কেইন মাথা নেড়ে বলল, “উঁহু, সে হাল ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। আমার মনে হচ্ছে, যে কোন মুহূর্তে সে আরো বিশ্রি কোন কিছু ঘটিয়ে বসতে পারে। একথা বলতেই, স্কিরোজ সামনে এগিয়ে এল–’কেইন, সে ডেকে উঠল। ‘আমি তোমার সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করব না। আমি তোমাকে দুহাত মাথার উপর তুলে নিচে আসার জন্য পনেরো মিনিট সময় দেব। আর যদি তা না কর, তবে মেয়েদের খারাপ কিছু ঘটবে। আমি জানি তুমি আর কানিংহাম নিশ্চয়ই তা চাও না।’
কেইন জামালের কাঁধ ছুঁলো, তারপর তিনজনেই প্রবেশ মুখ থেকে ওঠে পেছনের দিকে এল। সে আমাদের ফাঁদে ফেলেছে, কানিংহাম বলল।তাকে আমরা মেয়েদের ক্ষতি করতে দেব না।’
কেইন মাথা নাড়ল, তার মুখ গম্ভীর হলো। সে যদি সত্যিই ওদের ক্ষতি করতে চায় তবে সে তা করবে, আমরা যাই করি না কেন তাতে তার কিছু যায় আসে না। সে মাথা নাড়ল। আমার মনে হয় সে সময় নিচ্ছে। সম্ভবত কোন ফন্দি আঁটছে।’
ঠিক সেই মুহূর্তে উপরে পাহাড়ের মুখে বাইরে নড়াচড়ার আভাস পাওয়া গেল আর গুহা মুখের সামনে ছোট ছোট পাথরখন্ড ঝুরঝুর করে পড়তে শুরু করল।
‘আমি বললাম না ঐ বেজন্মাটা কোন একটা মতলব এঁটেছে, কেইন বলে উঠল। আর ঠিক তখনই একটা গ্রেনেড গুহা মুখ দিয়ে ভেতরে গড়িয়ে পড়ল। গ্রেনেডটা চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখা গেল।
কেইন ঘুরে কানিংহাম আর জামালকে ভীষণ জোরে ধাক্কা দিয়ে সমাধির সরু প্রবেশ পথের দিকে ঠেলে দিল, তারপর সে নিজেও পেছনে ছুটে গিয়ে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ল।
গ্রেনেডটা ফাটতেই গুহার মুখে পাথরের বৃষ্টি ঝরতে লাগল। পুরো পাহাড়টা মনে হলো কাঁপছে আর ছাদটা ভেতরের দিকে দেবে যেতে লাগল।
মুলার উপরের দিকে তাকিয়ে চাঁদের আলোয় পরিষ্কার ধুলার মেঘ দেখতে পেল। “ওহ মাই গড! এবার কী হবে?
স্কিরোজ বলল, ‘আমরা এখান থেকে চলে যাবো। সেলিমের ধাউয়ে চড়ে দাহরান ফিরে যাবো। বেজন্মা কেইন আর তার বন্ধুদের এবার ঠিক শাস্তি হয়েছে। আশা করি যেন মাটি চাপা পড়ে ওরা অনেক সময় নিয়ে মারা যায়।
‘কিন্ত বার্লিন, ফুয়েরার? আমাদের কী হবে এরপর?’
কিছু হবে না, বোকারাম। আমি সোজা রেডিওতে রিটারকে বলবো ক্যাটালিনা ক্র্যাশ করেছে। আমাদেরতো কোন দোষ নেই। কেবল এটাই তারা জানবে।
‘আর মেয়েদের কী হবে?
‘আপাতত তারা আমাদের সাথেই যাবে। এখন চল যাওয়ার ব্যবস্থা করি।’
সে ঘুরে নিচে ক্যাম্পের দিকে রওয়ানা দিল। সেলিম আর অন্যান্য বেদুঈনদের ইশারা করল পিছু পিছু আসতে।
.
