কেইন ঘুরে মুলারের দিকে তাকাল। সে পাশেই নিরবে দাঁড়িয়েছিল। ‘এখানে মুলারের ভুমিকা কী?
‘অত্যন্ত পরিষ্কার। এই জায়গাটার অস্তিত্ব সে আবিষ্কার করেছে একজন বুড়ো বেদুঈনের কাছ থেকে। এক রাতে পিপাসায় মৃতপ্রায় অবস্থায় লোকটা শাবওয়ার কাছে ওর ক্যাম্পে এসে পড়ে।
কেইন বলল। ঈশ্বরের দোহাই লাগে মুলার, কী কারণে তুমি এরকম একটা শকুনের সাথে কারবার করতে পারলে? ইউরোপ আমেরিকার এক ডজন ফাউন্ডেশনের যে কোন একটি খুশি হয়ে তোমাকে আর্থিক সহায়তা দিত।
মুলারকে বিব্রত দেখাল–এর কিছু কারণ ছিল।’
‘অবশ্যই ছিল, স্কিরোজ হেসে উঠল। তুমি যেহেতু এখান থেকে কোথাও যেতে পারছে না, কাজেই সত্যি কথাটা তোমাকে না বলারতো কোন কারণ আমি দেখি না, প্রিয় বন্ধু। আমার মতো প্রফেসারও একজন জার্মান–একজন ভাল জার্মান। আমরা থার্ড রাইখ এবং আমাদের ফুয়েরার এডলফ হিটলারের সেবা করি।’
কেইন বলল, ‘মাই গড।’
‘আমি এবহোয়েরের হয়ে কাজ করি, তুমি জানো সেটা কি?
“জার্মান সামরিক গোয়েন্দা।
‘একদম ঠিক। আগামি যুদ্ধে আমরা জিতবো বন্ধু। আগামি পরশু পয়লা সেপ্টেম্বর। সেদিন আমরা পোলাভে অভিযান চালাচ্ছি।’
কেইন বলল, ‘পাগলামি, তোমরা সবাই একসাথে নরকে যাবে।
‘আমার তা মনে হয় না। দ্যাখো আমাদের বড় বড় ব্যাটালিয়ান আছে। আরো আছে ক্যাপ্টেন কার্লোস রোমেরো আর তার বন্ধুরা। এরা এস, এস, স্পেনিশ ভলান্টিয়ার। ওরা আগামিকাল ক্যাটালিনাতে এখানে পৌঁছাবে। তারপরের দিন ওরা সুয়েজ খালে ল্যান্ড করবে, সমস্ত খালে মাইন পুঁতবে তারপর সেটা উড়িয়ে দেবে। এ ঘটনার পর মিশরে আর লন্ডনে আমাদের ইংরেজ বন্ধুরা আঙুল চিবোবে।
কেইন অনেক চেষ্টা করল পুরো বিষয়টা বুঝতে। এটা আমার বিশ্বাস হয় না।’
‘তাতে আমার কিছু আসে যায় না।’
কেইন একটা লম্বা শ্বাস নিল–এখন কী হবে?
‘তোমার?’ স্কিরোজ কাঁধ ঝাঁকাল। দুই একদিন মুলার তোমার সহায়তা নেবে, তবে তারপর…’ তার কণ্ঠস্বর ভেসে গেল আর সে এমনভাবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল যেন সে খুবই দুঃখিত হয়েছে।
‘সেটা খুব একটা ভাল কাজ হবে না, কেইন বলল।
স্কিরোজ ভুরু একটুখানি উপরে তুলল। আমার মনে হয় এ কথা বলার পেছনে তোমার কোন কারণ আছে?
কেইন চেষ্টা করল নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করতে। আমরা ঠিক কোথায় যাচ্ছি, সেকথা জানিয়ে এডেনের আমেরিকান কনসালকে আমি একটা চিঠি পাঠিয়েছি। সে কাঁধ ঝাঁকাল। এটা স্বাভাবিক সতর্কতা–তুমিতো জানোই মরুভুমিতে যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে।
‘তুমি মিথ্যা বলছো।
কেইন মাথা নাড়ল। মনে পড়ে আমি তোমাকে চিঠিটা দিয়েছিলাম মেইল ব্যাগে ভরার জন্য?
