শোধ নেবার চেষ্টা কিভাবে আপনার ক্ষতি করতে পারে? নানা ভাবেই তা পারে। লাইফ পত্রিকার ভাষা অনুযায়ী এতে আপনার স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হতে পারে। ব্যক্তিত্বময় রক্তচাপ সম্পন্ন মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ঘৃণা। যখন ঘৃণা দীর্ঘকালীন হয় তখনই সঙ্গী হয় দীর্ঘকালের রক্তচাপ আর হার্টের অসুখ।
অতএব দেখছেন যখন যীশু বলেছিলেন, ‘আপনার শত্রুকে ভালোবাসুন’, তখন তিনি শুধু নীতিশাস্ত্রের কথাই বলেন নি। তিনি বিংশ শতাব্দীর চিকিৎসাশাস্ত্রের কথাও বলেছেন। তিনি যখন বলেন, শতশতবার ক্ষমা কর তখন তিনি আপনাকে আর আমাকে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ, পাকস্থলীর আলসার এবং অন্যান্য বহু রোগ থেকে কিভাবে দূরে থাকতে হয় সেটাই বলেছিলেন।
আমার এক বন্ধুর সম্প্রতি সাংঘাতিক হৃদরোগ হয়। তার চিকিৎসক তাকে চুপচাপ শুয়ে থাকতে বলেছিলেন আর বলেছিলেন যাই ঘটুক না কেন কোনরকম ক্রুদ্ধ হওয়া চলবে না। ডাক্তাররা জানেন আপনার যদি হৃৎপিণ্ড দুর্বল থাকে তাহলে আচমকা রাগ আপনার মৃত্যু ঘটাতে পারে। মৃত্যু ঘটাতে পারে বলেছি? এই রাগ সত্যিই একজন রেস্তোরাঁ মালিকের মৃত্যুর কারণ হয়। এটা ঘটে কবছর আগে ওয়াশিংটনের স্পোকেনে। আমার সামনেই স্পোকেনের পুলিশ দপ্তরের পুলিশ প্রধানের একখানা চিঠি রয়েছে, তাতে তিনি লিখেছেন : ক’বছর আগে স্পোকেনের এক রেস্তোরাঁর মালিক আটষট্টি বছরের মিঃ উইলিয়াম থডেবার রেস্তোরাঁর পাঁচকের উপর প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন। এমনই তার রাগ হয় রিভলবার বের করে তিনি পাঁচককে তাড়া করেন আর তৎক্ষণাৎ পড়ে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যারা যান–হাতে তখনও রিভলবারটা ধরা। করোনারের বক্তব্য ছিল প্রচণ্ড রাগের ফলে হৃদরোগে মৃত্যু।
যীশু যখন বলেছিলেন ‘শত্রুকে ভালোবাসো’, তখন তিনি এটাই বলেছেন কি করে আমরা চেহারা ভালো রাখতে পারি। আমি বা আপনি জানি, যেসব মেয়েদের মুখ কুঁচকে গেছে বা চেহারা শুকিয়ে গেছে। তা ঘৃণারই পরিণতি। পৃথিবীর সবরকম চিকিৎসাতেও এটা ভালো হবে না। কিন্তু ক্ষমা, নমনীয়তা আর প্রেমে তাদের চেহারার উন্নতি হতে পারে।
ঘৃণা আমাদের খাদ্যকেও বিস্বাদ করে তোলে। বাইবেলে ব্যাপারটা এই ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে : ঘৃণার সঙ্গে মোটা ভেড়ার মাংসের চেয়ে প্রেমময় নিরামিষ খাদ্যই শ্রেয়।
আমাদের শত্রুরা যদি জানতে পারে তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণা আমাদের কিভাবে শেষ করে ফেলছে, নার্ভাস করছে আর সৌন্দর্য নষ্ট করছে, হৃদরোগ আনছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে জীবনীশক্তি নিঃশেষ করছে তাহলে তারা আনন্দে লাফাতো।
