সে কেইনের দিকে ফিরে বলল। দুঃখিত গ্যাভিন, এর চেয়ে আর বেশি কিছু সাহায্য করতে পারলাম না।
কেইন মাথা নাড়ল। আপনি অনেক সাহায্য করেছেন। অন্তত এটুকু জানা গেল যে ভদ্রলোক বার আল-মাদানি পর্যন্ত গিয়েছেন। এর আগে আমি এটা নিশ্চিত হতে পারিনি যে তিনি আদৌ দাহরান এসেছেন।
আহমেদ মৃদু হাসলেন। ঠিক আছে। এখন যদি আপনি কিছু মনে না। করেন, তাহলে আমার হাতে অনেক কাজ পড়ে আছে।’
তিনি বাড়ির ভেতরে চলে যাওয়ার পর মেরি বলল, এই কানিংহাম লোকটি শাবওয়া এলাকায় কি করছিল?
কেইন কাঁধ ঝাঁকাল। তিনি একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ। সম্ভবত পাথরে খোদাই করা লিপি খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।
‘একা একা?’ সে অবিশ্বাসী স্বরে বলল। হতেই পারে না। শুধু মাত্র একজন বোকা লোক ছাড়া কেউ সেখানে একা যেতে চেষ্টা করবে না।’
‘কিংবা একজন মানুষ, যে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুসন্ধান করছিল।
কথাগুলো তার মুখ থেকে বের হতেই সে অনুতপ্ত হলো, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। মেরি ভ্রু কুঁচকে একটু সামনে ঝুঁকল। তারপর বলল, তুমি কিছু একটা লুকাচ্ছো, তাই না? পুরো ব্যাপারটা খুলে বললে ভাল হয় না?
কেইন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল। মনে হয় আমি তাই করেছি। একটি কারণ হলো তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে। আর অন্যটি হচ্ছে যেহেতু তুমি একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছো, কাজেই আমার কাছ থেকে আসল কথাটা বের না করা পর্যন্ত তুমি ক্ষান্ত হবে না।’
মেরি একটু মৃদু হেসে উঠে দাঁড়াল। ডিয়ার গ্যাভিন, এতদিনে নিশ্চয়ই তুমি আমাকে ভাল করে জেনেছো। চল বাগানে হাঁটতে হাঁটতে সব কথা খুলে বলবে।
ওরা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গাছের সারির মাঝ দিয়ে হাঁটতে লাগল। মেরি এক হাতে কেইনের বাহু জড়িয়ে ধরল। সে মেরির দেহের সুঘ্রাণ বুক ভরে টেনে নিল। অনেক দিন হল এ রকম অভিজ্ঞতা তার হয়নি।
কেইন বলতে শুরু করল, রুথ কানিংহামের আসা থেকে শুরু করে আলেক্সিয়াস আর তার মরুভূমিতে অভিযানের একটি বর্ণনা দিয়ে শেষ করল।
কেইনের বলা শেষ হলে ওরা দুজনে পানির ফোয়ারার ধারে একটা আসনে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে রইল। দূরে কোথাও একটা পাখি ডেকে উঠল আর মেরি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এটা সত্যি একটা আশ্চর্য কাহিনী!
‘তুমি বিশ্বাস করো না?’ কেইন বলল।
মেরি কাধ ঝাঁকাল। কানিংহাম যা করেছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন কি করতে চাও তুমি?
কেইন বলল, আমি শাবওয়া পর্যন্ত যাবো। বার আল-মাদানিতে গোত্রপ্রধানকে জিজ্ঞেস করে জানবো কানিংহামের কি হয়েছে।
মেরি উঠে দাঁড়াল, তারপর ওরা পেছনে বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল।
‘আমার ব্যক্তিগত ধারণা, তুমি কিংবা আর কেউ কখনো জন কানিংহামকে দেখতে পাবে না।’
কেইন মাথা নোয়ালো। সম্ভবত তোমার কথাই ঠিক। কিন্তু তার স্ত্রী নিশ্চিতভাবে না জানা পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না।’
মেরি বারান্দার নিচু রেলিংয়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল। আমি তোমার সাথে একমত। যাহোক, ব্যাপারটার দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারবো। কাল সকালে আমি প্লেন নিয়ে জর্ডনের সাথে দেখা করতে বার আল মাদানি যাচ্ছি। তার কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়েছে, সে বিষয়ে আলাপ করতে। সেখান থেকে পনেরো মাইল দূরে সে একটা পরীক্ষামুলক খনন কাজ চালাতে যাচ্ছে। সে তার লোকজনের সাহায্যে আমার জন্য মোটামুটি একটা এয়ার স্ট্রিপ তৈরি করেছে। আমি শুধু জামালকে সাথে নিচ্ছি। তোমার আর মিসেস কানিংহামের জন্য জায়গা হয়ে যাবে, যদি তোমরা যেতে চাও।
কেইন খুব খুশি হলো। তাহলেতো খুবই ভাল হয়।
‘জর্ডন ট্রাকে করে আমাকে তার ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। আমি সকালেই সেখানে পৌঁছাতে চাই। তখন তুমি আমার প্লেনটা নিতে পারো। ঐ এলাকায় দ্রুত একবার সার্ভে করতে তিন ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট।
‘এতে ট্রাকে করে যাওয়ার কষ্ট থেকে মিসেস কানিংহাম বেঁচে যাবেন। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম। আমার মনে হয় না এই ধরনের যাত্রার জন্য তার অভ্যাস আছে।’
‘তিনি কি দেখতে সুন্দরী?’ মেরি বলল।
সে কাঁধ ঝাঁকাল। স্কিরোজ অবশ্য তাই মনে করে।
কিন্তু তোমার বেশি আগ্রহ তার টাকার দিকে, তাই না?
তার স্বামীকে খুঁজে বের করার জন্য তিনি যে পারিশ্রমিক দিচ্ছেন তা বেশ আকর্ষণীয়। তবে মন্দিরের কাহিনীতে আমার আগ্রহ আরো বেশি।’
মেরি হালকাভাবে হাসল। সেই চিরকালের অনুসন্ধানকারী। তুমি কি কোনদিন পাহাড়ের এই পাশে যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবে না, গ্যাভিন?’
‘সম্ভবত নয়, সে বলল। আমার মনে হয় সে জন্যই আমি যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই প্রত্নতত্ত্ব আমাকে অনেক আকর্ষণ করতো। সে জন্যই আমি এখানে রয়ে গেছি, অথচ প্রত্যেক বছর প্রতিজ্ঞা করি এবছরই চলে যাবো। এখানে কত কিছু করার আছে–অবশ্য যদি টাকা থাকে। তার মানে মাঝে মধ্যে স্কিরোজের জন্য কাজ করা। তবে ভিক্ষার চাল কাড়া-আকাড়া। সে দাঁত বের করে হাসল।
সে কথা যখন উঠলই, তুমিই বা এখানে থাকছো কেন? তুমি তো অতি সহজেই আরো সুবিধাজনক জায়গায় তোমার হেডকোয়ার্টার করতে পারো। যেমন ধরো বোম্বেতে।
মেরি কাঁধ ঝাঁকাল। এটি একটি প্রাচীন জায়গা। আর আমার মা একটি প্রাচীন গোষ্ঠী থেকে এসেছেন। আমার ধারণা, এটা আমার রক্তে আছে।
