২. দ্বিতীয় জুলিয়াস, Pope Julius II (১৪৪৩-১৫১৩)। তিনি বিখ্যাত রোমান রাজা এবং ধর্মগুরু ছিলেন। তখনো চার্চ এবং রাষ্ট্র আলাদা হয়নি। তাঁর বীরত্বের খ্যাতি এবং যোদ্ধা পোপের জন্যে তিনি ‘Papa Terrible’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন।
৩. মাইকেল এঞ্জেলো, Michael Angelo (১৪৭৫-১৫৬৪)। ইটালির নবজাগরণের যুগের (Renaissance) বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী, তার চিত্রকলা আধুনিক মানুষদের কাছে বিস্ময়।
৪. হার্ডি, Thomas Hardy (১৮৪০-১৯২৯)। ভিক্টোরীয় যুগের কবি এবং ঔপন্যাসিক। তাঁর সাহিত্যে নিষ্ঠুর নিয়তি এবং জীবনের গভীর দুঃখবাদের প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁকে ‘English Author of the naturalist movement’ রূপে অভিহিত করা হয়। ৫. ইফ্রেইম ও মানাস, Ephraim and Manasseh, বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old Testament)– এ বর্ণিত যোসেফের দুই পুত্র। সুসমাচারের (Gospel) অন্তর্লীন সত্যের আবিষ্কর্তা, যাতে নির্দেশিত হয়েছে খ্রিস্টবাদীদের জীবনযাপনের বিধি এবং অনন্ত জীবনের কথা।
১১. উদ্দীপনা
এই অধ্যায়ে, যাকে সুখী মানুষের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য এবং বিশ্বজনীন চিহ্ন বলে মনে করি, সেই উদ্দীপনা নিয়ে আলোচনা করব।
এই উদ্দীপনা বলতে কী বোঝায় সম্ভবত তা বুঝিয়ে বলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে মানুষ ভোজনের সময় বিভিন্নভাবে যে আচরণ প্রকাশ করেন তা নিয়ে আলোচনা করা। আহারের বস্তু যত ভালই হোক, অনেকের কাছে আহার শুধুই বিরক্তিকর, তারা এতে কোনও স্বাদ পান না। আগে তারা উৎকৃষ্ট খাদ্য খেয়েছেন সম্ভবত প্রত্যেক আহারের সময়। ক্ষুধা অতি কাতর না হওয়া পর্যন্ত না খেয়ে থাকার কোনও অভিজ্ঞতা তাদের নেই এবং তারা যে সমাজে বাস করেন সেই সমাজের আচরিত রীতি হিসাবেই তারা খাদ্যকে দেখেছেন। অন্যান্য সব কিছুর মতো আহারও তাদের কাছে ক্লান্তিকর। কিন্তু এটা নিয়ে অকারণ ব্যস্ত হওয়া অর্থহীন। কারণ অন্য কোনও কিছুই এর চেয়ে কম ক্লান্তিকর নয়। তারপর ধরুন স্বাস্থ্যহীনদের কথা, তারা কর্তব্যবোধ থেকে খান, কারণ চিকিৎসকের নির্দেশ হল দেহের পুষ্টির জন্যে কিছু তাদের খেতেই হবে। তারপর ভোজনবিলাসীদের কথা, তারা খুব আশা নিয়ে শুরু করেন, কিন্তু তারপর দেখেন রান্না যতটা ভাল হওয়া উচিত ছিল তা হয় নি। তারপর পেটুকদের কথা। যারা খাওয়ার আয়োজন দেখলেই লোলুপের মতো খেতে থাকে এবং বেশি খেয়ে ফেলেন। তারপর অতিভোজনের অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন। সবার পরে যাদের কথা বলছি তারা ভাল ক্ষুধা নিয়ে খেতে বসেন, আনন্দের সঙ্গে যতটা প্রয়োজন ততটাই খান এবং শেষ করেন। আর যারা জীবনের ভোজে বসেছেন, জীবনের যা কিছু সুন্দর তার প্রতিও তাদের আগ্রহ সমতুল্য। ভোজনকারীদের মধ্যে সবার