কেইন তাকে বলল, তোমার স্বীকারোক্তি শোনার মত আমার মেজাজ নেই। এখন কী করতে হবে সেটা বলো।
প্রবেশ পথের মুখেই একটা স্পট ল্যম্প ছিল। মুলার সেটা জ্বালিয়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল! গুহাটা দৈর্ঘ্যে ত্রিশ কিংবা চল্লিশ ফুট আর ছাদটা ওদের মাথা থেকে দুই ফুট উঁচু হবে। ল্যাম্পের শক্তিশালী আলো দেয়াল দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে তারপর হঠাৎ চমকে ওঠার মতো তীর ধনুক হাতে দুজন মানুষের অঙ্কিত চেহারা দেয়ালে ভেসে উঠল।
কেইন সামনে এগিয়ে আগ্রহের সাথে অঙ্কিত চিত্র দুটো পরীক্ষা করল। বহুবর্ণের ওয়াল পেইনটিঙ,’ অত্যন্ত যত্নের সাথে আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে বলল। ‘খুব ভাল ভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
এর কি তারিখ তুমি ধারণা করো?’ মুলার জিজ্ঞেস করল।
ক্ষণিকের জন্য শত্রুতা ভুলে গিয়ে কেইন কাঁধে একটা ঝাঁকি দিল। বলা শক্ত। একই ধরনের জিনিস আমি সাহারার হোগার্ট পাহাড়ে দেখেছি তবে দুটোর মাঝে তুলনা করা কঠিন। এটুকু অন্তত বলা যায় কমপক্ষে আট হাজার। বছর আগের, এরকম চিত্রকর্ম আর কি আছে?
মুলার বাতিটা ঘুরিয়ে পাথরের গায়ে কয়েকটা এচিং দেখাল। তারপর বাতির আলো এসে থামল গুহার শেষ মাথায় একটা সরু প্রবেশ পথের ধারে পাথরকুচির একটা স্তূপের উপর। আমার মনে হয় এটা তোমার কাছে আরো বেশি আকষণীয় মনে হবে।
কাজটা মানুষের করা তা বোঝাই যাচ্ছে আর রাজমিস্ত্রির হাতে তৈরি পাথরের ব্লক সরিয়ে একটা পথ করা হয়েছে অন্যপাশে যাওয়ার জন্য।
তুমি কী মনে করো এটা একটা সমাধির প্রবেশ পথ?’ কেইন বলল।
‘আর কী হতে পারে?’ মুলার বলল। মন্দিরটা বেশি পুরোনো না হলেও সাবেঈন যুগের তো বটেই। যদি এই উপত্যকা একটা পবিত্র স্থান হয়ে থাকে, তাহলে স্বভাবতই ধরে নেওয়া যায় এখানে গোর দেওয়া হত।
গুহায় ঢোকার পর থেকেই কেইন একটা ক্ষিণ শব্দের আভাস পাচ্ছিল। এবার সে দেখল গুহাপথ দিয়ে একটা আলো এগিয়ে আসছে। জামাল আবির্ভুত হলো। ওর এক হাতে একটা বাতি আর অন্য হাত দিয়ে খোয়া ভর্তি একটা বিরাট ঝুড়ি টেনে আনছে। এক মুহূর্ত থেমে ওদের দিকে শান্তভাবে তাকাল। তার বিশাল শরীর ধুলা আর ঘামে মাখামাখি হয়ে রয়েছে। ঝুড়িটা সেখানে খালি করে সে আবার অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
‘আমার ধারণা কানিংহামও সেখানে আছে, কেইন বলল।
মুলার মাথা নেড়ে সায় দিল। অনিচ্ছাসত্ত্বে হলেও তার সাহায্যে গত কয়েক সপ্তাহে আমাদের কাজ অনেকটা এগিয়েছে।
‘আমি একটা বিষয় বুঝতে পারছি না, কেইন বলল। তোমাদের ক্যাম্পেতো অনেক বেদুঈন আছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে নিয়েও তো শ্রমিকের কাজ করাতে পারতে?’
