কেইন কোন কথা না বলে তার হাত থেকে ল্যাম্পটা নিয়ে তাকে টেনে দাঁড় করাল।
‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমরা এটা আবিষ্কার করতে পেরেছি,’ কানিংহাম বলল। আর কয়েক বছর পর ঐ বাধটা ভেঙে গেলে নদী এখানে চলে আসতো। সব কিছু ধ্বংস হয়ে যেতো।
কেইন শান্তভাবে বলল, আমি জানি,
কানিংহাম উন্মাদের মতো হেসে উঠল। “ফর গড’স সেক, তুমি কি বুঝতে পারছে না আমরা এখানে কি পেয়েছি? আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রত্নতাত্তিক সম্পদ আবিষ্কার করেছি। আমরা জগত বিখ্যাত হয়ে যাবো।’
কেইন বলল, তার কোন সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না,’ ‘অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে আপনি আর কখনো কাউকে এই ঘটনার কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে মনে হয় না।’
সে কানিংহামের হঠাৎ মর্মাহত চেহারা থেকে মুখ ফিরিয়ে ল্যাম্পটা জামালের হাতে দিয়ে পানি ঠেলে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল। কানিংহাম সেখানেই, কামরার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল আর সে ওদের অনুসরণ করার আগেই ওরা প্যাসেজ দিয়ে পেছন দিকে ফিরে চলল।
নিচু প্রবেশ পথটা দিয়ে মাথা নিচু করে ফিরে গিয়ে ওরা জলাধারের জলবন্ধনের জন্য যে দেয়াল ছিল তার খাড়া পার বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করল। কানিংহাম পিছু পিছু গিয়ে কেইনের কাঁধ খামচে ধরল।
তার মুখ ফ্যাকাশে, ক্লান্ত আর উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। আমাদের এখান থেকে বের হতে হবে, কেইন। একটা পথ খুঁজে বের করতেই হবে।’
‘পথ একটা খুঁজে বের করা সহজ, কেইন বলল। সেটা আমি এখন বুঝছি। তবে সমস্যা হলো আপনি সে পথ গ্রহণ করতে রাজি আছেন কি না।
জামাল দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে হাত বাড়িয়ে একে একে দুজনকেই উপরে ওঠালো। কেইন ল্যাম্পটা নিয়ে পানির দিকে আলোটা ধরল। কানিংহাম বলল, “আপনি কি পানির নিচের টানেলের কথা বলছেন? কিন্তু আপনি নিজেই তো বলেছিলেন এ পথে যাওয়া অসম্ভব।’
‘অসম্ভব হবে না যদি সেখানে পানি না থাকে, কেইন বলল।
কানিংহাম ভ্রু কুঁচকালো। বুঝলাম না।
‘অত্যন্ত সহজ ব্যাপার। আমরা নদীর উজানে গিয়ে গুহার যে জায়গায় যন্ত্রপাতিগুলো রেখেছি সেগুলো আনতে যাবো। দেয়ালটা ইতোমধ্যেই নড়বড়ে অবস্থায় আছে। এটা ভাঙ্গতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না। তারপর জলাধারের পানি খালি করে নদীকে তার মূল গতিপথে ফিরিয়ে দেব।
কানিংহাম তখনো ভ্রু কুঁচকে রয়েছে। আপনি তামাসা করছেন। এতে পুরো প্যাসেজ আর মূল কামরা পানিতে ভেসে যাবে, এমনকি সমাধিতেও পানি ঢুকে যেতে পারে। ঐ পেইনটিংগুলো পানিতে একদিনও টিকবে না। ওগুলো চিরদিনের জন্য ধ্বংস হয়ে যাবে।’
‘আমি জানি, কেইন ধৈর্য সহকারে বলল। এছাড়া আমার হাতে আর কোন উপায়ও নেই। আমি মনে করি আপনার মনে এখনো আপনার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে।’