এদিকে বার্লিনে ক্যানারিস তার অফিসে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে কোনিয়াক ব্রান্ডি পান করছিলেন। তখনই দরজায় একটা টোকা পড়ল আর রিটার ভেতরে ঢুকলো। তরুণ মেজরের চেহারা বিবর্ণ দেখাচ্ছে আর তাকে মনে হলো বেশ বিধ্বস্ত।
‘কোন খারাপ খবর, হান্স?’
‘অপারেশন শেবা, হের এডমিরাল। আমি স্কিরোজের কাছ থেকে একটা বিদঘুঁটে মেসেজ পেয়েছি। সে সব কিছু বন্ধ করে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েছে। কোন ধরনের সমস্যা হয়েছিল, ক্যাটালিনা ধ্বংস হয়েছে। রোমেরো আর তার লোকজন সবাই মারা গেছে।’
‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা, ক্যানারিস বললেন।
‘কিন্তু ফুয়েরার, হের এডমিরাল। তিনি কী বলবেন?
দ্যাখো হান্স সোমবারে কোন বিষয় নিয়ে আমাদের ফুয়েরারের অত্যন্ত উত্তেজিত হবার স্বভাব রয়েছে, যেটা উনি শুক্রবারের মধ্যে পুরোপুরি ভুলে বসেন। ক্যানারিস মৃদু হাসলেন। তাছাড়া তার হাতে এখনও পোলান্ড আছে।’
‘আপনি নিশ্চিত তিনি এভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?’ রিটার বলল।
‘অবশ্যই। ফুয়েরারের মানসিক চিন্তাভাবনার গতির ধারণা নিয়ে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে হান্স।
ক্যানারিস উঠে গিয়ে আরেকটা গ্লাস নিলেন। নাও তুমি এক গ্লাস কোনিয়াক নাও। যতদিন তুমি এই খেলায় আছে আর যতদিন আমি আছি, ততদিন তুমি যে কোন কঠিন বিষয়কে সহজভাবে গ্রহণ করতে শেখো।
‘আপনি যা বলেন, হের এডমিরাল। হ্যাঁ আমি অবশ্যই তা বলছি। ক্যানারিস গ্লাস তুললেন। থার্ড রাইখের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ কর হান্স। আর হাজার বছর এটা টিকে থাকুক।’ তিনি হাসলেন। আর তা যদি তুমি বিশ্বাস কর, তাহলে যে কোন জিনিসে বিশ্বাস করতে পার।
১৩. গুহাটা সম্পূর্ণ অন্ধকার
১৩.
গুহাটা সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে গেল। কেইন ছোট ম্যাচ বুকটা বের করল যেটা সে এর আগে খাদে ব্যবহার করেছিল। আর তিনটে মাত্র কাঠি অবশিষ্ট আছে, সে কাঁপা কাঁপা হাতে একটা কাঠি জ্বাললো।
ম্যাচের আগুনের শিখা সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই অন্ধকার থেকে কানিংহামের ঘর্মাক্ত মুখ দেখা গেল। সে বিচলিত ভাবে হাসল। এখন কি হবে?’
‘পরিস্থিতিটা একটু বুঝে নিতে দিন, কেইন বলল। আমরা যখন কাজ শেষ করেছিলাম তখন আপনি যন্ত্রপাতিগুলো আর একটা স্পট-ল্যাম্প এই প্যাসেজের শেষ মাথায় রেখেছিলেন, তাই না?
ম্যাচের কাঠিটা জ্বলতে জ্বলতে শেষ হয়ে তার আঙ্গুলে আগুনের ছ্যাকা লাগতেই কেইন কাঠিটা ফেলে দিয়ে আরেকটা কাঠি জ্বাললো। উবু হয়ে বসে সে কাঠিশুদ্ধ হাতটা মেলে ধরল। তারপর কানিংহাম বললো, ‘পেয়েছি!’
এক মুহূর্ত পর শক্তিশালী সাদা আলোকরশ্মি গুহার অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। গুহাটার আকার অন্তত অর্ধেক কমে গেছে আর ঢালু হয়ে পড়া খোয়া আর পাথরের স্তূপ জমা হয়ে প্রবেশ মুখটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে ফেলেছে।
