তাদের যখন স্বাভাবিক অবস্থার পরীক্ষা করা হলো, তারা গড়ে ১০১ পাউন্ড টানতে পেরেছিল ।
তিনি তাদের সম্মোহিত করে যখন বলেন তারা খুব দুর্বল, তারা মাত্র ২৯ পাউণ্ড ওজন টানতে পারে। তখন দেখা গেল তারা কেবল মাত্র ২৯ পাউণ্ড ওজন টানতে পেরেছে। এদের একজন আবার চ্যাম্পিয়ন লডিয়ে! তাকে যখন সম্মোহিত করা হয়, সে বলেছিল তার নিজের হাত শিশুর মতই লাগছিল।
এরপর ক্যাপ্টেন হ্যাঁডফিল্ড তাদের যখন সম্মোহিত করে বললেন তাদের দেহে প্রচণ্ড শক্তি, তারা তখন গড়পড়তা ১৪২ পাউণ্ড টানতে পারলো। তাদের মনে শক্তির কথা জেগে উঠতেই তাদের দৈহিক শক্তি প্রায় শতকরা পঁচশ ভাগই বেড়ে যায়।
মানসিক অবস্থার এই হল অবিশ্বাস্য ক্ষমতার উদাহরণ।
.
চিন্তার যাদুকরী ক্ষমতা বোঝানোর জন্য আমেরিকার ইতিহাসের পাতা থেকে কিছু উদাহরণ রাখা যাক। কাহিনীগুলো সত্যিই আশ্চর্যজনক সন্দেহ নেই। এসব নিয়ে একখানা বইও লিখতে পারি। তবে ছোট করেই বলি। এক কুয়াশাচ্ছন্ন গৃহযুদ্ধের কিছু পরে অক্টোবরের রাত–একজন গৃহহারা দুঃস্থ মহিলা যিনি অনবরত পৃথিবীতে সৎ পথেই চলেছেন তেমন একজন মহিলার দরজায় কড়া নাড়লেন। সেই মহিলার নাম ‘মা ওয়েবস্টার’ তিনি জনৈক অবসর প্রাপ্ত জাহাজের ক্যাপ্টেনের স্ত্রী, থাকতেন ম্যাসাচুসেটসে।
দরজা খুলে মা ওয়েবস্টার দেখলেন দাঁড়িয়ে আছে অতি দুর্বল, রুগ্ন ছোটখাটো একটা দেহ, ওজন হবে বড়জোর হাড়মাস মিলিয়ে একশ পাউন্ড । আগন্তুক ছিলেন মিসেস গ্লোভার, তিনি তাঁকে জানালেন সারা দিনরাত একটা সমস্যা নিয়ে ভাবতে চান। এমন একটা সমস্যা নিয়ে ভাবনার জন্য তিনি একটা বাড়ি চান।
এখানেই তাহলে থাকুক না কেন : মিসেস ওয়েবস্টার বললেন। এবাড়িতে আমি একদম একা।
মিসেস গ্লোভার হয়তো মা ওয়েবস্টারের কাছে অনির্দিষ্টকালই থেকে যেতেন। কিন্তু তা সম্ভব হল না। একদিন গৃহকর্ত্রীর জামাই বিল এলিম নিউইয়র্ক থেকে সেখানে ছুটি কাটাতে এলেন। সে মিসেস গ্লোভারকে বাড়িতে দেখেই চিৎকার করে বললো : এ বাড়িতে কোন ভবঘুরেকে আমি থাকতে দিতে রাজি নই। এরপর সে গৃহহীন মহিলাটিকে পথেই বের করে দিল। সে সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়ছিল । মিসেস গ্লোভার বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কিছুক্ষণ কাঁপতে লাগলেন তারপর ওরই মধ্যে রাস্তা ধরে কোন আশ্রয়ের সন্ধানে চললেন ।
এ কাহিনীর আশ্চর্যজনক দিকটার কথা এবারে শুনুন। ওই ভবঘুরে মহিলা, যাকে বিল এলিম বাড়ি থেকে বের করে দেয় তিনি ভবিষ্যতে চিন্তার জগতকে যেরকম প্রভাবিত করেন কোন মহিলাই বিশ্বে আর তা পারেন নি । আজকে সবাই তাকে জানে ক্রিশ্চিয়ান সায়ন্সের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মেরী বেকার এডি বলে–লক্ষ লক্ষ অনুরাগীদের কাছে তিনি বিশেষ পরিচিত।
