কেইন মাথা নাড়ল, জর্ডনের ক্যাম্পে একটা শর্ট ওয়েভ রিসিভার আছে।’ রেডিও সেটটা চট করে পরীক্ষা করে সে মুখ বাঁকা করে বলল, এটাও গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করার উপযোগী করে এটা তৈরি করা হয় নি।
রুথ কানিংহাম হাত দিয়ে মুখ মুছে বলল, ‘এক গ্লাস পানি পেলে হতো।’
‘শিগগিরই এটা ঠিক করে ফেলব।’ এই কথা বলে সে পেছনের সিটে হাত বাড়াল পানির বড় একটা জেরি ক্যান আর প্লাস্টিক কাপের জন্য।
‘এটা ভর্তি আছে। কাজেই পানি নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা হবে না।’
রুথকে পানি দিয়ে নিজেও পানি খেলো। তারপর এরোপ্লেনের ডানার ছায়ার নিচে বসে কোন কথা না বলে চুপচাপ সিগারেট টানতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর রুথ কেইনের দিকে ঘুরে তাকিয়ে স্থির কণ্ঠে বলল, গ্যাভিন ঠিক করে বলুনতো কোন আশা আছে?
‘আপনি যা ভাবছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। আমার হিসাবে আমরা শাবওয়া থেকে প্রায় ত্রিশ মাইল এসেছি। দিনের গরমে এই দূরত্ব পার হবার চেষ্টা করা ঠিক হবে না। সবচেয়ে ভাল হবে এখানে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় রওয়ানা দেওয়া। রাতের ঠাণ্ডায় আমরা অনেক তাড়াতাড়ি যেতে পারব।’
আপনার কি মনে হয় তারা আমাদের খুঁজতে আসবে?’
অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মাথা নেড়ে সে বলল, অবশ্যই আসবে। মেরি আর জর্ডন বার আল-মাদানিতে যখন জানতে পারবে যে আমাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, তখন সাথে সাথে তারা একটা অনুসন্ধান দল পাঠাবে। তার ফোর্ড ট্রাকগুলো মরুভূমিতে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।’
রুথ তার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু খুঁজলো, তারপর মৃদু হেসে বলল, ‘আপনার সাথে আছি বলে আমি আনন্দিত গ্যাভিন। অন্য কেউ হলে আমি ভয় পেতাম, সত্যি ভয় পেতাম।
সে মৃদু হেসে রুথকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করল, এখানে ভয় পাবার কিছু নেই, কেবল কয়েক ঘণ্টা কষ্ট করতে হবে। পরে বছরের পর বছর ধরে এই ঘটনা নিয়ে আপনি গল্প করতে পারবেন। আর দিনের পর দিন ঘটনার বিবরণ বেড়ে যাবে।’
‘আপনার কথাই হয়তো ঠিক।’ তার কাঁধ ঝুলে পড়েছে আর বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
কেইন তাকে কেবিনের দিকে ঠেলে বলল, কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন। ভেতরে একটু ঠাণ্ডা পাবেন। আমি বিকালে জাগিয়ে দেব।
সে দরজা বন্ধ করে এরোপ্লেনের ডানার নিচের ছায়ায় এক হাতে মাথা : রেখে শুয়ে পড়ল।
সে আশা করছে যতটুকু নিশ্চয়তা সে দিতে চেষ্টা করেছে সে রকমই ভাবতে পারলে ভাল হতো। একা একা আর প্রচুর পানি নিয়ে রাতের বেলা জোর কদমে হাঁটলে শাবওয়া পৌঁছাবার ভাল চান্স আছে, কিন্তু সাথে একজন মহিলা থাকলে…!
