‘গুডবাই মিষ্টার চিপস্’ আর ‘ফর হুম দি বেল টোলস্’–এর মত ছবি পরিচালনা শুরু করার আগে স্যাম উড বহু বছর সম্পত্তি বেচা–কেনার কারবারে কাটিয়েছিলেন, তাঁর কাজ ছিলো ব্যবসার কাজে ব্যক্তিত্ব তৈরি করা। তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে ব্যবসা জগতে যে নীতি চলে ঠিক সেই নীতিই আবার চলে চলচ্চিত্র জগতটাতেও। বনমানুষের মত নকল নবীশ হয়ে কোথাও পৌঁছনো যায় না, এমন কি তোতাপাখি হয়েও লাভ নেই। স্যাম উড আরও বলেন, অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আমি শিখেছি, যে সমস্ত লোক তারা যা নয় সেটাই হবার ভান করে তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদেয় করা যায় ততই নিরাপদ হওয়া যায়।
আমি কিছুদিন আগে সোকোনি–ভ্যাকুয়াম অয়েল কোম্পানীর চাকুরী সংক্রান্ত নিয়োগ বিষয়ে ডাইরেক্টর পল বয়েনটুনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম চাকরির আবেদন করার সময় মানুষ সবচেয়ে বড় ভুল কি করে? তাঁর একথা জানা আছে অবশ্যই, কারণ জীবনে তিনি প্রায় ষাট হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি আবার ‘চাকরি পাওয়ার ছ’টি উপায়’ নামে একখানা বইও রচনা করেছেন। তিনি জবাবে বলেছিলেন : চাকরির আবেদন করার সময় মানুষ সবচেয়ে বড় যে ভুল করে তা হলো তারা আত্মবিস্মৃত হয়ে পড়ে। নিজেদের প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে তারা মোটেই খোলাখুলি সবকথা বলতে চায় না, বরং এটা না করে তারা এমন সব উত্তর দেয় যা তারা মনে করে আপনি এতে খুব খুশী হবেন। তবে এতে কাজ হয় না কারণ কেউই গোপনীয়তাপ্রিয় মানুষকে চায়না। যেহেতু কোন মানুষই জাল মুদ্রা চায় না।
এই ব্যাপারটা একজন গাড়ির কন্ডাকটারের মেয়েকে বেশ কষ্ট করেই শিখতে হয়েছিলো। সে একজন গায়িকা হতে চেয়েছিলো, কিন্তু ওর দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে উঠেছিলো ওর মুখোনা। ওর মুখ বেশ বড় আর দাঁতগুলো সামনের দিকে বেরোনো অবস্থায় থাকতো। সে যখন প্রথম জনসাধারণের সামনে গানে অংশ নেয়–নিউ জার্সির এক নাইট ক্লাবে–সে বারবার গান গাওয়ার ফাঁকে উপরের ঠোঁট দিয়ে দাঁত ঢাকার চেষ্টা করছিল। সে অবশ্য আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেকে সুন্দরী প্রমাণ করতে চাইছিলো। এর ফল কি হলো? সে নিজেকে হাস্যকর করে তুললো। ব্যর্থতার দিকেই সে এগিয়ে চলছিলো।
যাই হোক, ওই নাইট ক্লাবে একজন ছিলেন, তিনি মেয়েটিকে গান গাইতে দেখে বুঝেছিলেন ওর প্রতিভা আছে। এই যে শোনো, ভদ্রলোক সোজাসুজি বলে ফেললেন, আমি তোমায় গান গাইতে দেখেছিলাম আর আমি জানি তুমি কি লুকোবার চেষ্টা করছো। তুমি তোমার দাঁতের জন্য লজ্জা পাচ্ছো। মেয়েটি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেলো, তবুও ভদ্রলোক বলে চললেন, এতে হয়েছে কি? এরকম দাঁত থাকা কি অপরাধ? এটা লুকোবার চেষ্টা করো না! মুখ খুলেই গান গাইবার চেষ্টা করো তাতে শ্রোতারা বুঝতে পারবে তুমি লজ্জিত নও। তাছাড়া ভদ্রলোক বেশ দূরদৃষ্টি নিয়ে বললেন, যে দাঁত তুমি লুকোনোর চেষ্টা করছো তাই হয়তো তোমাকে একদিন ঐশ্বর্য এনে দেবে!
