কেইন বলল, দশ হাজার, কত চাও বল। এই মহিলা নিজের দেশে একজন ধনী মানুষ।
আরব লোকটি মাথা নাড়ল। কী করে আমি বুঝবো সে আমাকে ন্যায্য দাম দেবে? ইয়েমনে একজন শেতাঙ্গ নারীর অনেক দাম পাওয়া যায়।
‘আর আমার ব্যাপারে? কেইন বলল।
ইয়েমনি লোকটা কাঁধ ঝাঁকাল, আমার বন্ধুরা তোমার গলা কেটে ফেলতে চায়। কিন্তু আমি তাদের রাজি করিয়েছি অন্য কিছু করতে। তুমি বাঁচো কী মর সেটা তোমার নিজের ব্যাপার। একজন শক্তিশালী মানুষের জন্য শাবওয়া খুবই কম দুরত্ব।
কেইন ভুরু কুঁচকালো, তোমার কথা বুঝতে পারলাম না।
ইয়েমনি লোকটা দাঁত বের করে হাসলো, আমাকে চিনতে পারো নি?’ দু’বছর আগে বাল হারিস যখন শাবওয়ার কাছে তাঁবু গেড়েছিল? তখন একটা ঘোড়া চুরির ব্যাপার ঘটেছিল। ওরা আমাকে ধরতে পারলে প্রাণে মেরে ফেলতো। তুমি অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত আমাকে তোমার ট্রাকে লুকাতে অনুমতি দিয়েছিলে। আল্লাহর ইচ্ছা দেখো, কী আশ্চর্য।
সাথে সাথে কেইনের ঐ ঘটনার কথা মনে পড়ল, সে একটু ঝুঁকে গলা নামিয়ে বলল–আমাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে চল। আমি তোমাকে অনেক পুরষ্কার দেব। অন্তত এটুকু করার জন্য তুমি আমার কাছে ঋণী।
ইয়েমনি লোকটি মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল, ‘জানের বদলে জান। এখন তোমার কাছে আমার কোন ঋণ নেই। ব্যস শোধ বোধ হয়ে গেল। আমার বন্ধুরা কম করে হলেও তোমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলতে চেয়েছিল। যদি তুমি বুদ্ধিমান হও তবে আমরা যাওয়া পর্যন্ত চুপচাপ বসে থাকবে।
তারপর সে তার সঙ্গীদের সাথে যোগ দিল। ওরা ততক্ষণে ওদের উটের পিঠে চড়ে বসেছে। একজন আরব রুথ কানিংহামের অচেতন দেহটা কাঠের জিনের উপর আড়াআড়ি ভাবে ঝুলিয়ে দিল। কেইন অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদের চলে যাওয়া দেখল, যতক্ষণ না ওরা বালিয়াড়ির অপর দিকে অদৃশ্য হয়ে গেল।
সে ঘড়ির দিকে তাকাল। দুপুর পার হয়ে গেছে, তার মানে সে একটু বেশি সময় ঘুমিয়েছে। কয়েকটা মুহূর্ত সেখানে বসে একের পর সম্ভাব্য কর্তব্য ভাবলো আর বাতিল করল। কিন্তু কোন সমাধান খুঁজে পেল না, শুধু এটুকু আশা আছে যে হয়তো সে রেডিও ব্যবহার করে কিছু একটা করতে পারবে। কেবিনে ঢুকে সে কাজ শুরু করল।
প্রথম থেকেই তার চেষ্টা অসফল ছিল। তারপরও সে অবিরাম কাজ করে। যেতে লাগলো। অনেকক্ষণ পর বোঝা গেল রেডিওর ক্ষতিটা মেরামতের অযোগ্য। যদি কোন ভাবে একটু খানি স্পার্ক ফিরে আসতে যাতে বহির্জগতে একটা মেসেজ পাঠাতে পারে, তাহলেই চলতো।