‘তুমি খুব চালাক বন্ধু,’ স্কিরোজ বলল মৃদু কণ্ঠে।
মুলারের চেহারায় পুরোপুরি ভীতি ফুটে উঠেছে। সে গোলাবারুদের একটা বাক্সের উপর বসে পড়ল আর রুমাল দিয়ে মুখ আর ঘাড় থেকে ঘাম মুছলো। ‘আমাদের এখান থেকে বের হয়ে যেতে হবে। তার গলা কাঁপছিল।
‘এতো ঘাবড়িও না।’ স্কিরোজ একটা সিগারেট নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে প্যাকেটের উপর টোকা দিতে থাকল।
কেইন মৃদু হাসল। আমরা যদি একটা যুক্তিযুক্ত সময়ের মধ্যে ফিরে না যাই। তখন এডেনের আমেরিকান কনসাল নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তারা অবশ্যই আমাদের খুঁজতে আসবে।
স্কিরোজ মৃদু হাসল–একেবারে সঠিক। তুমি নিজেই পয়েন্টটা তুলে ধরেছে। একটা নির্দিষ্ট সময় পার না হওয়া পর্যন্ত কনসাল কোন পদক্ষেপ নেবে না।’
কেইন মনে মনে নিজেকে অভিশাপ দিল কারণ স্কিরোজ ঠিকই বলেছে আর সেটা সে জানে। মুলারের চেহারা থেকে ভীতির ভাব চলে গেল। সে বলে উঠল। হায় ঈশ্বর, তুমিতো ঠিক বলেছো।
স্কিরোজ মাথা নাড়ল। অবশ্যই ঠিক বলেছি। কমপক্ষে এক মাসের আগে আমেরিকান কনসাল কোন পদক্ষেপ নেবে না। আর এদিকে আমরা দুদিনের মধ্যে চলে যাবো।
‘দুই দিন!’ মুলার বলল। এ কথা শুনে তাকে বেশ আহত মনে হলো। ‘তাহলেতো আমার হাতে বেশি সময় থাকবে না। আমি জানি না এর মধ্যে আমাদের কাজ সেরে ফেলতে পারব কি না।
‘সত্যি বলতে কী, মুলার। আমাদের চলে যাওয়ার আগে তোমার সেই জঘন্য সমাধি তুমি খুঁড়ে দেখতে পারো কী না তাতে আমার কোন আগ্রহ নেই।’
‘অন্য দুজনের সাথে আমি কেইনকে কাজে লাগাতে পারি না?’ মুলার জিজ্ঞেস করল।
স্কিরোজ কেইনের দিকে ফিরল। আমি নিশ্চিত এ বিষয়ে তোমার কোন আপত্তি নেই। কেননা এ ধরনের কাজের সাথে তোমার কাজের ধরনের মিল আছে।’
কেইন কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু এই মুহূর্তে সে হার মানল। ‘আমার মনে হয় এটা তোমার রাউন্ড।
স্কিরোজ সেঁতো হাসল। ঠিক তাই কেইন। বিষয়টা নিয়ে একজন দার্শনিকের মতোই ভাবো। তারপর তার চেহারা বদলে গিয়ে কঠোর হলো। ‘এখন তোমরা যাও। আমার অনেক কিছু করার বাকি আছে।
সে চেয়ারে ঘুরে বসে ইয়ারফোনটা তুলে নিল। মুলার কেইনের কাঁধে একটা টোকা দিয়ে তাকে বাইরে যাবার পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। ডান দিক ঘুরে একটা চওড়া পথ দিয়ে এগিয়ে চলল। আরেকটা গুহার প্রবেশ মুখে দুজন সশস্ত্র প্রহরী আসন পেতে বসে রয়েছে। গুহাটার উচ্চতা চার ফুটের বেশি হবে না, কেইন নিচু হয়ে ভেতরে উঁকি দিল।
মুলার রুমাল দিয়ে মুখের ঘাম মুছে বিব্রতকরভাবে বলে উঠল–এ সবের জন্য আমি দুঃখিত, কেইন।
