রুথ তার দিকে আগ্রহভরে তাকাল। তার মানে আপনি মনে করেন আমার স্বামী এখানে এসেছিলেন?’
কেইন মাথা নাড়ল। যদি তিনি জাহাজ থেকে নেমে একই দিন সরাসরি আপ কান্ট্রিতে চলে গিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে বোঝা যাচ্ছে কেন কেউ তাকে দেখেনি।
রুখের চেহারায় স্বস্তির ভাব ফিরে এল। সে কুশনে হেলান দিয়ে আরাম করে বসল। আমি নিশ্চিত তাই হয়তো ঘটেছে। একটু দুর্বলভাবে হাসল। এরপর আমাদের পদক্ষেপ কি হবে?
কেইন জানালার কাছে গিয়ে নিচে রাস্তায় লোকজনের ভিড়ের দিকে তাকাল। আরেকজন মানুষের সাথে দেখা করা বাকি আছে,’ সে বলল। মেরি পেরেট।’
রুথ অবাক হয়ে তার দিকে চেয়ে বলল, “একজন মহিলা? কিন্তু সে কীভাবে সাহায্য করবে?
কেইন মৃদু হেসে বলল, তিনি সাধারণ কোন নারী নন। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি। মেরি পেরেট আধা ফ্রেঞ্চ আধা আরব। জাঞ্জিবার থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ছড়ানো এক বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান তিনি। অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী একজন নারী। প্রত্যেকদিন তার ট্রাক যায় শাবওয়া এলাকায়। যদি আপনার স্বামীর ঐ এলাকায় যাওয়ার তাড়া থেকে থাকে তাহলে সে উপায়েই তার যাবার কথা।
কেইনের মুখের দিকে তাকিয়ে রুথ এবার একটু অন্যরকম হাসল। তিনি কি আপনার বন্ধু?
কেইন কাঁধ ঝাঁকাল। আমি তাকে চিনি। সে বলল। তিনি যা জানেন তা আমি জানতে চাইলে জানাবেন। তারপর সে দরজার দিকে এগোল। রাতে ফিরতে খুব দেরি না হলে আমি আবার আসবো।’
রুথ তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে টেবিল ঘুরে এলো। আমি এডেনে কনসালকে একটা চিঠি লিখে জানিয়েছি যে আপনাকে আমি খুঁজে পেয়েছি। বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সে হেসে উঠল। তিনি আমাকে লিখে জানাতে বলেছিলেন। তবে আমি নিজে এখানে আসাতে খুব একটা খুশি হন নি।
কেইন চিঠিটা নিয়ে পকেটে ভরে দাঁত বের করে হাসল। তার কথায় হয়তো কোন যুক্তি আছে। ঠিক আছে, পরে দেখা হবে।’
সে নিচে গেল, প্যাসেজ পার হয়ে ক্যাসিনোতে ঢুকলো। স্কিরোজ তখনো জানালার ধারে বসে রয়েছে, দাঁতের ফাঁকে একটা চুরুট আর হাতে একটা গ্লাস।
কেইন তার উল্টোদিকের চেয়ারে বসলো। মনে হচ্ছে ভাল একটা রাত পেয়েছে।
স্কিরোজ মৃদু হাসল। আমার কোন অভিযোগ নেই। সৌভাগ্যবশত এই জগত বোকা মানুষে পরিপূর্ণ, যারা বুঝে না যে হাউস সব সময় জিতে। মিসেস কানিংহামের স্বামীর খবর কি? কোন হদিশ পেলে?