তবুও এ পর্যন্ত তিনি শুধু পেয়ে এসেছেন রোগ, শোক আর বিষাদ ব্যঞ্জনা। তাঁর প্রথম স্বামী বিয়ের কিছুকাল পরেই মারা যান। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী তাঁকে ত্যাগ করে এক বিবাহিতা স্ত্রীলোককে নিয়ে পালান। তাঁর শেষ পর্যন্ত এক অনাথ আশ্রমে মৃত্যুও হয়। তাঁর একটি মাত্র ছেলে ছিল–কিন্তু অবস্থার বিপর্যয়ে এবং অভাব অনটনে আর রোগে তাকেও তার চার বছর বয়সে ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। একত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত ওই ছেলের আর দেখা পাননি তিনি। সব সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছিলেন।
নিজের অসুখের জন্যেই মিসেস এডি বছরের পর বছর কেবল বৈজ্ঞানিক উপায়ে মানসিক শক্তির সাহায্যে রোগ নিরাময়ের কথা ভাবতেন। তিনি সব সময় যা খুঁজতেন তা হল–মানসিক ক্ষমতায় বৈজ্ঞানিক প্রথায় রোগ নিরাময়। তার জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আসে ম্যাসাচুসেটসের লেনে। এক প্রচন্ড শীতার্ত দিনে বরফ মাখা রাস্তায় পা পিছলে পড়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁর মেরুদণ্ডে এমনই আঘাত লাগে যে শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়। এমন কি ডাক্তারও ভেবে ছিলেন তিনি বাঁচবেন না। তিনি এও বলেন কোন রকমে উনি বেঁচে গেলেও কখনও হাঁটতে পারবেন না।
মেরী বেকার এডি যাকে বলা যায়, তার মৃত্যু শয্যায় শুয়ে বাইবেল খুলতেই যেন ঈশ্বর সেন্ট ম্যাথুর এই কথাগুলো তাকে দিয়ে পড়িয়ে নিলেন : দেখ, তার কাছে তারা একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোককে নিয়ে। এল । লোকটি তার শয্যায় শায়িত। তখন যীশু বললেন : পুত্র, আনন্দ করো …তোমার পাপ ক্ষমা করা হলো ওঠ, বিছানা কাঁধে করে গৃহে প্রত্যাবর্তন করো। এরপর সে উঠে বিছানা কাঁধে নিয়ে গৃহে ফিরে গেল।
যীশু খ্রীষ্টের ওই কথাগুলোয় তিনি যেন তার সমস্ত বিশ্বাস, শক্তি আর রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা ফিরে পেয়ে গেলেন আর সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় বিছানা ছেড়ে উঠে হেঁটে বেড়ালেন।
মিসেস এডি বলেছেন, ওই অভিজ্ঞতাই আমার কাছে নিউটনের আপেল, ওটা থেকেই আমি নিজের ভালো করার পথ নির্দেশ লাভ করি। লাভ করি অপরেরও ভালো করার পথ … এ থেকেই আমার বিজ্ঞান সম্মত বিশ্বাস জন্মায় সব কিছুর মূলই হল মন, সব কার্য কারণই মনের সৃষ্টি।
এই পথ ধরেই মেরী বেকার এডি এক নতুন ধর্মমতের প্রতিষ্ঠা করলেন : খৃষ্ট বিজ্ঞান–কোন মহিলার প্রতিষ্ঠিত ধর্মমত । এই ধর্মমত সারা দুনিয়াতেই ছড়িয়ে পড়েছে।
আপনি বোধ হয় এখন নিজেকে প্রশ্ন করছেন : এই কার্নেগী লোকটা নিশ্চয়ই খৃষ্ট বিজ্ঞানের হয়ে প্রচার চালাতে চায়। না, আপনারা ভুল করছেন। আমি কোন খৃষ্ট বিজ্ঞানী নই। তবে যত ততই আমি দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে উঠছি–চিন্তার শক্তি কত বিরাট। পঁয়ত্রিশ বছর ধরে বয়স্কদের শিক্ষাদানে ব্যাপ থেকে বুঝেছি পুরুষ আর স্ত্রীলোকেরা সকলেই সব দুশ্চিন্তা, ভয় আর নানা রকম রোগ দূর করতে পারে এবং তাদের চিন্তাধারা বদল করে তাদের জীবনকেও পাল্টাতে পারে। আমি জানি! আমি জানি। আমি বহুবার এমন কান্ড ঘটতে দেখেছি। আমি এতবার এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি যে এতে আর আশ্চর্য হই না।
