দুজন আরব পা ভাঁজ করে বসে আছে একটু নিচু টেবিলের পাশে। একটা কফি পট আর ছোট ছোট কয়েকটা কাপ সাজানো রয়েছে টেবিলের উপর। লোকদুটো আতংকিত হয়ে কেইনের দিকে তাকাতেই সে রিভলবারটা ওদের দিকে তাক করল।
‘সেলিম কোথায়? সে আরবিতে জিজ্ঞেস করল
একজন কাঁধ ঝাঁকাল, ‘সে দুপুরেই চলে গেছে। আমার মনে হয় সে অনেক দূরে তার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গেছে।’
কেইন একটা মুহূর্ত ওদের দিকে সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তাকাল। কোল্ট নিচু করে চলে যেতে উদ্যত হতেই, একটা পরিচিত গন্ধ তার নাকে এল। এটা সেই বাসি, পঁচা অলিভ অয়েলের গন্ধটা।
সে ধীরে ধীরে ঘুরে ওদের মুখোমুখি হল। তোমাদের আলখাল্লা খোলো! ওরা ভীত হয়ে পরস্পরের দিকে তাকাল। আর যে লোকটা এর আগে কথা বলেছিল সে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করল। কেইন দ্রুত সামনে এগিয়ে চেহারায় হিংস্রভাবে নিয়ে বলল। যা বলছি তাই কর।
যে লোকটা কথা বলেছিল সে কাঁধে একটা ঝাঁকি দিয়ে তার আলখাল্লা খুলতে শুরু করল। কিন্তু অন্য লোকটা হঠাৎ দরজার দিকে ছুটে গেল। কেইন একটা পা বাড়িয়ে ল্যাং মেরে তাকে ফেলে দিল। লোকটা উঠে দাঁড়াতেই কেইন লিভলবারের বাঁট দিয়ে তার মুখে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করল। রিভলবারের ভারী বাটের আঘাতে তার গাল কেটে গেল, সে ডেকে পড়ে গিয়ে কাতরাতে শুরু করল।
কেইন কোল্টটা পকেটে ভরে দরজার দিকে এগোল। সেখানে একটু থেমে ঘুরে দাঁড়িয়ে অন্য লোকটিকে বলল, ‘সেলিমকে বলো তার জন্য ভাল হবে যদি সে দাহরান ছেড়ে চলে যায়।
দরজা বন্ধ করে ডেক পেরিয়ে সে ডিঙ্গিতে নামল। পিরু জিজ্ঞেস করল, ‘সব ঠিক আছে তো, সাহেব?’
কেইন মাথা নেড়ে বলল, তা সেরকমই বলতে পারো। এখন তুমি আমাকে জেটির দিকে নিয়ে যাও। আমি শহরে যাবো।
জেটিতে দাঁড়িয়ে কেইন অন্ধকারে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, পিরুর ডিঙি নিয়ে ফিরে যাওয়ার শব্দ শুনলো, তারপর রুথ কানিংহামের সাথে দেখা করার জন্য ওয়াটারফ্রন্ট ধরে হোটেলের দিকে এগিয়ে চলল।
.
০৭.
