কেইন অবাক বিস্ময়ে দ্রুত তার দিকে ফিরে তাকাল। তুমি জানতে যে ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল?
ওমর ঘাড় কাত করল। অবশ্যই জানতাম।’ সে শান্ত কণ্ঠে বলল।
‘আর জানা সত্ত্বেও তুমি তাদের বাধা দিলে না?
ওমরের চেহারায় দুঃখি ভাব দেখা দিল। আরেকজন মানুষের রক্তের দ্বন্দ্বে আমি হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’
কেইন হাসতে শুরু করল। ওমর এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে গেল আর কেইন হাসতে হাসতে রুথ কানিংহামের হাত ধরে সেখান থেকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল।
‘কী ব্যাপার বলবেন? সে জিজ্ঞেস করল। আপনাদের আরবিতে কথা বলা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
‘এ আপনি বুঝবেন না, সে তাকে জানাল। এটা এক ধরনের প্রাইভেট রসিকতা।
এয়ারস্ট্রিপের দিকে হাঁটতে হাঁটতে রুথ বলল, কফিটা খুবই চমৎকার ছিল। ঐ মহিলাটি কে ছিল–তার স্ত্রী?
কেইন মাথা নাড়লো। সে বাড়ির একজন ক্রীতদাসী।
‘আপনি রসিকতা করছেন, সে বললো।
কেইন মৃদু হাসল। আপনি জামালের কপালে গরম লোহার ছাপ দেখেন নি? সে ইয়েমনে একজন ক্রীতদাস ছিল। প্রথমবার পালাবার চেষ্টা করার সময় ওরা তার জিহ্বা কেটে নেয়। এখনও আরবের অনেক জায়গায় প্রচুর ক্রীতদাস রয়েছে।
রুথ কানিংহাম থর থর করে কাঁপতে লাগল। এরপর তারা নিরবে পথ চলতে লাগল। প্লেনের কাছে পৌঁছে ওরা দেখতে পেল সকালের লড়াইয়ের চিহ্ন হিসেবে রানওয়ের কয়েক জায়গায় বালু আর ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে রয়েছে। কেইন তাকে ঠেলে কেবিনের ভেতরে ঢুকিয়ে বেশ কসরত করে নিজে ঢুকলো। এরপর আর কোন সময় নষ্ট করল না। কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেনটা খাড়া হয়ে নীল আকাশের দিকে উঠতে শুরু করল।
দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে ওরা শাবওয়া পৌঁছে গেল। রুথ। কানিংহাম নিচের দিকে তাকাল, তার চেহারায় হতাশা। আমি তো এর মধ্যে রোমাঞ্চকর তেমন কিছুই দেখছি না।’
কেইন মাথা কাত করল, ‘আমি স্বীকার করছি দেখতে তেমন বিস্ময়কর নয়। তবে এখানে বালুর নিচে ষাটটা মন্দির আছে, যার সম্পর্কে রোমান ঐতিহাসিক প্লিনি লিখেছেন, ভবিষ্যৎ অভিযাত্রিদের জন্য এক বিশাল গুপ্তধনের ভান্ডার।
সে কম্পাস চেক করে র্যাপিডের নাক মরুভূমির দিকে ঘুরিয়ে নিল। ‘আমি মারিবের উদ্দেশ্যে গতিপথ ঠিক করে নিলাম। আলেক্সিয়াসের বর্ণনা অনুযায়ী শাবওয়া থেকে সোজা লাইন বরাবর এ জায়গার কোথাও একটা মন্দির থাকবার কথা। তিনি বলেছেন নব্বই মাইল হবে। আশা করি কিছু একটার দেখা পাওয়া যাবে।
