কানিংহাম জানতে চাইল, কেমন আছে সে? ঠিক আছেতো?”
‘শেষ যখন তাকে আমি দেখি তখন তার মানসিক অবস্থা ভালই ছিল, তবে আপনার ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন।’
কানিংহাম জঞ্জালের স্তূপের উপর বসে পড়ল। পুরো ব্যাপারটা দয়া করে আমাকে খুলে বলুন।
কেইন দ্রুত তাকে সব কিছু খুলে বলল, সেই দাহরানের জেটিতে রুথ কানিংহামের সাথে প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকে যা যা ঘটেছে আর একটু আগে স্কিরোজ যা বলেছে সবই জানাল।
তার বলা শেষ হলে কানিংহাম বলল, এ তো বিরাট এক কাহিনী।
কেইন মাথা নাড়ল–’আমিও তাই মনে করি। কিন্তু আপনার কি হয়েছিল?
কানিংহাম তিক্ত হাসি দিয়ে বলল, আমি একজন মহা বোকা, এখন অবশ্য তাই মনে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে কারো সাহায্য ছাড়াই এই জায়গাটা আমি একাই আবিষ্কার করতে পারব। বার আল-মাদানিতে পৌঁছে বুঝতে পারলাম, মরুভুমির মাঝে একা প্রবেশ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট সাহসী কিংবা যথেষ্ট বোকা রশিদ গোত্রের একজন বেদুঈনকে সঙ্গী হিসেবে খুঁজে পেলাম।’
‘আমার ধারণা আপনি বিরান এলাকার মধ্য দিয়ে শাবওয়া থেকে মারিব পর্যন্ত সরাসরি একটা পথ বেছে নিয়েছিলেন, তাই না?
কানিংহাম সায় দিয়ে বলল, ‘আশ্চর্যজনকভাবে এটা সহজ ছিল। আমাদের সাথে অতিরিক্ত একটা উট আর প্রচুর পানি ছিল। দ্বিতীয় দিনেই আমরা সেই স্তম্ভটা খুঁজে পেয়েছিলাম।
যার কাছে আমরা এলুমিনিয়ামের পানির বোতলটা পাই?
কানিংহাম মাথা নাড়ল, সে রাতে সেখানেই ক্যাম্প করেছিলাম। বোতলটা খালি ছিল আর আমরা ওজন কমাচ্ছিলাম। সত্যি বলতে কি আমি আর কোন স্তম্ভ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পাবো বলে আশা করিনি।’
‘কেবল সেটাই আমরা দেখেছিলাম, কেইন তাকে জানাল।
‘আমি অবশ্য আরেকটা খুঁজে পেয়েছিলাম, কানিংহাম বলল। মাটিতে অর্ধেক পোঁতা অবস্থায় সেটা এক পাশে কাত হয়ে পড়ে ছিল।
‘এখানে আসার পর কী হলো?
‘এটা একটা বিশ্রি ঘটনা বলতে পারেন। গিরিখাতে ঢুকতেই ওরা চারদিক থেকে আমাদের ঘিরে ফেলল। আমার রশিদ বেদুঈনটা বেশ সাহসী ছিল। সে বাধা দিতে চেষ্টা করতেই ওরা তাকে গুলি করে মেরে ফেলল। পরদিন স্কিরোজ আসা পর্যন্ত আমাকে একটা অব্যবহৃত কুয়ার নিচে ঠাণ্ডা গুদামঘরে আটকে রাখল। আপনি যে ক্যাটালিনার কথা বলছিলেন, আমি এখানে আসার পর সেটা গিরিখাতের বাইরে সমতল ভূমিতে দুবার ল্যান্ড করেছিল। আমার ধারণা স্কিরোজ আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু পরে মুলার এসে জানাল সে আমাকে তার কাজে ব্যবহার করতে পারবে। তখন স্কিরোজ তাকে তার মতো চলতে দিল।
‘আমার আশঙ্কা আপনি ভয়ঙ্কর দিনটা কেবল কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করেছেন, কেইন তাকে বলল।
কানিংহাম কাঁধ ঝাঁকালো। আমার কি হবে তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না, আমার শুধু দুশ্চিন্তা রুথকে নিয়ে।
কেইন সায় দিল। বুঝতে পারছি আপনার মনের অবস্থা। তবে এখনো আমাদের আশা আছে। একদম শেষ হয়ে যাই নি। কিছু একটা উপায় আমাদের খুঁজে বের করতেই হবে। রাতে ওরা আপনাদের কোথায় থাকতে দেয়?
কানিংহাম একটু হাসল–এক সপ্তাহ আগেও বেদুঈনদের পাহারায় একটা তাবুতে ঘুমাতাম। এক রাতে পালাতে চেষ্টা করে বেশি দূর এগোতে পারলাম না। তারপর থেকেই কুয়ার ভেতরে থাকতে হচ্ছে।’
‘খুব একটা আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না, কেইন বলল।
কানিংহাম বলল। অন্তত এই কুয়াটা শুকনো। তবে আমার ধারণা এক দেড় হাজার বছর আগেও হয়তো এতে কোন পানি ছিল না। তারপর সে উঠে দাঁড়িয়ে হাত পা লম্বা করে আড়মোড়া ভাঙল। চলুন আমরা বরং কাজে লেগে পড়ি। মুলার কিন্তু আশ্চর্য রকম খারাপ হতে পাওে, যদি সে মনে করে যথেষ্ট কাজ হয় নি।
সে স্পট ল্যাম্পটা হাতে নিয়ে পথ দেখিয়ে এগোল। প্যাসেজটা সম্ভবত ষাট সত্তর ফুট লম্বা আর একটু ঢালু হয়ে নিচে চলে গেছে। একেবারে শেষ মাথায় জামাল একটা ঝুড়ি ভর্তি করছিল। তার গাইতির ফলা স্পটলাইটের আলোয় ঝলসে উঠছিল। দুজন মানুষ পাশাপাশি কাজ করার মতো যথেষ্ট জায়গা নেই। ওদের আসার শব্দে জামাল ঘুরে তাকাল। কেইন তার কাঁধে একটা চাপড় দিতেই সে আবার মাটি খোঁড়ার কাজে ফিরে গেল।
কানিংহাম বলল, দেখতেই তো পাচ্ছেন অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়।
কেইন একটা বাতি হাতে নিয়ে খুব কাছে থেকে দেয়ালটা পরীক্ষা করল, তার ভুরু কুঁচকে উঠল। আমি শাবওয়া অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে অনেক পাথুরে সমাধি খনন করেছি। কিন্তু এ ধরনের প্রবেশ পথ কখনো খুঁজে পাই নি।
কানিংহাম সায় দিল–”আমিও মনে করি মুলার ভুল করছে। এমনকি সে এটাও জানে না যে শেবার রানি বিলকিস এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন, কিন্তু আমি জানি।
‘আজ সারা দিনে এটাই প্রথম মন ভালো করার মতো কথা শুনলাম, কেইন তাকে জানাল। কিন্তু আমি নিজেও জানতে চাই এই টানেলটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।
‘তা জানার একটি মাত্র উপায় আছে, তার হাতে একটা বেলচা দিয়ে কানিংহাম বলল।
কেইন একটু থেমে কোমর পর্যন্ত পোশাক খুলে জামালের পাশে গিয়ে খুঁড়তে শুরু করল।
.
এদিকে বার্লিনে, টুরপিজ উফারে ক্যানারিস তার ডেস্কে কাজ করছিলেন, এমন সময় রিটার ঘরে ঢুকল। সে বলল, “আমি এখুনি স্কিরোজের কাছ থেকে খবর শুনে এলাম।
