যাকে আমরা অকল্যাণ বলে থাকি…তাকে সঙ্কজেই কল্যাণকর সালসা তৈরি করা ও সম্ভব। যে মানুষ দুর্ভাগ্যতাড়িত তার উচিত মন থেকে ভয় দূর করে লড়াই করা।
আসুন আমরা আমাদের সুখের জন্য যুদ্ধ করি।
আসুন এজন্য আমরা প্রত্যেক দিনের প্রফুল্লতা আর গঠনমূলক কাজের কার্যসূচী তৈরী করি। এই কার্যসূচীকে নাম দিতে পারি ‘শুধু আজকের জন্য।’ এটা আমার এত ভালো লেগেছিল যে শয়ে শয়ে কপি বিলিয়েছি। এটা ছত্রিশ বছর আগে প্রয়াত সিবিল এফ প্যাট্রিজ লিখেছিলেন। যদি এটা আমরা মেনে চলি তাহলে আমাদের দুশ্চিন্তার আবেগটা কেটে গিয়ে আনন্দের ভাগ ঢের বেড়ে যাবে।
শুধু আজকের জন্য
(১) শুধু আজকের জন্য আমি সুখী হব। এতে বোঝা যায় আব্রাহাম লিঙ্কন যা বলেছেন তাই ঠিক যে ‘অধিকাংশ মানুষই যতখানি খুশী হতে চায় তাদের মন যা চায় ততটাই তারা তাই হয়।’ সুখ বাইরের বস্তু নয়। এ হলো অন্তরের।
(২) শুধু আজকের জন্য যা ঘটে তাকে গ্রহণ করব, আমার ইচ্ছেমতো সেটা করতে চাইব না। আমি আমার পরিবার, ব্যবসা আর ভাগ্য যেমন আসবে তাকে সেই ভাবেই মেনে নেব।
(৩) শুধু আজকের জন্য আমার শরীরের যত্ন নেব। আমি ব্যায়াম করব, যত্ন করব, শরীরকে অবহেলা করব না। কারও দোষ খুঁজব না, কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা উন্নত করার চেষ্টা করব না।
(৪) শুধু আজকের জন্য মনকে আমি সবল করার চেষ্টা করব। দরকারী কিছু শিক্ষা করব আমি এমন কিছু পড়তে চেষ্টা করব যাতে চেষ্টা দরকার। সেইসঙ্গে দরকার চিন্তা আর মনঃসংযোগ।
(৫) শুধু আজকের জন্য আমার আত্মাকে তিনটি পথে সক্রিয় করব। আমি একজনের কোন উপকার করব কিন্তু নিজের পরিচয় জানাবো না। যা করতে চাই না–এমন দুটো কাজ করব উইলিয়াম জেমসের উপদেশ মত। কেবল অভ্যাসের জন্যই এই সব কাজ করব।
(৬) শুধু আজকের জন্য আমি প্রীতিময় থাকব। আমি আজ বাহ্যিকভাবে সুদর্শন থাকতে, পোশাক পরতে চেষ্টা করব। আমি ধীরে কথা বলব, শিষ্ট থাকব। আমি অপরের প্রশংসা করব। কোন সমালোচনা করব না। শুধু আজকের জন্য আজকের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করবো। সারা জীবনের সমস্যা নিয়ে একসাথে মাথা ঘামাবো না। আমি বারো ঘন্টার জন্য কোন কাজ করতে পারি তবে তা সারা জীবন ধরে করে চলব না। শুধু আজকের জন্য একটা কাৰ্যসূচী রাখব। প্রতি ঘণ্টায় কি করব তার হিসেব রাখব। আমি যে সব সময় তা মেনে চলব তা নয়, তবু তা সত্ত্বেও রাখব। এতে দুটো জিনিস ধ্বংস হবে তাহল–ব্যস্ততা আর অনির্দিষ্টতা।
(৯) শুধু আজকের জন্য আধঘন্টা একাকী বিশ্রাম নেব। এই আধ ঘন্টায় ঈশ্বরের চিন্তা করব যাতে জীবনকে প্রকৃত উপলব্ধি করতে পারি।