সে বালিয়াড়ির উপরে প্লেনটাকে পাঁচ ছয়শো ফুট উচ্চতায় নামিয়ে আনল এই আশায় যে, কোন মানুষ এখান দিয়ে যাওয়ার কোন চিহ্ন হয়তো দেখা যাবে। কিন্তু কিছুই দেখা গেল না। যতদূর চোখ যায় দেখা যাচ্ছে নিষ্ফলা, আদিম এবং অচিন্তনীয় নির্জন মরুভূমি চলে গেছে।
মিনিট পনেরো পর, রুথ কানিংহাম হঠাৎ তাকে একটা খোঁচা মারল। ওদের সামনেই সাত আটশো ফুট উঁচু এক বিশাল বালিয়াড়ি সোজা আকাশে উঠে গেছে। কেইন তাড়াতাড়ি কলামটা সামান্য পেছনের দিকে টানল। ইঞ্জিনটা কয়েকবার ফট ফট শব্দ করল আর দুবার মিস করল।
সে কলামটা ধরে খুব জোরে পেছনের দিকে টান দিতেই প্লেনটা বালিয়াড়ির মাত্র কয়েক ফুট উপর দিয়ে উপরের দিকে উঠল। তারপর ইঞ্জিনটা কয়েকবার খক খক শব্দ করল। তারপর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ সম্পূর্ণ নিরবতা আর মাঝে মাঝে প্লেনের পাখার সাথে বাতাসের সংঘর্ষের শন শন শব্দ। তারপর প্লেনটা নিচের দিকে নামাতে শুরু করতেই রুথ কানিংহাম চেঁচিয়ে উঠল।
কেইন নিয়ন্ত্রণ নেবার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেল। মরুভূমির পঞ্চাশ কি ষাট ফুট উচ্চতায় এসে সে প্লেনটাকে লেভেলে আনল আর তখনি আরেকটা বিশাল বালিয়ারি ওদের দিকে ছুটে আসতে দেখা গেল। শক্ত করে ধরে থাকুন!’ এই কথা বলে সে সর্বশক্তি দিয়ে কলামটা টেনে ধরল।
র্যাপিডটা প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠল। একটা মুহূর্ত মনে হলো এটা ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তারপর বামদিকের ডানার ডগা বালুতে গেঁথে গেল। প্লেনটা বৃত্তাকারে ঘুরে গেল আর শোনা গেল ধাতু ছিঁড়ে যাবার চড় চড় শব্দ। কেইন সতর্ক করে চিৎকার দিয়ে উঠল আর নরম বালুতে প্লেনটা থেমে যাবার ধাক্কা সামলাতে নিজেকে প্রস্তুত করল।
০৯. কেইন লম্বা একটা শ্বাস নিল
০৯.
কেইন লম্বা একটা শ্বাস নিল আর এক হাতের পিছন দিয়ে চোখের ঘাম মুছলো। ঘুরে রুথ কানিংহামের ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকাল-”আপনি ঠিক আছেন তো?
সে ঘাড় কাত করল।নিচে নামার সময় আমি শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম।
কেইন দরজা খুলে লাফ দিয়ে মাটিতে নামল। র্যাপিডের নাকটা নরম বালুতে অর্ধেক ডুবে রয়েছে আর বামদিকের ডানাটা বাঁকা হয়ে মুচড়ে অকার্যকর হয়ে গেছে।
‘আমি বুঝলাম না আগুন লাগে নি কেন, সে ভুরু কুঁচকে বলল, তারপর দরজার কাছে এসে ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেলের দিকে তাকাল। আশ্চর্য তেলের ট্যাংকতো খালি।’
রুথ কেবিনের এপাশে এসে দরজার বাইরে মুখ বাড়িয়ে বলল, এর মানে কী হতে পারে?
“ঠিক বলতে পারব না। ইঞ্জিন যেহেতু বন্ধ হলো, সেটা তেলের অভাবে হতে পারে, কিন্তু বুঝতে পারলাম না তা কেন হবে! এখন রেডিওর অবস্থা কি কে জানে।
সে রেডিও পরীক্ষা করবার জন্য কেবিনে উঠল। রুথ কানিংহাম বলল, সিগন্যাল শোনার মতো ধারে কাছে কেউ কি আছে?
