আরব লোকটি তখনও গুলির মুখে দৌড়ে আসছিল, বুলেটগুলো একের পর এক তার দেহে বিদ্ধ হতে লাগল। তারপর প্রায় তাদের গায়ের উপর এসে এক পাশে টলতে টলতে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ল।
কয়েকটি মুহূর্ত নিঃশব্দে কাটলো, তারপর কেইন তার পেছনেই একটা চিৎকার শুনলো। এরোপ্লেনের ডানা ধরে নিজেকে সামলে সে ঘুরে দেখল মেরি তার দিকে ছুটে আসছে।
তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে। সে তার বাহু আঁকড়ে ধরল। “গ্যাভিন তুমি ঠিক আছে?
সে মেরির হাতে হাত রেখে সান্তনা দিয়ে বলল, জর্ডনকে ধন্যবাদ দাও।’
ভুতত্তবিদ গুলিতে মৃত লোকটির উপর ঝুঁকেছিল, সে ফিরে অবাক হয়ে বলল, কী করে লোকটা গুলি খেতে খেতে ছুটে আসছিল? আমি তো একটা গুলিও মিস করিনি।
কেইন মৃতদেহটি চিৎ করল। লোকটির মুখ কুঁকড়ে আছে, ঠোঁটে লালা ঝরছে আর ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো, দাগে ভরা দাঁত দেখা যাচ্ছে। এর আগে এরকম চেহারা হয়েছে সেরকম কাউকে তুমি দ্যাখোনি?
জর্ডন মাথা নাড়ল। তবে মেরি এগিয়ে এসে নিচে তাকাল। এই লোকটাকে কোয়াট খাইয়ে নেশাগ্রস্ত করা হয়েছে। সে নিশ্চয়ই একজন ভাড়াটে খুনি।
কেইন মাথা নেড়ে সায় দিল। আমারও সেরকম মনে হচ্ছে। যখন আমি প্রথম লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম, কি চায় সে তখন সে আমাকে বলল কেইন নামে একজনের জন্য তার কাছে একটা চিঠি আছে।
‘কিন্তু কেউ তোমাকে কেন হত্যা করতে চাইবে?’ জর্ডন বলে উঠল। আর এই কোয়াট জিনিসটা কি?
কেইন একটা সিগারেট ধরাল। এটা হলো এ এলাকার এক ধরনের গুল্মলতার পাতা থেকে বানানো উত্তেজক নেশা দ্রব্য। এই পাতা চিবোলে মানুষটি অতিরিক্ত সচেতন আর আত্মবিশ্বাসী হয়ে যায়। বার বার এটি চিবোলে ব্যবহারকারীর শারীরিক আকৃতির উপর একটা প্রভাব পড়ে।
জর্ডন ভ্রু কুঁচকালো। আর এই ভাড়াটে খুনির বিষয়টা কি বলো তো?”
কেইন কাঁধ ঝাঁকাল। আমি মনে করেছিলাম তুমি হয়তো ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে জেনেছ। তুমি যদি এদেশে কাউকে হত্যা করতে চাও তবে সেটা তুমি নিজে করবে না। একজন পেশাদার লোককে ভাড়া করবে।
প্রথম যে লোকটিকে কেইন মেরেছিল জামাল তার দেহ তল্লাশি করে হাতে একটা চামড়ার ব্যাগ নিয়ে ওদের দিকে আসছিল। সেটা সে তার মিসট্রেসের হাতে দিল।
মেরি ভেতরে তাকিয়ে ব্যাগের মুখটা এমনভাবে খুলে ধরল যাতে বাকি সবাই দেখতে পারে কি আছে ভেতরে। ব্যাগ ভর্তি রূপার মুদ্রা।
জর্ডন শীস দিয়ে উঠল আর মেরি গম্ভীর কণ্ঠে বলল। এখানে কম করেও দুই থেকে তিন হাজার মারিয়া থেরেসা ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রা আছে, গ্যাভিন। কেউ তোমাকে মৃত দেখতে চায় নিশ্চিত ভাবে।
কেইন শান্তভাবে মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ, আমার মনে হয় আমি জানি কে তা চায়। গতকাল সেলিমের সাথে একটা বোঝাঁপড়া হয়েছিল। গতরাতে আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন তার একটা লোক একবার চেষ্টা চালিয়েছিল আমাকে হত্যা করার।
মেরি ভ্রু কুঁচকালো। কিন্তু সে কি করে জানল যে তুমি আজ সকালে বার আল মাদানিতে আসবে?
