নীচ বংশোদ্ভূত কুমারের ছেলে ছিলেন এগথোসল। তার সৌন্দর্যের জন্য তিনি সাইরেকিউসের ডোমাস নামে এক ধনী ব্যক্তির প্রিয় হয়ে ওঠেন। মৃত্যুকালে এই ধনাঢ্য ব্যক্তি সব সম্পত্তি রেখে যান এগগোসলের জন্যে। ধনাঢ্য ব্যক্তির বিধবাকে বিয়ে করেন এগথোসল। এ কথা মনে করা হতো যে,তিনি যুদ্ধে বৈশিষ্ট্য অর্জন করার পর নিষ্ঠুর শাসক হওয়ার উচ্চাভিলাষ পোষন করতেন। তাই তিনি প্রেরিত হন নির্বাসনে। পথিমধ্যে তাকে হত্যা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু পূর্বাভাস পেয়ে তিনি এক গরিব লোকের সঙ্গে তার পোশাক পাল্টে নেন। ফলে ভাড়াটে ঘাতক কর্তৃক নিহত হয় গরিব লোকটি। তিনি একটি সেনাবাহিনী গঠন করেন সিসিলির অভ্যন্তরে। এর ফলে সাইরেকিউসানরা ভীত হয়ে তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। তিনি আবার প্রবেশ করেন এবং সেরেসে শপথ নেন যে, তিনি কিছু করবেন না গণতন্ত্রের পূর্ব ধারণার উপর।
সাইরেকিউস সরকার এই সময় ছিল গণতন্ত্র ও অলিগার্কির মিশ্রণ। ছয়শ লোকের একটি পরিষদ ছিল ধনী মানুষের সমন্বয়ে। এগথোসল ওইসব অলিগার্কের বিরুদ্ধে গরিবের স্বার্থ আদায়ের দায়িত্ব নিলেন। তাদের চল্লিশ জনের সঙ্গে কনফারেন্স চলাকালে তিনি তাদের উপর সৈন্যদের চড়াও হওয়ার নির্দেশ দেন। তাতে নিহত হয় চল্লিশ জনের সবাই। তিনি তাদের বিরুদ্ধে অজুহাত দেখান যে ওরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তিনি সৈন্যদের শহরের দিকে পরিচালিত করেন এবং লুণ্ঠন করার নির্দেশ দেন ছয়শ জনের সবাইকে।
যেমন ডায়াডোরাস বলেন, না তাদেরও নিরাপত্তা ছিল না যারা পালিয়ে গির্জায় ঈশ্বরের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস চূর্ণ করে দেয় মানুষের নিষ্ঠুরতা। নিজেদের দেশে এক গ্রিকের বিরুদ্ধে অন্য গ্রিকের শান্তিকালীন সময়ে এগুলো ঘটেছে, যারা পরস্পরের আত্মীয় ছিল, তাদের একের বিরুদ্ধে অন্যের। এ সময় মোটেই শ্রদ্ধাবোধ ছিল না ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণে প্রকৃতি বা লীগের নিয়ম বা ঈশ্বরের প্রতি। শুধু এমন বর্ণনা নয়, প্রত্যেক শত্রু ও মিথ্যাচারী ব্যক্তিই এসব দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির করুণ অবস্থায় বিচলিত না হয়ে পারেন না।
দিনের বেলা গণহত্যায় লিপ্ত থাকত এগতোসলের মানুষ এবং রাতে চড়াও হতো মহিলাদের উপর। দুদিনের ধ্বংসযজ্ঞের পর এগথোসল সব বন্দিকে বের করে আনেন এবং তার বন্ধু ডায়ানোক্র্যাট ছাড়া সবাইকে হত্যা করেন। তিনি পরিষদ ডেকে অলিগার্কদের অভিযুক্ত করেন। তিনি শহরকে রাজতন্ত্রমুক্ত করে ছাড়বেন বলেন এবং নিজে ব্যক্তিগত জীবনযাপন করবেন। সুতরাং তিনি পোশাক ছেড়ে মুক্তির বেশ ধারণ করেন। কিন্তু যারা তার নিয়ন্ত্রণাধীনে থেকে লুণ্ঠন করেছিল তারা তাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি নির্বাচিত হলেন একমাত্র জেনারেল। ঋণগ্রস্ত গরিবদের ভেতর অনেকেই এই বিপ্লবে আনন্দিত হলো। কারণ এগথোসল প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ঋণ মওকুফ ও গরিবদের ভেতর জমি বন্টনের। এরপর তিনি শান্ত ছিলেন কিছুকাল।