কানিংহাম এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল যেন তাকে শারীরিকভাবে কেউ একটা ধাক্কা দিয়েছে। সে অন্যদিকে মুখ ফেরালো। কেইন বলেই চলল-”আপনার আসার দরকার নেই। জামাল আর আমি সামলাতে পারব, তবে আলোটা আমাদের নিয়ে যেতে হবে। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসবো।
‘আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন না, কানিংহাম বলল। আমি ঠিক থাকব।’
কেইন একটু ইতস্তত করল, সে ভাবলো এই ইংরেজ লোকটি হয়তো বোকার মতো কিছু একটা করে বসতে পারে। তারপর সে ঘুরে দ্রুত আরবিতে জামালকে পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে বলল।
জামাল ল্যাম্পটা নিয়ে পিছন দিকে পথ দেখিয়ে চলল। ওরা পিছল পাথুরে ঢাল বেয়ে উল্টোদিকে টানেলের অন্ধকার মুখটার দিকে উঠতে শুরু করল, যে পথ দিয়ে নদীর পানি জলাধারে এসে পড়েছে। কেইন যেরকম ভেবেছিল, ফেরত যাত্রাটা সেরকম মন্দ হলো না। কেবল দুয়েক জায়গায় ফাঁকটা একটু সরু হওয়ায় পানির স্রোত ওদেরকে পেছন দিকে চাপ দিচ্ছিল।
নরম শিলার খাড়া পারের কাছে পৌঁছে ওরা হাঁচড়ে পাঁচড়ে উপরে টানেলের মুখে পৌঁছে গুহা থেকে মুক্ত হলো। এখন এক অদ্ভুত অপরিচিত অনুভূতি হচ্ছিল মনে, যেন এটি এমন এক জায়গা যেখানে ইতোপূর্বে বহু বছর আগে কেউ স্বল্প সময়ের জন্য এসেছিল, আর কখনো নয়।
কেইন গাইতি তিনটা তুলে নিল, জামাল হাতুড়ি আর ক্রোবারগুলো নিল। তারপর ওরা আবার নিচে পানির মাঝে প্রবেশ করল। ফিরতি যাত্রায় মনে হলো মাত্র কয়েক মিনিট লেগেছে আর জামাল সাবধানে পিছল ঢাল বেয়ে নিচে জলাধারে নামল। ল্যাম্প ঘুরিয়ে দেখল কানিংহামকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
ওরা যন্ত্রপাতিগুলো তাড়াতাড়ি মাটিতে রাখল আর কেইন ল্যাম্পটা নিয়ে ডেকে উঠল, কানিংহাম!’
তার কণ্ঠস্বর গুহার চার দেয়ালের মধ্য থেকে প্রতিধ্বনিত্ব হয়ে ফিরে এল কিন্তু কোন উত্তর এলো না। সে আবার ডাকতে যাবে, এমন সময় নিচে পাথরের মেঝেতে বুটের শব্দ পাওয়া গেল। কেইন ল্যাম্পটা ফাঁকটার দিবে নামিয়ে ধরতেই দেখা গেল কানিংহাম খাড়া পথ দিয়ে উঠে আসছে।
সে শান্ত দৃষ্টিতে কেইনের দিকে তাকাল। চোখের সামনে হাত দিয়ে আলো ঢেকে বলল, “আপনারা বেশ তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন।
‘আপনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন? কেইন জানতে চাইল।
কানিংহাম ঘুরে নিচে টানেলের প্রবেশ পথটার দিকে তাকাল। আমি আরেকবার দেখতে গিয়েছিলাম।’
‘আলো ছাড়া?’ কেইন হতবাক হয়ে বলল।
কানিংহাম মৃদু হাসল আর সাথে সাথে তার চেহারা থেকে যেন সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। আমি তাকে দেখতে পাইনি, কিন্তু জানতাম সে সেখানেই আছে। সে একটা গভীর শ্বাস নিল। এখানে এই গোড়া থেকে কাজটা শুরু করলে ভাল হবে। কিছু কিছু পাথর ক্ষয়ে গেছে।’