আমরা যদি শত্রুদের ভালোবাসতে নাও পারি অন্ততঃ নিজেদের ভালোবাসি আসুন। নিজেদের এমন ভাবে ভালোবাসতে হবে যে কিছুতেই শত্রুদের আমরা আমাদের সুখ, স্বাস্থ্য বা চেহারা নষ্ট করতে দেব না। শেক্সপীয়ার যেমন বলেছিলেন :
শত্রুর জন্য এমন উত্তাপ সৃষ্টি করবেন না যাতে নিজেই দগ্ধ হবেন।
যীশু যখন বলেছিলেন শতশতবার শত্রুকে ক্ষমা কর, তিনি তখন দরকারী কথাই বলেছিলেন। যেমন ধরুন, একখানা চিঠির কথা বলি। চিঠিখানি লিখেছেন সুইডেন থেকে জর্জ রনা। তিনি সুইডেনের একজন অ্যাটর্নী। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তিনি ভিয়েনা থেকে সুইডেনে পালান। তাঁর কোন টাকা পয়সা না থাকায় কাজের খোঁজ করছিলেন। যেহেতু তিনি বহু ভাষায় লিখতে কইতে পারতেন তাই আমদানী রপ্তানীর কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ পাবেন ভেবেছিলেন। সবাই জানাল যুদ্ধের জন্য তাদের লোক দরকার নেই, তবে নামটা তারা ফাঁইলে লিখে রেখে ছিলেন…। একজন লিখেছিলেন : আমার ব্যবসা সম্বন্ধে আপনি যা ভাবেন তা ঠিক নয়। আপনি ভুল করেছেন এবং আপনি মহামুখ । আমার কোন পত্রলেখক চাই না। যদি দরকার হয়ও আপনাকে নেব না কারণ আপনি ভালো সুইডিশ ভাষায় লিখতে পারেন না, আপনার চিঠিতে অসংখ্য ভুল।
জর্জ রনা যখন চিঠিটা পেলেন তখন রেগে আগুন হয়ে গেলেন। লোকটা ভেবেছে কি আমি সুইডিশ ভাষায় লিখতে পারি না। বরং লোকটা যা লিখেছে তাই ভুলে ভরা! প্রত্যুত্তরে জর্জ রনা যা একটা চিঠি লিখলেন তাতে লোকটা জ্বলে পুড়ে মরবে। এবারই রণা একটু থামলেন। তিনি নিজেকে বললেন : এক মিনিট দাঁড়াও। কিভাবে বুঝলে লোকটা ঠিক বলেনি? আমি সুইডিশ ভাষা শিখেছি বটে তবে তা আমার মাতৃভাষা নয়, অতএব ভুল করতেও পারি। তাই কাজ পেতে গেলে আরও ভালো করে ভাষাটা শিখতে হবে এই লোকটা পরোক্ষ ভাবে উপকারই করেছে। ওর কাছে ঋণী রইলাম! অতএব সে যা করেছে তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখব।
অতএব জর্জ রনা এবার আগের চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলে নতুন একটা চিঠি লিখলেন : আপনি একজন পত্রলেখক না চাইলেও কষ্ট করে যে চিঠিটা লিখেছেন তার জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুল করার জন্য দুঃখিত। আপনাকে চিঠি লেখার কারণ হল আপনাদের কারবারই শ্রেষ্ঠ শুনেছিলাম। জানতাম না চিঠিতে ব্যাকরণ ভুল করেছি। আমি এজন্য দুঃখিত ও লজ্জিত। এরপর থেকে ভুল সংশোধন করার জন্য ভালো করে সুইডিশ ভাষা শিখব। আত্মোন্নতির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
কয়েক দিনের মধ্যেই জর্জ রনা লোকটির কাছ থেকে উত্তর পেলেন, তিনি তাঁকে দেখা করতে বলেছেন। রনা দেখা করলেন–আর একটা কাজও পেলেন। জর্জ রনা এইভাবেই আবিষ্কার করলেন যে নরম উত্তর দিলে রাগ জল হয়ে যায়।
