কেইন ইঞ্জিনের সুইচ বন্ধ করে দরজা খুলে এক লাফে মাটিতে নামল। তারপর ঘুরে একের পর এক দুইজন মহিলাকেই হাত ধরে নিচে নামাল। ট্রাকটা কয়েকফুট দূরে এসে ব্রেক কষে থামল এবং একজন লোক স্টিয়ারিং হুইল ছেড়ে নিচে নেমে ওদের দিকে এগিয়ে এল।
তামাটে মুখ বেপরোয়া চেহারার একজন যুবা পুরুষ, সাদা চুল ছোট করে ছাঁটা। পরনে রোদে ঝলসে যাওয়া খাকি পোশাক আর ডানদিকে কোমরে কালো চামড়ার খাপে একটা রিভলবার ঝুলছে। বুদ্ধিদীপ্ত হাসিতে তার দাঁত ঝিক করে উঠল। সে চেঁচিয়ে উঠল। আরে এতো খোদ শয়তান নিজেই হাজির। তুমি এখানে কী করে এলে?
কেইন দাঁত বের করে হেসে তার কাঁধে একটা ঘুসি মারল। আমি আশা করছিলাম তুমি হয়তো আমাদের সাহায্য করতে পারবে জর্ডন। একটু ঘুরে রুথ কানিংহামকে দেখিয়ে বলল। ইনি মিসেস কানিংহাম, স্বামীকে খুঁজতে এখানে এসেছেন। আমরা জানতে পেরেছি তিনি দুই মাস আগে বার আল মাদানিতে এসেছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল কয়েকদিনের জন্য শাবওয়া যাওয়ার। কিন্তু এর পর থেকে ইনি তার স্বামীর কোন খবর পাচ্ছেন না।
জর্ডন রুথের হাত ধরল, তার মুখ গম্ভীর। আমি দুঃখিত মিসেস কানিংহাম। সে এক মুহূর্ত ভ্রু কুঁচকে রইল। তারপর বলল–না আমি আপনার স্বামীর সম্পর্কে কোন কিছু শুনিনি। হয়তো গ্রামের গোত্র প্রধান কোন কিছু বলতে পারবে।
রুথ কেইনের দিকে ফিরতেই কেইন মাথা নাড়ল। আমি এখানকার গোত্রপ্রধান–ওমর বিন নাসেরকে চিনি। কোন কিছু জানা থাকলে সে আমাদের জানাবে।
জর্ডন ওদেরকে ফোর্ড পিকআপ ট্রাকটির দিকে এগিয়ে নিয়ে চলল। সে হাত ধরে রুথকে গাড়িতে উঠিয়ে দিল। তাহলে এ কথাই রইল কেইন, আমি তোমাকে আর মিসেস কানিংহামকে গ্রামে নামিয়ে দেব। বিকালে আমরা আবার দেখা করব। মেরির সাথে আমাকে অনেক বিষয়ে আলাপ করতে হবে।’
মেরি সামনের সিটে রুথ কানিংহামের পাশে চাপাচাপি করে বসল। কেইন আর জামাল ক্যানভাস ছাউনি দেওয়া পেছনের সিটে বসল। গাড়ি চলতে শুরু করতেই কেইন এমনি পেছনে ঘাড় ফিরিয়ে দেখল লালচে বাদামি রঙের আলখাল্লা আর মাথায় লাল আবায়া পরা একজন আরব বালিয়াড়ির পেছন থেকে উটে চড়ে রানওয়ের উপর দিয়ে এগিয়ে আসছে। প্লেনের কাছে এসে সে উটের পিঠ থেকে নেমে প্লেনের পাশেই দাঁড়াল।
কেইন জর্ডনের কাঁধে একটা টোকা দিয়ে বলল। এক মিনিট থামবে জর্ডন?’