(১০) শুধু আজকের জন্য আমি ভয় পাব না। অন্তত সুখী হতে ভীত হব না। যা ভাল অর্থাৎ সেই সুন্দরকে নির্ভীকভাবে পূজা করব, এবং যাদের ভালোবাসি তাদের বিশ্বাস করতে চাইব যে তারাও আমায় ভালোবাসে।
শান্তি ও সুখের জন্য যদি মনকে সুদৃঢ়ভাবে তৈরি করতে চান তাহলে এই নিয়মটি মেনে চলুন : হাসি মুখে চিন্তা করে কাজ করুন, দেখবেন তাহলেই প্রফুল্লতা সত্যিই আসবে।
১৩. হিংসা ও ঘৃণার পরিণতি
বহু বছর আগে ইয়োলোস্টোন পার্কে যখন বেড়াচ্ছিলাম তখন ভ্রমণার্থীদের সঙ্গে বসে ঘন পাইনবনের ঝোঁপের দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। ঠিক তখনই আমরা যে জন্তুটিকে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম সেই জঙ্গলের আতঙ্ক এক প্রকাণ্ড আকারের গ্রিসূলি ভালুক আলোয় বেরিয়ে এসে পার্কের হোটেলের জমা করা জঞ্জাল ঘাটতে আরম্ভ করল। জঙ্গলের একজন শিকারী মেজর মার্টিনডেল ঘোড়ায় চড়ে ভ্রমণার্থীদের ভালুক সম্বন্ধে নানা কাহিনী শোনালেন। তিনি বললেন ওই গ্রিলি ভালুক একমাত্র বন্য মহিষ আর কোডিয়াক ভালুক ছাড়া পশ্চিম জগতের কোন জানোয়ারকেই ভয় করে না। অথচ আমি সে রাতে দেখলাম গ্রিসলি ভালুকটা সে রাতে একটা জন্তুকে বাইরে এনে ওর সঙ্গে খেতে দিল। জন্তুটা একটা স্কাঙ্ক। অথচ ভালুকটা জানত ওর থাবার এক আঘাতেই ও ছোট্ট স্কাঙ্কটাকে শেষ করে দিতে পারে। কিন্তু সে তা করল না কেন? কারণ সে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জেনেছিল এতে কোন লাভ হয় না।
এটা আমিও আবিষ্কার করি। আমার ছেলে বয়সে কাজ করার সময় আমি চার পেয়ে বহু স্কাঙ্ক ধরেছি আর নিউইয়র্কের ফুটপাথে হাঁটার সময় বহু দুপেয়ে স্কাঙ্কও দেখেছি। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি এই দুজাতের জীবকেই ঘাঁটিয়ে লাভ হয় না।
আমরা যখন আমাদের শত্রুদের ঘৃণা করি তখন তারা মানসিক দিক দিয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমাদের ঘুম, হজমশক্তি, ব্লাড প্রেসার, স্বাস্থ্য আর আমাদের সুখের উপর প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের শত্রুরা যদি জানতে পারত তারা কিভাবে আমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে ক্ষতি করে চলেছে তাহলে তারা আনন্দে নাচতে থাকতো। আমাদের ঘৃণা তাদের কোনই ক্ষতি করে না বরং সে ঘণা। আমাদেরই দিনরাতকে নরক করে তোলে। এই কথাটা কে বলেছিলেন জানেন? স্বার্থপরেরা যদি আপনাদের উপর টেক্কা দিতে চায় তাহলে তাদের তুচ্ছ জ্ঞান করে বাতিল করুন, শোধ নেবার দরকার নেই। যখন শোধ নেবার চেষ্টা করবেন, জানবেন তার ক্ষতি করার চেয়ে নিজেরই বেশি ক্ষতি করবেন। ..কথাটা শুনে মনে হয় কোন বিখ্যাত আদর্শবাদীর উক্তি। কিন্তু তা নয়। কথাটা মিলওয়াকির পুলিশ দপ্তরের এক বুলোটিনে বের হয়।
