কেইন মাথা নেড়ে সায় দিল। হ্যাঁ, এই ব্যাপারটাই আমি বুঝতে পারছি না। এমনকি স্কিরোজও তার সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর এর মানেই কিছু একটা রহস্য আছে।
মুলার কাঁধ ঝকানি দিয়ে বলল, “দুঃখিত, আমি কোন সাহায্য করতে পারলাম না।’
কেইন বলল, “ঠিক আছে। আমি এখন ভাবতে শুরু করেছি হয়তো এই ভদ্রলোক আদৌ এখানে আসেন নি।’
জার্মান লোকটি বলল, ঠিক সে রকমই মনে হচ্ছে।
কেইন নিচে নেমে এল। সাথে সাথে পেছনের অন্ধকার করিডোর থেকে পরিচারক এগিয়ে এসে তাকে পথ দেখিয়ে দরজা পর্যন্ত নিয়ে গেল। বাইরে বের হওয়ার পর তার পেছনে দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পর সে প্রচণ্ড গরমে পথে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত ভাবতে লাগল তার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে। সত্যি বলতে কি এই মুহূর্তে কেবল একটি কাজই করা বাকি আছে। ক্যাপ্টেন গনজালেসের কাছে গিয়ে খোঁজ করতে পারে। তার অবশ্যই মনে থাকার কথা যদি গত দুই মাসের মধ্যে কানিংহাম নামে কোন ইউরোপীয় মেইল বোট থেকে এখানে নেমে থাকে।
সে একই পথ দিয়ে শহরের দিকে ফিরে চলল। হোটেল পার হয়ে ওয়াটার ফ্রন্ট হয়ে উত্তরের জেটির দিকে চলতে লাগল। এই স্পেনিয় লোকটির বাড়ি এই জেটির ঠিক পাশে সাগর সৈকতের দিকে মুখ করে তৈরি। কেইন দরজায় করাঘাত করার সাথে সাথেই লম্বা বোরখা পরিহিত একজন মহিলা দরজা খুলল।
মহিলাটি তাকে পথ দেখিয়ে ভেতরের একটা উঠানের দিকে নিয়ে চলল। সেখানে সে দেখল গনজালেস আরাম করে একটা ডিভানে শুয়ে এক হাতে একটা বিয়ারের ক্যান থেকে লম্বা গ্লাসে বিয়ার ঢালছে।
সে মুখ তুলে তাকিয়ে হাসি মুখে বলে উঠল, “দেখলেতো তুমি আমাকে হাতেনাতে ধরে ফেললে। ইতোমধ্যেই আমি আমেরিকান অভ্যাসের দাস হয়ে পড়েছি। চলবে নাকি?”
কেইন মাথা নাড়ল। না এবার না করব না, অবশ্য যদি তুমি কিছু মনে না করো।’
মাথার টুপিটা পেছনে ঠেলে দিয়ে সে ডিভানের শেষ মাথায় বসল। গনজালেস বলল। তুমি কিন্তু অকারণে আমার বাসায় পদধূলি দাও না। সম্ভবত তোমার কোন সাহায্য দরকার।’
কেইন দাঁত বের করে হাসল। সত্যি বলতে কি সে জন্যই এবার এসেছি।’
স্পেনিয় লোকটি আত্মপ্রসাদের ভাব নিয়ে কুশনে হেলান দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল। হুঁ, আগে হোক পরে হোক সবাই আমার কাছে আসে। আমার বিশ্বাস তুমি নিশ্চয়ই আমাকে দোষারোপ করবে না যে, আমি গর্ব করছি এই বলে যে দাহরানে খুব কম ঘটনাই ঘটে যা শীঘ্রই হোক, দেরিতেই হোক আমি জানতে পারি না।’
কেইন মাথা নেড়ে সায় দিল। সে আমি জানি আর সেজন্যই আমি এখানে এসেছি। মিসেস কানিংহাম নামে একজন মহিলা এই শহরে এসেছেন।’
গনজালেস সায় দিল। এই তো। তিনি আজকেই এডেন থেকে আসা মেইল বোট থেকে নেমেছেন।’
‘তিনি তার স্বামীকে খুঁজছেন। দুইমাস আগে তিনি তার স্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে, তিনি দাহরান আসছেন। তার উদ্দেশ্যে ছিল শাবওয়ার দিকে যাওয়া। সেই থেকে মহিলা তার স্বামীর খোঁজ পাননি।
গনজালেস ভ্রূ কুঁচকালো। লোকটার নাম কী বললে–কানিংহাম, তাই? সে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। আমার মনে হয় তিনি ভূল করছেন। এই নামে কোন লোক দাহরান আসেনি।
‘তুমি কি এ ব্যাপারে একদম নিশ্চিত? কেইন জানতে চাইল।
গনজালেস কাঁধ ঝাঁকাল। কি করে আমার ভূল হবে? আমি কি রোজ প্রত্যেকটা জাহাজ দেখি না?’
