‘ওমর আমাদের সে লোকটিকে দেখিয়ে দেয়। আর জামাল তাকে একটা কুঁড়েঘরের পেছনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। লোকটা খুবই একগুয়ে ছিল, কিন্তু ডান হাত ভাঙ্গার পর যখন তাকে বলা হলো বাম হাতেরও একই অবস্থা হবে, তখন সে হার মানল।’
কেইন অবাক হয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল–’মাই গড, তুমি অর্ধেক কোন কিছুতে বিশ্বাস করো না, তাই না?
‘আমার মা ছিলেন একজন রশিদ, সে শান্ত স্বরে বলল। আমরা কঠিন মানুষ, বিশেষত যে জিনিসকে আমরা মূল্য দেই তার উপর কোন ধরনের আঘাত এলে আমরা ছেড়ে দেই না।
এ কথার পর আর কোন কিছু বলার দরকার পরে না। কেইন বলল, ‘আমার মনে হয় সে তেলের ট্যাংকে কিছু কারসাজি করেছে, তাই না?
‘গ্রামের লোকজন যখন দল বেঁধে আততায়ীদের লাশের চারদিকে জমায়েত হচ্ছিল, তখন সে সুযোগটা নেয়, ভিড়ের মধ্যে কেউ তাকে খেয়াল করেনি।
‘তুমি কী জানতে পেরেছো কে তাকে এই কাজ করার জন্য টাকা দিয়েছে?’
সে মাথা নাড়ল। তুমি যা ভেবেছিলে–সেলিম।
কেইন ভুরু কুচকালো। সে নিশ্চয়ই আমাকে এত ঘৃণা করে যে এতদূর পর্যন্ত এগোতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি প্লেনটা কীভাবে খুঁজে পেলে?
‘আমি জানতাম তুমি একটা ডাইরেক্ট লাইনে শাবওয়া থেকে মারিব উড়ে যাবে। আমি একটা বেয়ারিং নিলাম, কম্পাস ধরে ধরে এগোলাম আর বাকিটা ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলাম। সমস্ত বিষয় সম্পর্কে একটা নোট লিখে জর্ডনের ড্রাইভারকে তার কাছে পাঠিয়ে দিলাম।
কেইন দাঁত বের করে হাসল, ‘তুমি দ্রুত অপরিহার্য হয়ে যাচ্ছে।
কোন কথা না বলে সে এক মনে ড্রাইভ করতে লাগল। উটের আঁকাবাঁকা পায়ের ছাপ সহজেই অনুসরণ করতে করতে শেষ পর্যন্ত ওরা একটা চওড়া সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছলো। বালুর সাথে নুড়ি মেশানো পথটা বেশ দূরে চলে গেছে। সে টপ গিয়ার দিয়ে বোর্ডে পা চেপে ধরল।
ট্রাক ধুলির ঝড় তুলে সমতল ভূমির পথে ছুটে চলল। একটু পর তিনজনেরই আপাদমস্তক বালুতে মাখামাখি হয়ে গেল। কেইন মুখে পানির ঝাপটা দিল আর সারাক্ষণ দুরের কালো কালো বিন্দুর মতো আকৃতিগুলোর দিকে কিছু একটার আশায় চেয়ে থাকল।
ট্রাকের ছাদে দুটো রাইফেল ব্রাকেটে আটকানো ছিল। সেগুলো নামিয়ে একটা জামালকে দিল। বিশালাকৃতির সোমালি অত্যন্ত নিপুণতার সাথে রাইফেলটা পরীক্ষা করে কোলে নিয়ে বসল, একটা আঙুল ট্রিগার গার্ডে ধরে রাখল।
কেইন তার রাইফেলটা শক্ত হাতে ধরে ধুলোভরা চোখে উইন্ডশিল্ড দিয়ে বাইরের দিকে তাকাল। অপেক্ষা করতে করতে তার মন এতই শূন্য হয়ে গিয়েছিল যে মেরি যখন তার কানের কাছে চিৎকার করে উঠল তখন সে চমকে উঠল। দূরের কালো ফোঁটাগুলো দ্রুত ওদের দিকে এগিয়ে আসছে।
