সহনীয় হয়ে ওঠামাত্রই নিয়োগকারীদের নিরঙ্কুশ মালিকানা রদ হয়ে যায় এবং কর্মচারীদের অংশগ্রহণ শুরু হয় মালিকানায়।
অন্যান্য আর্থিক ক্ষমতার চেয়ে ঋণ অধিক বিমূর্ত, কিন্তু পৃথক নয়। এই ক্ষমতা নির্ভরশীল উৎপাদক থেকে অব্যবহিত উৎপাদনশীল নয় এমন কাজে নিয়োজিত লোকের হাতে উদ্বৃত্ত ভোগ্যপণ্য হস্তান্তর করার আইনগত অধিকারের উপর। আর্থিক ঋণ গ্রহণকারী কর্পোরেশন বা সাধারণ মানুষ শুধু আইনের বলেই ঋণ পরিশোধে বাধ্য। কিন্তু এ উপায় ব্যর্থ হতে পারে ঋণ গ্রহণকারী সরকারের বেলা চূড়ান্ত উপায় হিসেবে বিপ্লবোত্তর রাশিয়ার মতো পরিবেশ যে দেশে বিরাজ করে সে দেশে। ব্যর্থ হলে ঋণগ্রহীতা সোজা ঋণদাতার সম্পত্তি দখল করে নেয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ উল্লেখ করা যায় লিনা স্বর্ণ ক্ষেত্রে কে প্রবেশাধিকার পাবে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সোভিয়েত সরকারের, যুদ্ধপূর্ব শেয়ার মালিকদের নয়।
সাধারণত মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতা এভাবে সরকারের সেনাশক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে এগুলো বিধিবদ্ধ কিছু নিয়মানুসারে ঠিক করে দেয় যে, এই জমিতে যাওয়ার মোক্ষম অধিকার কে পেতে পারে। কিন্তু সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষমতা নির্ভর করে আংশিকভাবে সেনাশক্তির উপর এবং আংশিকভাবে অন্যান্য সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি বা আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের উপর।
অর্থনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক অনেকটা উভয়মুখী। অর্থাৎ একদল মানুষ অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারে একত্রিত হয়ে অর্জিত সেনাশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে চরম অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জনই তাদের একত্রিত হওয়ার মূল লক্ষ্য। দৃষ্টান্তস্বরূপ ধরা যাক ১৮৪৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় অথবা এর কয়েক বছর পর ভিক্টোরিয়ায় অকস্মাৎ ত্বরাপূর্ণ স্বর্নমুখী আগমনজনিত আধানৈরাজ্যিক অবস্থার কথা। যিনি আইনসঙ্গতভাবে স্বর্ণের অধিকার পেয়েছেন তিনি তা ব্যাংকে জমা রাখার আগে অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করেছেন বলা যায় না। তার লুণ্ঠিত হওয়ার অথবা খুন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে সে সময় পর্যন্ত। নৈরাজ্যপূর্ণ দেশে যখন সবাই একে-অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধেরত তখন যিনি রিভলবার দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি এবং নিশ্চিতভাবে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করতে পারে তিনি ছাড়া অন্য সবার কাছে স্বর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়ে। তার কাছে এমন চিন্তা করা আনন্দদায়ক যে, কোনোরূপ অর্থ প্রদান ছাড়াই তিনি খুন করার ভয় দেখিয়ে চাহিদা পূরণ করতে পেরেছেন। বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থানরত খাদ্যান্বেষী জনসমষ্টি ছাড়া অন্য কোথাও এ ধরনের অবস্থা স্থিতিশীল হবে না। কৃষিকাজ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় অনধিকার প্রবেশ ও চুরি বন্ধ করতে না পারলে। এটা স্পষ্ট যে স্বর্ণসন্ধানীদের মতো কমবেশি সভ্যলোকের সমন্বয়ে গঠিত নৈরাজ্যিক সমাজে ভিজিল্যান্ট কমিটির অনুরূপ এক প্রকার সরকার দেখা দেয়। একত্রিত হয়ে লুণ্ঠনকারীদের প্রতিহত করবে শক্তিমান ব্যক্তিরা। হস্তক্ষেপের জন্য বাহ্যিক কর্তৃপক্ষ না থাকলে তারা অন্যদেরও লুণ্ঠন করবে, কিন্তু তারা এ ক্ষেত্রে সংযম চর্চা করে থাকে স্বর্ণ ডিমদানে সক্ষম হাঁসের হত্যার ভয়ে। তারা সমাজে নিরাপত্তা বিধান করে মানুষের আয়ের এক অংশের বিনিময়ে। একেই বলে আয়কর। নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে আইন গঠিত হওয়া মাত্রই সামরিক শাসন আইনের ছদ্মাবরণে সজ্জিত হয়। ফলে নৈরাজ্য রহিত হয়ে পড়ে। আজও ভিজিলেন্টদের সামরিক ক্ষমতা হলো আইন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের চরম ভিত্তি।
আইনগত ভিত্তি জটিল। চার্চের সম্পত্তি হলো ঐতিহ্যর্নিভর। শ্রমজীবীরা লাভবান হয়েছে ট্রেড ইউনিয়নের বদৌলতে। স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের অধিকারের ভিত্তি সম্প্রদায়গত নৈতিকতা। সামরিক ক্ষমতা রাষ্ট্রের সর্বপ্রকার অর্থনৈতিক বিধিবিধান বলবৎ করার পেছনে অপরিহার্য।
আইনের প্রাসঙ্গিক অধ্যায় হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত নীতি। আইনের এই অধ্যায় জনমত সমর্থিত হলেই শুধু অন্যান্য অধ্যায়ের মতো কার্যকরী হয়। অষ্টম আদেশ অনুসারে জনমত দ্বারা চুরি নিন্দিত এবং আইনের চোখে নিন্দিত উপায়ে সম্পদ অর্জন চুরি বলে অভিহিত হয়েছে। সুতরা সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতা আসলে নির্ভরশীল মতামতের উপর। যেমন বলা যায়, আইন দ্বারা চুরির সংজ্ঞা প্রদানের মনোভাব সমেত চুরির নৈতিক নিন্দাবাদ। সম্পদ সেখানে বিপন্ন যেখানে মনোভাব দুর্বল অথবা অস্তিত্বহীন। যেমন বলা যায়, সাম্যবাদের স্বার্থে বৃত্তি চর্চার জন্য ধার্মিক সমাজচ্যুত ব্যক্তি হিসেবে জীবন শুরু করেন স্ট্যালিন। আমরা দেখেছি ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অষ্টম অধ্যাদেশ বাধ্যবাধকতা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে পোপের ক্ষমতা ইতালির ব্যাংকারদের নিয়ন্ত্রিত করতে তাকে সামর্থ্য যোগায়।