একটা মুহূর্ত কেইন ভাবলো বিষয়টা নিয়ে তর্ক করবে কিনা। কিন্তু পরে ভাবলো এতে কোন লাভ নেই। দাহরানের সবাই জানে যত জাহাজ এখানে আসে তার অর্ধেকও এই স্পেনিশ লোকটা চেক করে না। এটা নিয়ে তর্ক করে সত্যি প্রতিষ্ঠা করা সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। সে মাথার ক্যাপটা টেনে নিচে নামিয়ে বলল, যাই হোক তোমাকে ধন্যবাদ। সম্ভবত মিসেস কানিংহাম কোন একটা ভুল করেছেন।
গনজালেস বিজ্ঞের মতো বলল, এটা সব মহিলারাই করে থাকে।
পেছনে দরজা বন্ধ হতেই কেইন বাড়ির বাইরে এসে সামনে বন্দরের মাঝে তার লঞ্চের দিকে তাকাল। দেখল পিরু সামনের ডেকে আসন পেতে বসে আছে। সে জানে পিরুও তার দিকে চেয়ে রয়েছে।
হঠাৎ সে খুবই ক্লান্ত বোধ করল। হিপ পকেটে হাত ঢুকিয়ে রুথ কানিংহাম তাকে যে খামটা দিয়েছিল, সেটা বের করল। কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে ভাবলো, তারপর হঠাৎ একটা সিদ্ধান্তে এল। দাহরানে আরেকজন মাত্র মানুষ আছে যে এই জুন কানিংহাম সম্পর্কে কোন কিছু জানতে পারে। সেটি হল মেরি পেরেট। তার সাথেই দেখা করতে হবে। তবে সন্ধ্যায় একটু ঠাণ্ডা পড়লে তারপর যাবে।
সে হেঁটে জেটির শেষ মাথায় গেল। পিরু তাকে দেখেই লঞ্চের পেছন দিক থেকে এক লাফে নিচে ডিঙ্গিতে নেমে পড়ল, তারপর দ্রুত বৈঠা বেয়ে তার দিকে এগোতে শুরু করল। কেইন ধপ করে ডিঙির মাঝখানে বসে পড়তেই পিরু লঞ্চের দিকে ডিঙিটা ফিরিয়ে নিয়ে চলল। আমি যখন বাইরে ছিলাম তখন কি কেউ এসেছিল?
পিরু মাথা নাড়ল। সব একদম চুপচাপ, সাহেব। এই গরমে কোন বোকা লোক ছাড়া কে আর বাইরে বের হবে।’
কেইন দাঁত বের করে হাসতেই পিরুর মুখ হতাশায় কালো হয়ে গেল। ‘আমি দুঃখিত সাহেব।’ সে বলল। আমি বোকার মতো কথা বলে ফেলেছি।
কেইন মাথা নেড়ে রেইল টপকে লঞ্চে উঠল। না, পিরু তুমি একদম সঠিক কথাটি বলেছে। আমি খুব টায়ার্ড হয়ে গেছি। নিচে যাচ্ছি ঘুমুতে। আটটার দিকে তুলে দিও, ঠিক আছে?