সে রাইফেলটা একটু উঁচু করে ধরে অপেক্ষা করতে লাগল। দ্রুত উট তিনটার কাছে পৌঁছাতেই সব শেষের লোকটা পেছন ফিরে ওদের দেখতে পেয়ে মুখ হাঁ করে চিৎকার করে উঠল। সে তার উটকে দ্রুত সামনে এগিয়ে নিয়ে চলল।
মেরি হুইল ঘুরিয়ে ট্রাকটা আরব লোকগুলোর সামনে এগিয়ে গেল। কেইন ওদেরকে সতর্ক করার জন্য রাইফেল তুলে মাথার উপর দিয়ে একটা গুলি করল। ট্রাকটা ওদের সামনে গিয়ে থামল।
মেরি ব্রেক কষে থামতেই ক্ষতবিক্ষত চেহারার লোকটা, যে তার উটের পিঠে রুথ কানিংহামকে বহন করছিল, সে তাকে ছেড়ে দিতেই রুথ মাটিতে পড়ে গেল। লোকটা এক হাতে রাইফেল তুলে নিতেই জামাল দ্রুত একটা গুলি করল। লোকটা গুলির ধাক্কায় উটের পিঠ থেকে নিচে পড়ে গেল।
মেরি ট্রাকটা সামনে চালিয়ে নিয়ে রুথ কানিংহামের পাশে থামাল। সে দুই হাতে মাথা চেপে ধরে কাঁদছিল। মেরি তাকে শান্তস্বরে জিজ্ঞেস করল, তারা আপনার কোন ক্ষতি করেছে?
রুথ কানিংহাম কয়েকবার মাথা নেড়ে অনেক কষ্টে কথা বলতে পারল। ভয়ংকর চেহারার লোকটা অনবরত আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল, কিন্তু ওদের মধ্যে যে লোকটা নেতা ছিল সে তাকে বাধ্য করল আমাকে ছেড়ে দিতে। কাঁদতে কাঁদতে সে মাটিতে বসে পড়ল। মেরি তাকে ধরে আস্তে আস্তে ট্রাকে নিয়ে একটা সিটে বসিয়ে দিল।
কেইন অন্য লোকদুটোর দিকে এগিয়ে গেল। জামালের উদ্যত কারবাইনের সামনে ওরা উটের পিঠে শান্ত হয়ে বসেছিল। কান কাটা লোকটা কেইনের দিকে চেয়ে দাঁত বের করে হাসল–”আল্লাহর ইচ্ছা কী বিচিত্র।
‘তুমি একেবারে সঠিক কথাটাই বলেছো, আসলেই তাই, কেইন বলল। ‘তোমার ভাগ্য ভাল যে তুমি তার কোন ক্ষতি করেনি। এখন এখান থেকে ভাগো।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সে লোকদুটোর উট নিয়ে চলে যাওয়া দেখল, তারপর মৃত লোকটির জন্য একটা অগভীর কবর খোঁড়ার জন্য জামালকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেল।
যখন ওরা ট্রাকে ফিরে এল তখনো রুথ কানিংহাম মেরির কাঁধে মাথা রেখে নিঃশব্দে কোঁপাচ্ছিল। কেইন ভুরু উঁচু করে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই মেরি মাথা নাড়ল। কেইন কাঁধে ঝাঁকি দিয়ে বলল, এখন কোন তাড়া নেই। ঘণ্টা খানেক বিশ্রাম নিয়ে তারপর ফিরতে শুরু করব।’
ট্রাকের পাশে পিঠ দিয়ে সে বালুতে বসল। বুশহ্যাটের কিনারা চোখের উপর টেনে নামাল। একটু পর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে এলো আর সে ঝিমুতে শুরু করল।
মনে হলো যেন এক মিনিট মাত্র কেটেছে। ঠিক তখনই কাঁধে মৃদু ঠেলা খেয়ে সে জেগে উঠল। মেরি তার দিকে চেয়ে মৃদু হাসল। এখন আমাদের যাওয়া দরকার গ্যাভিন, ছয়টা বেজে গেছে।