তার শরীর থেকে টপ টপ করে ঘাম ঝরতে লাগল। কেবিনের প্রচণ্ড তাপ, তার সারা শরীর এমনভাবে ঢেকে ফেলেছিল যে তাকে কয়েকবার বিশ্রাম নিতে আর পানি পান করতে হয়েছিল। তিনটার একটু পর সে পরাজয় স্বীকার করল। ক্লান্ত হয়ে সিটে বসে একটা সিগারেট ধরাল।
ঠিক সেই মুহূর্তে নিঃস্তব্ধতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা একটা ইঞ্জিনের শব্দ পাওয়া গেল।
সে এক লাফে মাটিতে নেমে দাঁড়িয়ে কান পেতে শুনতে লাগল, হঠাৎ তার মনে ক্ষীণ আশা জেগে উঠল। শব্দটা কাছে, আরো কাছে চলে এলো। সে এক হাত চোখের উপর রেখে উপরের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল প্রায় একশো গজ সামনে একটি ট্রাক একটা বালিয়াড়ির উপরে উঠল, তারপর তার দিকে এগিয়ে এল।
মেরি ট্রাক চালাচ্ছে, পাশে জামাল বসা। কেইন ওদের দিকে এগিয়ে যেতেই সে ইঞ্জিন বন্ধ করল, তারপর ট্রাক থেকে নেমে ওর দিকে দৌড়ে এল, ‘তুমি ঠিক আছে তো গ্যাভিন?’ সে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল।
সে মাথা নাড়ল, “আমি ঠিক আছি, কিন্তু বুঝতে পারলাম না তুমি এত তাড়াতাড়ি এখানে কি করে এলে?
‘সে এক লম্বা কাহিনী, মিসেস কানিংহাম কি প্লেনে আছেন?
কেইন মাথা নাড়ল, না নেই।
সে দ্রুত সব কিছু খুলে বলল। তার বলা শেষ হলে মেরিকে চিন্তিত দেখাল, সন্ধ্যার আগে যদি আমরা ওদের ধরতে না পারি, তাহলে জানার কোন উপায় নেই ওরা তার সাথে কি করতে পারে।
কেইন সায় দিল। তবে এখন রওয়ানা দিতে পারলে ওদেরকে খুঁজে পেতে খুব একটা কষ্ট হবে না।’
সে সামনের সিটে মেরির পাশে বসল, জামাল বসল পেছনে। তারপর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওরা তিনটি উটের পরিষ্কার পায়ের ছাপ অনুসরণ করে চলতে শুরু করল।
বারোটা ফরওয়ার্ড গিয়ার আর ফোর হুইল ড্রাইভের কারণে ট্রাকটা বালিয়ারিতে চলার অত্যন্ত উপযোগী ছিল।
কেইন সিটে হেলান দিয়ে বসল। বার আল-মাদানিতে কি কি হয়েছে সব খুলে বল।
মেরি বলল, এগারোটার মধ্যে জর্ডনের সাথে আমার কাজ শেষ হয়ে যায়। তারপর সে তার ড্রাইভারকে দিয়ে জামাল আর আমাকে ট্রাকে করে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। এয়ারস্ট্রিপে পৌঁছে দেখলাম ওমর সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সে জানাল উপকুল এলাকা থেকে একজন আগন্তুক গ্রামে এসে বলে বেড়াচ্ছে তুমি আর ফিরে আসবে না।
কেইন বলল, ওমর এমনি এমনি নিজে থেকে তোমাকে খবরটা দিল?
সে মৃদু হাসল। আরবদের এই জটিল মনস্তত্ত তুমি কখনও বুঝতে পারবে না, গ্যাভিন। মুখোমুখি লড়ে একজন শত্রুকে মেরে ফেলা এক জিনিস, কিন্তু ছলচাতুরি করে এরোপ্লেনের ক্ষতি করাটা,’ সে কাঁধ ঝাঁকাল। ওমরের কাছে এ ধরনের কাজ সম্মানহানিকর।
কেইন বলল, মানলাম একথা। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছে, সেটা তুমি কী করে নিশ্চিত হলে?