এগথোসল যুদ্ধের সময় সম্পদশালী এবং সাহসী কিন্তু হঠকারী ছিলেন। এমন সময় এলো যখন অনুভূত হলো যে কার্তেজদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী, তখন কার্তেজরা সাইরেকিউস অবরোধ করল এবং পোতাশ্রয় দখল করে নিল তাদের নৌবাহিনী। এগথোসল আফ্রিকা চলে যান বিরাট সৈন্যবাহিনী নিয়ে। সেখানে তিনি জাহাজ পুড়িয়ে ফেলেন, যাতে এগুলো কার্তেজদের হাতে না পড়ে। তার অবর্তমানে বিদ্রোহ হতে পারে এই ভয়ে তিনি প্রতিভূ হিসেবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে যান। এক সময় প্রতিনিধিত্বকারী তার ভ্রাতা কার্তেজদের বন্ধুভাবাপন্ন আট হাজার রাজপ্রতিনিধির সবাইকে নির্বাসনে পাঠান। তিনি বিস্ময়করভাবে আফ্রিকায় সফল হন। তিনি তিউনিস দখল করে নেন এবং কার্তেজ অবরোধ করেন, যেখানে সরকার ভীত হয়ে দেবতাকে শান্ত করতে বসেছিলেন। দেখা গেল যে, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলিদানের জন্য উপযুক্ত ছেলেমেয়েদের পিতামাতা তাদের পরিবর্তে গরিব ছেলেমেয়েদের ধরে নিতে অভ্যস্ত। তীব্রভাবে প্রতিরোধ করা হলো এই অভ্যাস। কারণ জানা গেল যে, মলক দেবতা অধিকতর সন্তুষ্ট অভিজাত ছেলেমেয়েদের বলিদানে। এই সংস্কারের পর আবার পরিবর্তিত হয় কার্তেজদের ভাগ্য।
এগথোসল সিরিনে দূত পাঠান অতিরিক্ত সাহায্যের প্রয়োজন মনে করে। অপেলার কর্তৃত্বাধীন টলেমির অধীন ছিল সিরিন আলেকজান্ডারের একজন ক্যাপ্টেন। দূতরা এমন বলতে আদিষ্ট হয়েছিল যে, অপেলার সাহায্যে কার্তেজদের ধ্বংস করা সম্ভব এবং শুধু সিসিলিতেই এগথোসল নিরাপদ হতে চেয়েছিলেন। তার কোনো অভিলাষ নেই আফ্রিকায়। তাছাড়া অপেলার অংশ থাকবে আফ্রিকায় তাদের যুক্ত বিজয়ে। অপেলা এ ধরনের কষ্টের পর মিলিত হলেন এগথোসলের সঙ্গে। অবিলম্বে এগোসল তাকে হত্যা করেন এবং সৈন্যদের বলে দেন, তাদের মৃত নেতার হত্যাকারীর অধীনে চাকরি গ্রহণ করা তাদের নিরাপত্তার একমাত্র পথ।
এরপর ইউটিকা অবরোধ করেন এগথোসল এবং অকস্মাৎ উপস্থিত হয়ে বন্দি করে ফেলেন মঠের ভেতর তিনশ লোকের সবাইকে। তিনি তাদেরকে অবরোধ কৌশলের পুরোভাগে রাখেন, যাতে ইউটিকানরা তাদের নিজেদের মানুষ ধ্বংস হবে এমন আশংকায় আক্রমণ করতে না পারে। সফল হলেও এই অভিযান অবস্থান কঠিন ছিল। আরও কঠিন এ কারণে ছিল যে, তার ছেলে আরচাগেথাচ সেনাবাহিনীর ভেতর অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এজন্য তিনি গোপনে সিসিলিতে পলায়ন করেন। তার পলায়নে ক্রুদ্ধ হয়ে সৈন্যরা তার এক ছেলের সহায়তায় আরচাগেথাচকে হত্যা করে। এতে তিনি এত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যে, সাইরেকিউসে তিনি এসব সৈন্যর আত্মীয় প্রত্যেক শিশু, মহিলা ও পুরুষকে হত্যা করেন।