ক্যাস ডেলি ভদ্রলোকের উপদেশে সত্যিই দাঁতের কথা ভুলে গেলো। ওই সময় থেকেই মেয়েটি শুধু ওর শ্রোতাদের কথাই ভাবতে লাগলো। সে মুখ খুলে এমন দরাজ স্বরে আর আনন্দে গাইতে আরম্ভ করলো যে অল্পদিনের মধ্যেই সে বেতার আর চলচ্চিত্রে শিল্পী হয়ে উঠলো। এখন অন্যান্য কমেডিয়ান তাকেই নকল করার চেষ্টা করছে।
বিখ্যাত উইলিয়াম জেমস একবার কিছু লোকের কথা বলেছিলেন যারা নিজেদের চিনতে পারে না। তাঁর মতে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাত্র শতকরা দশ ভাগই নিজেদের মানসিক শক্তির উজ্জীবন ঘটাতে পারে। তিনি লিখেছিলেন, আমাদের যা হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আমরা অর্ধ জাগরিত। আমরা আমাদের শারীরিক আর মানসিক ক্ষমতার সামান্য অংশই কেবল কাজে লাগাতে পারি । ভালো করে বলতে গেলে একজন মানুষ নিজের খোলসের মধ্যেই থেকে যায়। তার বহু ধরণের চাপা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে তার অনেকটাই কাজে লাগাতে পারে না।
.
আমার বা আপনার এই ক্ষমতা আছে তাই আমরা অন্য লোকের মত নই একথা ভেবে আর এক মহর্ত সময়ও নষ্ট করা উচিত নয়। এ পৃথিবীতে আপনারও কিছু নতুনত্ব আছে। সময়ের আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত ঠিক আপনার মত কেউ জন্মায় নি, আর আগামী হাজার হাজার বছরেও ঠিক আপনার মতই আর কেউ কখনই জন্মাবে না। আধুনিক জীবন বিজ্ঞান থেকে জানা যায় আপনি হলেন আপনার বাবা আর মায়ের প্রত্যেকের দেওয়া চব্বিশটি করে ক্রোমোসোম থেকে জন্ম নেওয়া একজন। এই চব্বিশটি আর চল্লিশটি অর্থাৎ আটচল্লিশটি ক্রোমোসোমই জানিয়ে দিচ্ছে আপনি যা তাই! আমরাম শিনফিল্ড বলেছেন, প্রতিটি ক্রোমোসোমে কুড়ি থেকে একশটা পর্যন্ত জিন থাকতে পারে–আর একটা মাত্র জিনই কোন কোন ক্ষেত্রে একজনের সারা জীবনধারাই বদলে দিতে পারে। সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা বেশ ভিত্তিকর আর অপূর্ব কিছু দিয়েই তৈরি।
আপনার জন্মের সময় এটা কোটি কোটি বারের মধ্যে একবারও জানা সম্ভব ছিলো না ঠিক আপনারই জন্ম হবে! অন্যভাবে বললে আপনার যদি কোটি কোটি ভাই বোন থাকতো তাহলেও আপনি হতেন তাদের চেয়ে আলাদা। এটাকে কি আন্দাজ বলে ভাবছেন? না, এটা বিজ্ঞানসম্মত সত্য। এ সম্পর্কে সত্যিই যদি কিছু জানতে আগ্রহী হন তাহলে লাইব্রেরীতে গিয়ে আমরাম শিনফিল্ডের ‘আপনি ও বংশধারা’ বইটা পড়ে ফেলুন।
