সে মেরির দুই কাঁধে দুই হাত রাখল। তুমি একটি চমৎকার মেয়ে।
সে হঠাৎ তার পাতলা শার্টের মধ্য দিয়ে মেরির দেহের উষ্ণতা সম্পর্কে সচেতন হল। কয়েক মুহূর্ত দুজন দুজনের দিকে একই ভাবে তাকিয়ে রইল। কেইন তাকে নিজের দিকে টানতেই সে কোন ধরনের বাধা দিল না।
কেইনের মনের মধ্যে যে তোলপাড় চলছে তা টের পেয়ে মেরি মৃদু হাসল। ‘বেচারি গ্যাভিন, তোমার এতদিনের ব্রম্মচারি-জীবনের ঘুম ভাঙ্গিয়ে আমি কি নিয়ম ভঙ্গ করেছি? তবে নারী হল ডেভিল, এটা এতদিনে তোমার জানার কথা।
‘আমি সে সত্য ভালভাবে জানি।’ সে বলল।
‘একটা ড্রিংক চলবে?
অনেক কষ্ট করে সেই লোভটি সে সামাল দিতে সফল হল। আমার মনে হয় না তা ঠিক হবে।’
মেরি তার হাত ধরল, তারপর তারা দুজনে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে বাগান পেরিয়ে গেটের দিকে হেঁটে চলল। দরজা খুলে তার দিকে চেয়ে মৃদু হাসল। ঠিক সাতটায় এয়ার স্ট্রিপে, দেরি করো না। আমি সকালেই যাত্রা করতে চাই।’
কেইন চাঁদের আলোয় দেখল, এক অপূর্ব সুন্দর মেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘দ্যাখো, যা হয়েছে তার জন্য আমি দুঃখিত।
মেরি এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ তাকে জড়িয়ে ধরল, কিন্তু আমি নই। তারপর সে তাকে দরজা থেকে বাইরে ঠেলে দিল।
কেইন, সেখানে অন্ধকারে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর পিছন ফিরে শহরের দিকে রওয়ানা হলো।
.
হোটেলে পৌঁছার পর সে রুথ কানিংহামের কামরায় গিয়ে দরজায় টোকা দিল। কোন সাড়া নেই। আর একবার চেষ্টা করে দরজা ঠেলা দিতেই খুলে গেল। ভেতরে ঢুকে দেখল কেউ নেই।
নিচ তলায় নেমে সে বারে গেল। স্কিরোজ জানালার পাশে সামনে এক গ্লাস ড্রিংক নিয়ে বসে আছে। সোজা তাকিয়ে রয়েছে রাতের অন্ধকারের দিকে। কেইন তার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
সে উপরের দিকে চেয়ে মৃদু হাসল। কোন কিছু পেলে?
কেইন মাথা নাড়ল। এবার আল মাদানি পর্যন্ত যাওয়ার তথ্য জানতে পেরেছি। সে মেরি পেরেটের একটা কনভয়ের সাথে সেখানে গিয়েছিল
স্কিরোজ অবাক হয়ে বলল, তাহলে আসলেই সে দাহরান নেমেছিল। আমি সত্যি অবাক হচ্ছি। এখন তুমি কি করবে?
‘আমরা কাল সকালেই মেরির সাথে প্লেনে সেখানে যাচ্ছি,’ আমি মিসেস কানিংহামকে খবরটা দেবার জন্য তার কামরায় গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি সেখানে নেই।
স্কিরোজ অন্ধকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, কয়েক মিনিট আগে তিনি এখান দিয়ে গেছেন। আমার মনে হয় তুমি তাকে সৈকতে পাবে।’
কেইন তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বারান্দায় এল। বাইরে বেশ ঠাণ্ডা আর মৃদু হাওয়ার সাথে সাগরের নোনা পানির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সে সিঁড়ি বেয়ে নিচে বালুতে নেমে এল। তারপর সামনে সাগরের সাদা ফেনা লক্ষ করে হাঁটতে শুরু করল। চন্দ্রালোকিত সৈকতে সে রুথকে খুঁজতে লাগল।
একটু হতাশ হয়ে থামল, তখন বাম দিকে পরিষ্কার কণ্ঠ শোনা গেল। ‘এই যে আমি এদিকে।
রুথ একটা মাছ ধরা নৌকার গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেইন এগোতেই সে বলল, কোন খবর আছে আমার জন্য?’