একটা বিষয় নিশ্চিত, মেরি আর জর্ডন ওদেরকে অবশ্যই খুঁজতে আসবে। তবে সমস্যা হলো এই বিশাল মরুভুমিতে ঠিক কোন জায়গায় খুঁজবে।
সে নিরবতায় কান পেতে শুনতে থাকল আর অনুভব করল গরম প্রায় একটা দৈহিক শক্তির মতো তার উপর চেপে বসছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সে ঘুমিয়ে পড়ল।
হঠাৎ কোথাও একটা আর্তচিৎকার শোনা গেল আর টের পেল শক্ত কিছু একটা তার চোয়ালে খোঁচা মারছে। চোখ খুলতেই লম্বা একটা বন্দুকের ব্যারেল তার নজরে পড়ল।
রঙিন পাগড়ি পরা একজন ইয়েমনি বন্দুক ধরে আছে। তার অর্ধনগ্ন শরীরে নীল দিয়ে লেপা। দুই কান কাটা–আর ডানদিকের গালে ছাপ মারা একজন চোরের চিহ্ন।
আরো দুই জন রুথ কানিংহামকে কেবিন থেকে টেনে হিঁচড়ে নামাচ্ছে। কেইন কোন মতে উঠে দাঁড়াতেই রুথের শার্ট ছিঁড়ে গেল, সে মাটিতে পড়ে গেল। একজন লোক হাসতে হাসতে তার চুল ধরে টেনে দাঁড় করাল।
লোকটির মুখের এক পাশ খেয়ে গেছে। চোখের পাশে চামড়া পোড়া আর নাকের জায়গায় কেবল দুটো ছিদ্র। রুথ কানিংহাম ভয়ংকর সেই মুখের দিকে তাকিয়ে জ্ঞান হারালো।
কেইন রুথের দিকে এগোতেই তিন ইয়েমনি তার দিকে রাইফেল তাক করল। আর এগোলে ভাল হবে না। কান কাটা লোকটা আরবিতে কর্কশ কণ্ঠে বলে উঠল।
কেইন তার শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে বলল, “আমাদেরকে বার আল-মাদানি নিয়ে চলো, তোমাদের ভাল বকশিষ দেওয়া হবে।
বিভৎস মুখের লোকটা একটা গালি দিয়ে মাটিতে থুথু ফেলল। সে দ্রুত সামনে এক কদম এগোল তারপর রাইফেলটা উল্টো করে তার বাট দিয়ে কেইনের পেটে জোরে একটা গুতো মারল। আরেকজন তার হিপ পকেট থেকে কোল্ট অটোমেটিকটা বের করে নিল। কেইন মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকল আর অপেক্ষা করতে থাকল যন্ত্রণাটা চলে যাবার। ওরা কিছুক্ষণ তাকে এভাবে ফেলে রাখল।
লোক তিনটা যে ডাকাত তা বোঝাই যাচ্ছে। এখন ওদেরকে নিয়ে তারা কী করতে যাচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লোকগুলো কিছু একটা বিষয়ে তর্ক করছে। কেইন চোখ খুলল, তার নিশ্বাস এখন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ওদের কথা শুনতে চেষ্টা করল।
চামড়ার স্যান্ডেল পরা নোংরা বাদামি একটা পা তার মুখের সামনে এল একটা হাত তাকে টেনে তুলে বসালো। সে এখন দু’কান কাটা লোকটার মুখোমুখি।
সে কেইনের সামনে আসন পেতে বসল। হাতের রাইফেলের ঘোড়া টিপে ধরে দাঁত বের করে হাসল। এবার আমাদের যাওয়ার সময় হয়েছে।
‘আমাদেরকে বার আল-মাদানি নিয়ে চলো।’ কেইন অনুরোধ করল। ‘আমি কথা দিচ্ছি তোমাদেরকে প্রচুর পুরষ্কার দেওয়া হবে। পাঁচ হাজার মারিয়া থেরেসা ডলার।’
ইয়েমনি লোকটা দু’দিকে মাথা নাড়ল। সীমান্তের ওপারে আমি একজন মৃত লোক। সে রুথ কানিংহামকে দেখিয়ে বলল, এই মহিলাটিকে সানার দাস বাজারে বিক্রি করে আমরা অনেক টাকা পাবো।
