এডমিরাল সোজা হয়ে বসলেন—’সব কিছু সময় মেনে হচ্ছে তো?”
‘একদম ঠিক মতো।
ক্যাটালিনা ছেড়ে আসার পর রোমেরো আর তার সঙ্গীদের কী হবে?
‘আমাদের মিশরীয় ব্যুরোর একজন সদস্য ওদেরকে তুলে নিয়ে সোজা ড্রাইভ করে ইটালীয় এলাকায় নিয়ে যাবে।’
ক্যানারিস মৃদু হেসে বললেন, ‘চমৎকার। তাহলে আর বেশি দেরি নেই, হান্স।’
‘না, হের এডমিরাল।
‘তাহলে কাজ চালিয়ে যাও। ক্যানারিস বললেন। তারপর রিটার বের হয়ে গেল।
.
১২.
মুলার যখন ওদেরকে নিচে ক্যাম্পে নামিয়ে দিয়ে গেল, তখন গিরিখাতের পাশ দিয়ে আকাশে চাঁদ ওঠার পর এর স্নিগ্ধ আলোয় উপত্যকা ভরে উঠল। গুহা থেকে বের হয়ে কেইন ক্লান্ত পেশীগুলোকে একটু আরাম দেবার জন্য একটা টানা দিল। তারপর চন্দ্রালোকিত মন্দিরটির দিকে তাকাল। এটা দেখতে অপুর্ব সুন্দর আর সম্ভ্রম জাগিয়ে তুলে, কিন্তু প্রহরীরা অন্য কিছু মনে করল। রাইফেলের বাট দিয়ে তার পেছনে জোরে একটা গুতা মেরে তাকে নিচে যেতে বাধ্য করল।
উপত্যকার চারধার নিরব হয়ে আছে। ছায়া আর একাকীত্ব মরুভূমি থেকে এসে ঢুকলো। ওরা তাঁবুগুলোর মধ্য দিয়ে গাছগুলোর মাঝে প্রবেশ করল। কোথাও একটা উট কেশে উঠল। একজন আরব জলাধারে হাঁটু পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গা ধুচ্ছিল। সে কৌতূহলী হয়ে ওদের চলে যাওয়া দেখল।
গাছগুলোর অন্যপাশে পৌঁছার পর ওরা ঘোড়ার খুড়ের আকৃতির একটা ছোট পাহাড়ের কাছে এসে থেমে দাঁড়াল। পাহাড়টা গোলাকার, কালো, প্রায় পাঁচ ফুট ব্যাসের একটা গর্তকে ঘিরে রয়েছে। কাছাকাছি একটা খেজুর গাছের সাথে একটা মোটা দড়ি বাঁধা রয়েছে। একজন প্রহরী দড়ির মুক্ত অংশটা তুলে নিয়ে নিচে অন্ধকারে ছুঁড়ে ফেলল। প্রথমে কানিংহাম নামল। দুহাতে শক্ত করে দড়িটা ধরে গর্তের কিনারা দিয়ে দড়ি বেয়ে বেয়ে নামল। জামাল নামার পর মুলার কেইনের দিকে তাকিয়ে দুহাত দুপাশে ছড়িয়ে দিয়ে এক বিশেষ ভঙ্গিতে বলল–এসবের জন্য আমি দুঃখিত বন্ধু, কিন্ত স্কিরোজ এ ব্যাপারে খুব জোর দিয়েছে। সে তোমাকে অত্যন্ত রিসোর্সফুল একজন লোক মনে করে।
“ঠিক আছে, আর বেশি বলার দরকার নাই, কেইন ঠাণ্ডা স্বরে বলল। সে দড়িটা তুলে নিয়ে আর একটা কথাও না বলে নামতে শুরু করল।
কঠিন শিলাস্তর কেটে খনি গহ্বরটা তৈরি করা হয়েছিল। সে সহজেই দেয়ালের গায়ে পা ঠেকিয়ে নামতে পারল। একবার একটু থেমে গোলাকার মুখ দিয়ে দেখতে পেল উপরে আকাশে তারাগুলো জুল জুল করছে আর তার পর পরই হঠাৎ মনে হলো তারাগুলো অনেক দূরের। নিচে হালকা নড়াচড়ার আভাস পেল।