জর্ডন ট্রাক থামাল, তারপর সবাই ঘুরে পেছন দিকে তাকাল। আরব লোকটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্লেনটা দেখছিল, তারপর মুখ তুলে ওদের দিকে তাকাল।
কেইন ট্রাক থেকে নেমে পড়ল। আমি দেখে আসি লোকটা কি চায়। হয়তো এমনিই কৌতূহল, তবুও বেদুঈনদের ব্যাপারে কিছুই বলা যায় না।
সে প্লেনের দিকে এগোতেই আরব লোকটিও তার সাথে দেখা করার জন্য এগোল। তার একহাত অলসভাবে বাকা জামবিয়ার রুপালি হাতলে রাখা। কেইন লোকটি থেকে কয়েক ফুট দুরে থেমে আরবিতে জিজ্ঞেস করল। তুমি এখানে কি চাও? কাউকে খুঁজছো?’
আরব লোকটির মুখ রেখাঙ্কিত আর চোয়াল নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে। চোখের মনি বিন্দুর মতো আর ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে লালা ঝরছিল। সে বলল, ‘কেইন নামে একজনের জন্য আমার কাছে একটা চিঠি আছে।
কেইন এক হাত দিয়ে কোল্টের বট ধরে রেখে বলল, “আমিই সে লোক। কোথায় চিঠি, দেখি?
সাথে সাথে আরব লোকটি খাপ থেকে জামবিয়াটা টেনে বের করতেই এর ব্লেড রোদে ঝলকে উঠল। কেইন দ্রুত এক কদম পিছু হটে খাপ থেকে কোল্ট বের করতে চেষ্টা করল। কিন্তু পিস্তলের ডগা তার পকেটের লাইনিংয়ে আটকে গেল। সে ছোরার ব্লেড থেকে বাঁচার জন্য ঝট করে মাথা সরিয়ে আরব লোকটির গলা ধরতে চেষ্টা করল।
এক মুহূর্ত তারা জাপটাজাপটি করতে লাগল, কেইন লোকটির হাত থেকে অস্ত্রটা ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করল।
আরব লোকটি ভীষণ জোরে তার হাঁটু উপরের দিকে উঠিয়ে মারল।
কেইন ব্যাথায় কাতড়ে উঠল, দুজনে জাপটাজাপটি করতে করতে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে লাগল। কেইনের দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তারপরও সমস্ত কিছু তার কাছে স্পষ্ট হয়ে এল। নোংরা লোকটার শরীরের তীব্র দুর্গন্ধ আর তার চোখের উন্মাদের মতো চাউনি সম্পর্কে সে সচেতন হলো।
দূরে নারী কণ্ঠের চিৎকার শোনা গেল আর তখনই সে অনুভব করল তীক্ষ্ণ কিছু একটা তার ডান নিতম্বে যন্ত্রণাময় খোঁচা দিচ্ছে। এটি কোল্ট রিভরবারটি, সে টেনেহিঁচড়ে পকেট থেকে সেটা বের করল। তারপরর কোল্টের ব্যারেল আরব লোকটির পেটে জোরে চেপে ধরল। লোকটা আঘাত হানার জন্য জাম্বিয়া উঁচু করতে সে দুবার ট্রিগার চাপলো।
এত কাছ থেকে গুলি করায় বুলেটের প্রচণ্ড শক্তি লোকটিকে পেছনের দিকে তুলে ফেলে দিল। কেইন উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল, কিন্তু তার কানে প্রচণ্ড আওয়াজ হচ্ছে। কেউ তার নাম ধরে চিৎকার করে উঠল। সে এরোপ্লেনের ডানা ধরে কোনোমতে টেনে নিজেকে ওঠালো। তখন তার নজরে পড়ল আরেকজন আরব দৌড়ে তার দিকে এসে মাথার উপর জাম্বিয়া উঁচু করল।
কেইন কোল্টটা উঁচু করতে চেষ্টা করল, কিন্তু মনে হলো তার হাতে কোন শক্তি নেই। আর তখন জর্ডন সেখানে পৌঁছাল। ভুতত্ত্ববিদ এক হাঁটু গেড়ে তার পাশে মাটিতে বসল, তার ভারী রিভলবারের ব্যারেল বামহাতের বাহুর উপর রেখে অত্যন্ত দ্রুত চারবার গুলি করল, মনে হচ্ছিল,যেন একটি গুলির আওয়াজ অনেকক্ষণ ধরে চলেছে।