কেইন একটা সিগারেট ধরাল, তারপর মাথা নুইয়ে বলল—
‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় সব কিছু এখন ঠিক হয়ে যাবে। আমি আপনার স্বামীর খোঁজ পেয়েছি শাবওয়া থেকে দশ মাইল দূরে একটা আরব গ্রামে। আমরা সকালেই মেরি পেরেটের সাথে সেখানে প্লেনে যাচ্ছি। সেখানে আমি গ্রামের গোত্রপ্রধানের কাছ থেকে আরো সঠিক তথ্য যোগাড় করতে পারব।’
রুথ একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে কেইনের গায়ে হাত রেখে বলল, ‘মাই গড়, এতো খুবই চমৎকার।
রুথ নরম বালুতে বসে পড়ল। কেইন তার পাশে বসে একটা সিগারেট বের করে রুথের হাতে দিল। ম্যাচ জ্বালতেই রুথের চিবুকের একপাশ আলোকিত হয়ে উঠল, তার দু’চোখ পানিতে টলমল করছে।
কেইন তার হাত ধরে শান্তভাবে বলল, দেখুন সব ঠিক হয়ে যাবে।’
সে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ঘাড় কাত করল। ‘আপনি এ পর্যন্ত যা করেছেন, জানি না তার ঋণ কীভাবে শোধ করব।
‘তার জন্য আপনার কোন কষ্ট করতে হবে না, আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি। সে দাঁত বের করে হেসে উঠে দাঁড়াল। আর এখন আমার মনে হয় আপনার একটু ঘুমানো উচিত, মিসেস কানিংহাম। কাল ভোরেই আমাদের রওয়ানা দিতে হবে।’
রুথ আর কোন কথা না বাড়িয়ে কেইনকে হোটেলের বারান্দা পর্যন্ত এগিয়ে দিল। পরদিন ভোর ছটায় তাকে হোটেল থেকে তুলে নেবার ব্যাপারে কথা বলে সে জেটির দিকে এগিয়ে চলল।
পিরু একটা পাথরের উপর আসন গেড়ে বসে টুলছিল। কেইনকে দেখেই তাড়াতাড়ি সজাগ হয়ে মৃদু হাসল। অন্ধকারে তার দাঁতগুলো চক চক করে উঠল।
নৌকা বেয়ে লঞ্চের দিকে যেতে যেতে কেইন তাকে পরদিন বার আল মাদানিতে যাওয়ার কথা জানাল। সবকিছু তোমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ রেইল টপকে লঞ্চের ডেকে উঠতে উঠতে সে বলল। কোন দিকে থেকে কোন বিপদ আসে কিনা সেদিকে নজর রাখবে। বিশেষত সেলিমের কাছ থেকে।
পিরুকে ডিঙ্গিটা বেঁধে রাখতে বলে সে নিচে কেবিনে গেল। ভেতরে অন্ধকার নিরবতা। কেবল চাঁদের আলো পোর্নহোলের ফাঁক দিয়ে এসে ভৌতিক আঙুল দিয়ে তার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে।
সে বাংকে শুয়ে উপরে কেবিনের ছাদের দিকে তাকিয়ে মেরির কথা ভাবতে লাগল। একটা মুহূর্ত অন্ধকারে তার উপস্থিতির ছোঁয়া পেল আর মনে হলো সে তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে। ধীরে ধীরে সে ঘুমে তলিয়ে গেল।