গর্তটা দুপাশে একটু ছড়িয়ে যেতেই কয়েকটা হাত ওর পা ধরে নিচের দিকে নামাল। নরম বালুতে নেমে দাঁড়াতেই হতেই দড়িটা তার মুখে জোরে একটা ঘসা দিয়ে উপরে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেল। অপ্রীতিকর এই পরিস্থিতিতে সে হঠাৎ পেছনের দিকে একটু হটতেই কারও দেহের সাথে ধাক্কা লাগল।
কানিংহাম বলল, যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। ওরা এরপরই একটা ঝুড়ি ভর্তি খাবার নামাবে। এক মুহূর্ত পর সে সন্তুষ্টি নিয়ে বলল হ্যাঁ পেয়েছি!’ সে কেইনের কনুই ধরল। সাবধানে ছয় পা এগোলেই আপনি দেয়ালটা পাবেন।’
কেইন সামনে হাত বাড়িয়ে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে চলতে লাগল, যতক্ষণ না তার আঙুল পাথরে ঘসা খেল। সে দেয়ালে পিঠ দিয়ে বসল, পাশেই জামাল বসে ছিল। তারপর কানিংহাম মিলে সবাই খাবারগুলো ভাগাভাগি করে খেতে শুরু করল। খাওয়া দাওয়া শেষ হবার পর ওরা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বসল।
কেইন বলল, কখনো এখান থেকে বের হতে চেষ্টা করেছেন?’।
কানিংহাম উঠে দাঁড়াল। দিনে হলে আপনাকে দেখাতে পারতাম। আমাদের মাথার উপরে গুহাটা প্রায় পাঁচ ফুট চওড়া। এত চওড়া না হলে হয়তো মূল গুহা বেয়ে ওঠা যেত। বাকি পথটা বেশ সরু আর দুপাশের দেয়াল এবড়ো থেবড়ো পাথর দিয়ে গাঁথা।
কেইন পকেট হাতড়ে একটা ম্যাচবুক বের করল। প্রথম কাঠিটা জ্বেলে সে মাথার উপরে তুলে ধরল। কানিংহামের কথাই ঠিক। খনিকূপের নিচের অংশটি বেশ চওড়া। দেশলাই কাঠিতে তার আঙুল পুড়তেই সে উহ্ করে কাঠিটা ফেলে দিল।
কানিংহামের দিকে ফিরল। আপনি বুঝতে পেরেছেন আমাদের হাতে সময় নেই?’ বড় জোর আর একটা দিন হাতে আছে। সত্যি বলতে কি আমাদের হাতে দুটো পথ রয়েছে। হয় এই গর্ত থেকে আমরা বের হবো আর নয়তো মরবো।’
কানিংহাম বলল, আমি আপনার সাথে আছি। কিন্তু কীভাবে কি করবেন?
কেইন জামালের কাছে গিয়ে ওর সামনে আসন গেড়ে বসল, তারপর ধীরে ধীরে পরিষ্কার আরবিতে তার সাথে কথা বলতে শুরু করল। তার কথা বলা শেষ হলে বিশালদেহী জামাল তার কাঁধে একটা ঝাঁকি দিয়ে ইঙ্গিত করল যে সে সব বুঝেছে। তারপর সে উঠে দাঁড়াল।
কেইন কানিংহামের দিকে ফিরল। জামাল অসাধারণ শক্তিশালী। সে হয়তো আমাকে উপরের দিকে ঠেলে তুলতে পারবে যাতে আমি উপরে সরু অংশের কোন জায়গার দেয়ালে হাত দিয়ে ধরতে পারি। আমি তার কাঁধে চড়বো আর আপনি আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আমাকে স্থির হতে সাহায্য করবেন।
‘আমার মনে হয়, প্ল্যানটা ভালই,’ কানিংহাম বলল।
জামাল সোজা হয়ে দাঁড়াতেই কেইন তার কাঁধে চড়লো। তারপর খুব সাবধানে নিজের দেহ সোজা করে মাথার উপরে দুহাত উঁচু করে ধরল।