কেইন মাথা নাড়ল। গনজালেস বলেছে তিনি এখানে আসেন নি। তবে তুমিতো জানোই তার কথায় কতটুকু ভরসা করা যায়। আমি এখন যাচ্ছি মেরি পেরেটের সাথে দেখা করতে। সে হয়তো কিছু জানতে পারে।’
তারপর উঠে দাঁড়িয়ে সে পকেট থেকে রুথ কানিংহামের চিঠিটা বের করে টেবিলে রাখল। এটা আমার হয়ে মেইল ব্যাগে দিয়ে দিও। বেশ জরুরি।’
স্কিরোজ মাথা নোয়ালো আর আঙ্গুলে তুড়ি মেরে একজন ওয়েটারকে ডাকল। তুমি ঠিক সময়ে এসেছে। আমি একজন ছেলেকে এখুনি জেটিতে পাঠাচ্ছি। দশটার জোয়ারের সময় মেইল বোট ছেড়ে যাওয়ার কথা।
সে ওয়েটারের হাতে চিঠিটা দিয়ে সংক্ষেপে নির্দেশ দিল। একটা ড্রিংকের সময় হবে তোমার?
কেইন মাথা নাড়ল। অন্য সময় স্কিরোজ। পরে আবার হয়তো মিসেস কানিংহামের সাথে দেখা করার জন্য আসতে পারি।’
স্কিরোজ মৃদু হাসল। আমি বিশ্বাস করি তুমি নিশ্চয়ই মনে রাখবে এটা ব্যবসা। তিনি অত্যন্ত আকর্ষণীয় একজন মহিলা।
কেইন উত্তর দেবার প্রয়োজন বোধ করল না। সে ঘুরে ভিড় ঠেলে ফয়ার পার হয়ে বাইরে চলে গেল।
সরু পথের মাঝখান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে স্কিরোজের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে ভাবলো। এটা অস্বীকার করা বোকামি হবে যে মিসেস কানিংহাম একজন আকর্ষণীয় মহিলা। তবে সেই প্রথম জেটিতে দেখা হওয়ার সময় যে সাময়িক উত্তেজনা আর অস্বস্তি সে অনুভব করেছিল, তারপর আর সে তার সম্পর্কে দৈহিক কোন ধরনের আকর্ষণ অনুভব করেনি
অনেক বছর পর এই প্রথম সে তার মনমতো একজন নারীর দেখা : পেয়েছে। তারপরও তার কোন অনুভূতি নেই। তবে যে কোন নারীর ব্যাপারে সে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করে থাকে। বিয়ের আগে প্রথম কয়েক মাস লিলিয়ানকে চমৎকার মেয়ে মনে হয়েছিল। এরপর যা ঘটেছিল তা মনে করে সে এক ধরনের আনন্দ অনুভব করল এই ভেবে যে, এখন লিলিয়ান আর তার জীবনের অংশ নয়। এরপর সে পথের এক পাশে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরাল।
এটিই দিনের সবচেয়ে ভাল সময়। শান্তির সময়–স্থানীয়রা বলে। বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর আলো পানিতে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করছে। আর কাছের একটা ক্যাফে থেকে কারও বিয়ের উৎসবের গানবাজনা আর হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
বিভিন্ন রঙের আলখাল্লা পরে আরবরা রাস্তার পাশে টেবিলে বসে ছোট ছোট কাপ থেকে কফিতে চুমুক দিচ্ছে আর নিজেদের মধ্যে অনবরত কথা বলে যাচ্ছে। রাস্তায় রাতের বাজারে বিভিন্ন পণ্যের সমারোহ। হাতে তৈরি পিতলের জিনিস থেকে শুরু করে রান্না করা নানা খাবার বিক্রি হচ্ছে।
চারপাশের হৈ হুল্লোর আর আনন্দ উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ভিড় ঠেলে সে এগিয়ে চলল।
আরো এগোতেই ক্রমশ রাস্তার লোকজন কমে এল, তারপর সে রাস্তা ছেড়ে একটা গলির মধ্যে চলে এল, যেখান থেকে খোয়া বাধানো পথ চলে গেছে সৈকতের বাঁকা অংশের দিকে।
শৈলান্তরীপের একদম শেষ মাথায় সাগরের দিকে মুখ করে মেরি পেরেটের বাড়িটির অবস্থান। চারপাশে উঁচু দেয়াল ঘেরা, এক একর বাগানের মাঝে সমতল ছাদের একটা দোতালা দালান।