মুলার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। প্রথম কথা, আমার কাজের প্রতি স্কিরোজের খুব একটা সহানুভূতি নেই আর সে অনুমতি দিতে রাজি হয় নি। তাছাড়া লোকগুলো ভীষণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাদের বিশ্বাস এই গুহাগুলোতে বদ আত্মারা যাতায়াত করে।
কেইন উত্তর দেবার আগেই পেছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল–যদি তুমি ছাদটা ভালভাবে পরীক্ষা করো তাহলে এখানে তাদের কাজ করতে না আসার ভাল একটা কারণ খুঁজে পাবে। কেউ একটা কাশি দেওয়া মাত্রই ছাদশুদ্ধ পুরো জিনিসটা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে।
গুহাপথ থেকে মাঝারি উচ্চতার একজন লোক বেরিয়ে এল, কোমর পর্যন্ত খালি গা আর সারা শরীর জামালের মতো আপাদমস্তক ধুলোয় মাখামাখি হয়ে রয়েছে।
মুলার মন্তব্যটি উপেক্ষা করল। কাজ কেমন এগোল আজ, কানিংহাম?
‘কাল কিংবা পরশুর চেয়ে ভাল নয়,’ কানিংহাম উত্তর দিল। আমার যদুর ধারণা, খুব তাড়াতাড়ি আমরা কোথাও পৌঁছাতে পারছি না। যদি তুমি এই কাজে কোথাও পৌঁছাতে চাও তাহলে একদল শ্রমিক আর নিউমেটিক ড্রিল মেশিন লাগবে।
‘তোমার সাথে আমি একমত বন্ধু, কিন্তু কি করব বলো?’ মুলার বলল। যাইহোক আজ নতুন একজনকে আনলাম। এধরনের কাজে কেইনের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। আমি নিশ্চিত তোমরা দুজনে মিলে কিছু একটা উপায় বের করতে পারবে।’
কেইন বলল, “আমি তোমাকে একটা কথা জানাতে চাই আমি কিন্তু অনেকক্ষণ না খেয়ে আছি।’
একটু পরেই, দুপুরবেলা আমি কিছু খাবার পাঠাবার ব্যবস্থা করছি, মূলার বলল। এর বদলে আমি অবশ্যই কিছু ফলাফল দেখতে আশা করি। তারপর সে ওদেরকে ফেলে চলে গেল।
কানিংহাম দেয়ালে হেলান দিয়ে হাত দিয়ে মুখ মুছলো। আপনি আবার কে? আজ সকালে যে বিশালদেহি লোকটাকে ওরা এখানে রেখে গেল তার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক আছে নাকি? ঐ লোকটার মুখ থেকে আমি একটা শব্দও বের করতে পারি নি।
‘এতে অবাক হবার কিছু নেই। তার জিহ্বা নেই। তবে সে ঠিকই শুনতে পাবে যদি আপনি সোমালি কিংবা আরবিতে কথা বলেন।
কানিংহাম হেসে উঠল–”আচ্ছা তাই বলুন। আমার আরবি অবশ্য খুব একটা খারাপ নয়। তবে সোমালির ব্যাপারে আমাকে ক্ষমা করতে হবে।’
কেইন হাত বাড়াল। আমার নাম কেইন, সে বলল। আপনাকে খুঁজে বের করার জন্য আপনার স্ত্রী আমাকে নিযুক্ত করেছেন। এডেনের ব্রিটিশ কনসালের কাছে রেখে আসা আপনার চিঠিটা পাবার পরই তিনি আমার কাছে আসেন।
কানিংহাম সোজা হয়ে দাঁড়াল, তার কণ্ঠস্বরে উত্তেজনার আভাস। রুথ পাঠিয়েছে আপনাকে? আপনি কি তাকে এর মধ্যে দেখেছেন?
‘মাত্র দুঘণ্টা আগেই তার সাথে আমার দেখা হয়েছে, কেইন তাকে জানাল। তিনি উপরেই আছেন মেরি পেরেট নামে আমার এক বন্ধুর সাথে। দুর্ভাগ্যবশত মুলার আর স্কিরোজ আমাদের সবাইকে আটকে রেখেছে।