আলোয় ঝলমলে হোটেলের প্রবেশ পথে প্রচুর লোকজনের ভিড়। কেইন ভিড় ঠেলে ক্যাসিনোর দরজার দিকে এগিয়ে গেল। স্কিরোজ জানালার ধারে একটা টেবিলে বসে রয়েছে। তার দুই চোখ এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরছে, আর যখনই ডিলাররা সবুজ টেবিল কভারের উপর দিয়ে চিপসগুলো নিজেদের কাছে টেনে নিচ্ছে তখনই তার চেহারায় সন্তুষ্টির ভাব দেখা যাচ্ছে।
কেইনকে দেখে সে মৃদু হেসে হাত নেড়ে ইশারা করল। কেইনও একটু মাথা নেড়ে ঘুরে অন্যদিকে চলে গেল।
বারে জমজমাট ব্যবসা চলছে, ক্যাটলিনার ক্রু-রোমেরো, নোভাল আর কোন্ডে ফ্লাইং জ্যাকেট পরে সেখানে বসে রয়েছে। রোমেরো হাত উঠিয়ে ওর দিকে ইশারা করতেই কেইন তাদের সাথে যোগ দিল।
‘ভাল কোন কার্গো আনানেওয়া করেছে ইদানিং?’ রোমেরো জিজ্ঞেস করল।
‘পাতিল বলছে কেটলি তুমি কালো কেন,’ কেইন বলল। “গুপ্ত জানাল তোমরা আর একটা পর্তুগিজ কার্গো জাহাজ ত্রিশ মাইল ভেতরে মাল খালাস করছে।
রোমেরো মৃদু হাসল। বন্ধু, আমাদের সবাইকে কিছু করে খেতে হয়।
‘সাবধানে থেকো,’ কেইন বলল। যদি সে তোমাকে দেখে থাকে, তাহলে অন্য কেউও দেখতে পারে।
তারপর সে চলে গেল। নোভাল বলল, “সে ঠিক বলছে।’
রোমেরো কাঁধ ঝাঁকাল। নো প্রবলেম। আর কয়েকটা দিন তারপর তো সব শেষ হয়ে যাবে। চল আরেকটা ড্রিংক নেওয়া যাক।
করিডোর একদম নিস্তব্ধ। আর এখান থেকে নিচের কোলাহলের শব্দ আশ্চর্যরকম কেমন চাপা আর অবাস্তব শোনাচ্ছে, যেন অন্য কোন জগত থেকে শব্দটা আসছে।
রুথের কামরার দরজার উপরের স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে আলো দেখা যাচ্ছিল। সে আস্তে দরজায় টোকা দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো। প্রায় সাথে সাথে দরজা খুলে গেল আর রুথ মুখ বের করে তাকাল।
তার পরনে ভারী সিল্ক ব্রোকেডের হাইসকোট। কোমরে লাল রঙের স্যাস দিয়ে বাঁধা। খোলা চুল কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে। মুখ একটু ফ্যাকাসে আর একটু ঝুলে রয়েছে, মনে হচ্ছে রাতে ভাল ঘুম হয়নি। একট মৃদু হেসে একপাশে সরে দাঁড়াল।
কেইন ঢুকতেই রুথ দরজা বন্ধ করে দরজার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। কেইনের মুখের দিকে অনুসন্ধিৎসু চোখে তাকাল। কয়েক মুহূর্ত পরে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলল, এখন পর্যন্ত আমার জন্য কোন খবর আনতে পারেন নি, তাই না?
এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ ইতস্তত করে কেইন কাঁধ ঝাঁকাল। দুঃখিত পাই নি।’
জানালার ধারে রাখা একটা বেতের চেয়ারের কাছে গিয়ে রুথ বসল। তার চেহারায় একটু অধৈর্য ভাব দেখা গেল। অবশ্যই আপনি কিছু একটা জেনেছেন। এটা একটা ছোট শহর, কেউ না কেউ তাকে দেখেছে।’
কেইন কাঁধ ঝাঁকাল। পুরো ব্যাপারটায় এটাই একটা আজব বিষয়। মনে হচ্ছে কেউই আপনার স্বামীর সম্পর্কে কিছুই জানে না। সবশেষে আমি কাস্টমস চিফের সাথে কথা বলেছি। সে শপথ নিয়ে বলেছে গত দুই মাসে আপনার স্বামী দাহরানে নামেন নি।
‘কিন্তু তা অসম্ভব, সে বলল। আমরা জানি তিনি এসেছিলেন।’
কেইন মাথা নাড়ল। আমরা জানি আসতে চেয়েছিলেন। আমরা জানি তিনি এডেন থেকে জাহাজে উঠেছিলেন। তারপর হয়তো তিনি অন্য কোন বন্দরে নেমেছেন–যেমন মুকাল্লা।’
আপনার কি মনে হয়, তা সম্ভব?
কেইন কাঁধ ঝাঁকাল। অনেক কিছুই হতে পারে। অবশ্য আমি এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত হই নি যে আপনার স্বামী দাহরান নামেন নি। ক্যাপ্টেন গনজালেসের দায়িত্ব অবহেলা করার অভ্যাস আছে। এখানে যত জাহাজ নামে তার অর্ধেকও যদি সে চেক করে থাকে তাহলে খুবই ভাল, কিন্তু সে তা কখনো স্বীকার করবে না।’