বিষয়টা নিয়ে কেইন একটু ভেবে মাথা নাড়ল। “তোমার কথায় যুক্তি আছে। যাই হোক ছাড়ো এসব। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি আর শুধু শুধু অনেকগুলো টাকা খরচ করল কেউ।’ সে যন্ত্রণায় কাতড়ে উঠে হাত দিয়ে মুখ মুছলো। এখন একটা ড্রিংক পেলে ভাল হতো।
ট্রাকে একটা ফ্লাস্ক আছে,’ জর্ডন তাকে জানাল। আমারও একটু দরকার জিনিসটা। সে দাঁত বের করে হেসে বলল। আমি শুধু শুধু ভাবছিলাম একজন ভূতাত্ত্বিক হলে জীবন হয়তো একঘেয়ে হয়ে যায়।
ওরা যখন ট্রাকের দিকে ফিরছিল তখন একদল উত্তেজিত জনতা ওদের পাশ কাটিয়ে মৃতদেহগুলোর দিকে যাচ্ছিল।
‘এরা অবার এল কোত্থেকে? জর্ডন বলল। কেউ দেখলে হয়তো মনে করবে ওরা আগে থেকে জানতো কিছু একটা এখানে ঘটবে।
‘সম্ভবত তারা তা জানতো,’ কেইন তাকে জানাল।
রুথ কানিংহামকে হঠাৎ দেখে অসুস্থ মনে হলো, তার মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘আপনি ঠিক আছেন তো? সে কেইনকে জিজ্ঞেস করল।
কেইন মাথা নাড়ল। দুঃখিত, আপনাকে এসব দেখতে হচ্ছে।
মনে হলো তার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। সামনের সিটে গিয়ে কোনরকমে বসে নার্ভাস হয়ে হাতের মুঠো একবার বন্ধ করল আবার খুলতে লাগল।
প্রথম আততায়ীর দেহ তল্লাশি করে জামাল ব্যাগ ভর্তি যে মুদ্রা পেয়েছিল, জর্ডন সেগুলো পরীক্ষা করছিল। সেখান থেকে মুখ তুলে কেইনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, এগুলো নিয়ে কী করা হবে?’
‘এখন তোমার কাছেই রেখে দাও, কেইন তাকে জানাল। পরে এক সময় নিশ্চয়ই এর ব্যবহার কীভাবে করা যায় তা জানা যাবে।
জর্ডন দাঁত বের করে হাসল। এই পরিস্থিতিতে বেশ ভাল টাকা পাওয়া গেল। ড্যাশবোর্ডের নিচে একটা কম্পার্টমেন্ট থেকে সে একটা ব্রান্ডির ফ্লাস্ক বের করে লম্বা এক ঢোক খেয়ে ফ্লাস্কটা কেইনের হাতে দিল। কমপ্লিমেন্ট অফ দি হাউস।
কেইন ফ্লাস্কটা হাতে নিয়ে নিরবে তাকে টোস্ট করল। ব্রান্ডি গলা বেয়ে পেটে পড়তেই তার প্রায় শ্বাসরোধ হয়ে পড়ল। তারপর সে পেছনের সিটে গিয়ে বসল। তোমাকে এখনও ধন্যবাদ দেওয়া হয়নি। তুমি চমৎকার রিভলবার চালিয়েছ।
জর্ডন স্টিয়ারিং হুইলের পেছনে বসে গ্রামের দিকে ড্রাইভ করে চলল। ‘আমি ওয়াইমিংয়ে একটা খামারে বড় হয়েছি।’
একটা বড় রাস্তায় ট্রাকটা ঘুরিয়ে নিয়ে সবচেয়ে বড় বাড়িটার সামনে সে ব্রেক করল। এক পাল ছাগল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল।