শেষে যার কথা বললাম, তিনি সুখী মানুষের অনুরূপ। ক্ষুধার সাথে খাদ্যের যে সম্পর্ক, জীবনের সাথে উদ্দিপনারও তাই। যে মানুষ আহারে বিরক্তিবোধ থেকে আহার করেন তিনি তপস্বীর সমতুল্য। আর পেটুক ইন্দ্রিয়বিলাসীর সগোত্র। পেটুক ছাড়া অন্য সকলে, যে ব্যক্তি স্বাভাবিক ক্ষুধা বোধ করে তাকে ভালভাবে দেখে না এবং নিজেদের তার অপেক্ষা উচ্চস্তরের মনে করেন। ক্ষুধার খাদ্যকে উপভোগ করা এদের কাছে অমার্জিতসুলভ আচরণ এবং জীবনকে উপভোগ করাও তাই। কারণ জীবন বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর ঘটনায় পূর্ণ এবং বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার উৎস। যাদের তারা সাধারণ মানুষ বলে তুচ্ছ করেন তাদের মোহমুক্তির উচ্চতা থেকে নিচের স্তরের মানুষরূপেই দেখেন। আমি এই দৃষ্টি ভঙ্গীকে মোটেই সমর্থন করি না। সবরকম মোহমুক্তিকেই আমি একটি রোগ বলে মনে করি। কোনও বিশেষ অবস্থায়, বিশেষ কোনও বিষয়ে অনিবার্যরূপে মোহমুক্তি ঘটতে পারে, একথা সত্যি; কিন্তু যখনই ঘটুক অবিলম্বে সেই রোগটা সারিয়ে নেওয়া উচিত এবং তাকে জ্ঞানের উচ্চতর পর্যায়রূপে ভাবা ঠিক নয়। ধরা যাক কোনও একজন লোক স্ট্রবেরি ফল খেতে পছন্দ করেন, অন্যজন পছন্দ করেন না, তাহলে কোন্ দিক থেকে পরের লোকটি আগের জনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হন? সেইসব স্ট্রবেরি ভাল অথবা ভাল নয় তার কোনও বস্তু বা ব্যক্তিনিরপেক্ষ প্রমাণ নেই। যিনি স্ট্রবেরি পছন্দ করেন তার কাছে ওটা ভাল, যিনি করেন না তার কাছে ওটা ভাল নয়। কিন্তু যিনি পছন্দ করেন, তিনি তার থেকে একটা আনন্দ পান, অন্যে তা পান না। তাই যিনি আনন্দ পান, তার কাছে ততটুকু উপভোগ্য এবং যে পৃথিবীতে দুইজনকেই বাস করতে হয়, সেখানে তিনিই বেশি মানিয়ে নিতে পারবেন। এই তুচ্ছ বিষয়ে যা সত্যি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাই সত্যি। যে ব্যক্তি ফুটবল খেলা দেখে আনন্দ পান, আর যিনি পান না, তার চেয়ে সেই পরিমাণ বড়, যে ব্যক্তি বই পড়ে আনন্দ পান, আর যিনি পান না, তার চেয়ে আরো বেশি বড়, কারণ বই পড়ার সুযোগ অনেক বেশি পাওয়া যায় ফুটবল খেলা দেখার চেয়ে। যিনি যত বেশি জিনিসে উৎসাহী, তার জন্যে আনন্দের উপকরণ ততটাই বেশি। কারণ ভাগ্যের দয়ার ওপর তিনি নির্ভরশীল নন। কারণ তিনি একটা হারালে অন্যটা খুঁজে নিতে পারেন। মানুষের জীবনায়ু বড় কম, তাই সব বিষয়ে উৎসাহী হওয়া যায় না। কিন্তু সময়কে ভরিয়ে রাখার জন্যে যত বেশি বিষয়ে উৎসাহী হওয়া যায় তত ভাল। আমরা সকলেই অন্তবৃত রোগের প্রবণতার দিকে ঝুঁকে থাকি, যিনি তার সামনে পৃথিবীর বিচিত্র সব দৃশ্য ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও দৃষ্টিকে ফিরিয়ে অন্তশূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা যেন এমন কিছু কল্পনা না করি যে এই অন্তত মানুষটির অসন্তোষের মধ্যে চমকপ্রদ কিছু রয়েছে।
