আচ্ছা! তাই নাকি? রুথ ধীরে ধীরে বলল, ‘এতে বোঝা যায় কেন আমার স্বামী এই আবিষ্কার নিজের কাছে রেখেছিলেন।
কেইন নাক টেনে বলল, তিনি একজন বোকা লোক। এ ধরনের বিষয় সফলভাবে সামলাতে পারে কেবল মাত্র পুরোপুরি সুসজ্জিত একটা অভিযাত্রী দল।
‘কিন্তু আপনি বুঝতে পারলেন না? রুথ বলল। সে আমার সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিল। সে চেয়েছিল এটা হবে কেবল তার নিজের একার, কোন সাহায্য ছাড়া একটি আবিষ্কার। যদি সে বিখ্যাত হতো সেটা হতো কোন মানুষের সাহায্য ছাড়া নিজের চেষ্টায় অর্জিত খ্যাতি।
কেইন অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হাসল। যদি তিনি রাব আল-খালিতে একা যাবার চেষ্টা করে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে তিনি একজন বোকা মানুষ। পানির তৃষ্ণায় মরে না গেলেও সম্ভবত গলা কাটা অবস্থায় বালুতে কোথাও উপুড় হয়ে পড়ে আছেন।’
রুথের চোখে গভীর বেদনার আভাস দেখা দিল, সে নার্ভাস হয়ে বার বার হাত মুঠো করতে লাগল। আপনি বলেছেন শাবওয়া নিরাপদ জায়গা নয়, ক্যাপ্টেন কেইন। এটা বলতে আপনি ঠিক কি বুঝাতে চেয়েছেন?
সে কাঁধে একটা ঝাঁকি দিল। এডেন একটি সংরক্ষিত এলাকা আর ওমানের সাথে সউদী আরবের সীমান্ত বিরোধ আছে। বছরকে বছর ধরে সর্বদা গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ লেগেই আছে। এই জায়গার সামরিক নিরাপত্তা দেখার ভার ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হাতে। তবে বিশ্বাস করুন এমনিতেই ওরা কর্মব্যস্ত। তাছাড়া সব জায়গায় সাথে সাথে পৌঁছাতে পারে না বলে সেই সব জায়গাকে ওরা ব্যান্ড সিকিউরিটি এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ কেউ যদি বোকার মতো সেসব এলাকায় যায় তবে তাদের কিছু হলে ব্রিটিশরা কোন দায় নেবে না।’
এরপর রুথ অস্থির হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলল, তার মানে শাবওয়া সে রকমই একটা এলাকা?
কেইন মাথা নেড়ে সায় দিল। অবশ্যই তাই। তারপরও লোকজন সেখানে যায়। যেমন এই মুহূর্তে জর্ডন নামে একজন আমেরিকান ভুতত্ত্ববিদ সেখানে তেল অনুসন্ধান করছে। সেখানে সে টিকে থাকতে পারছে চারদিকে মুড়ির মতো রুপার মারিয়া থেরেসা ডলার মুদ্রা ছড়িয়ে আর নিজের চারপাশে একদল বাছাই করা গলাকাটা ডাকাত জড়ো করে। এরা নিজেদের স্বার্থে নিশ্চিত করবে যেন সে জীবিত থাকে।
‘আপনি কখনও সেখানে গিয়েছেন?
কেইন মাথা নাড়ল কয়েকবার, তবে সেখানকার স্থানীয় উপজাতি গোষ্ঠীর মাঝে আমি সুপরিচিত। এরা বেশিরভাগই মুসাবেইন আর একবার আপনাকে পছন্দ করলে ওরা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। তবে মুশকিল হলো শূন্য এলাকার সীমানায় দস্যুদের আবাস। যে সব লোকদেরকে বিভিন্ন অপ্রীতিকর কাজের জন্য তাদের গোত্র থেকে বের করে দেওয়া হয় তারাই সেখানে আড্ডা গেড়ে থাকে। যদি ওরা আপনাকে বাগে পায় তাহলে জ্যান্ত ছাল ছিঁড়ে রোদে টাঙিয়ে রাখে। কেমন লোক ওরা বুঝতেই পারছেন।
রুথের পুরো চেহারায় আতংক ভরে উঠল। আপনি মনে করেন সেরকম কিছু একটা আমার স্বামীর ক্ষেত্রে ঘটেছে?
কেইন কাঁধে ঝাঁকি দিল। কিছুই বলা যায় না, নাও হতে পারে, তবে তার সম্ভাবনা খুবই কম। রুথ প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে কাঁপতে দুহাতে মুখ ঢাকলো কেইন উঠে তার পাশে এসে দাঁড়াল। এক হাত তার কাঁধে রাখল। বিশ্বাস করুন, মিসেস কানিংহাম, আমি কেবল আপনাকে সত্য কথাটাই বলার চেষ্টা করছি। তবে তার যে কোন কিছু হতে পারে।’
রুথ উঠে দাঁড়িয়ে এক হাত দিয়ে কেইনের বাহু আঁকড়ে ধরে তার দিকে তাকাল। কিন্তু জীবিতও তো থাকতে পারেন? এটা কি সম্ভব নয়?’
একটা মুহূর্ত সে প্রায় বলে ফেলতে যাচ্ছিল যে, এর আশা খুব কম। তারপর মৃদু হেসে তার হাতে আলতো করে চাপড় মেরে বলল, অবশ্যই এটা সম্ভব হতে পারে।
রুথ কাঁদতে শুরু করল। কেইন এক হাত দিয়ে তার কাধ ধরে তাকে। বারের দিকে নিয়ে চলল। আমার মনে হয় এখন আপনি আপনার কামরায় গিয়ে একটু বিশ্রাম নিন। আমি কয়েক জায়গায় খোঁজ নেবো। হয়তো কিছু একটা জানতে পারব। যদি আপনার স্বামী দুমাস আগে দাহরানে এসেই থাকেন তাহলে কেউ না কেউ তাকে অবশ্যই দেখেছে।
রুথ একথা শুনে ঘাড় কাত করল। তারপর ওরা হল পার হয়ে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল। কামরার দরজায় পৌঁছার পর রুথ পার্স থেকে চাবি বের করে তালা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল। কেইন ধীরভাবে তার হাত থেকে চাবি নিয়ে দরজা খুলে তার পেছন পেছন কামরায় ঢুকল।
খালি কামরাটার এক কোণে কয়েকটা সুটকেস দাঁড় করানো রয়েছে। রুথ এগিয়ে উপরের সুটকেসটা খুলল। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একটা ভারী এনভেলাপ নিয়ে ফিরে এল। এটি হল পান্ডুলিপিটার অনুবাদ, আমার মনে হয় এটা আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হবে।
সে খামটা পকেটে ভরে মৃদু হাসল। আমি সন্ধ্যা সাতটার দিকে আপনার সাথে দেখা করব। তখন হয়তো আপনার জন্য কিছু খবর নিয়ে আসতে পারি।’
রুথও মৃদু হাসল–”আমি অপেক্ষায় থাকব, ইতোমধ্যে একটু ঘুমাবার চেষ্টা করব।
তার হাসির প্রত্যুত্তরে কেইনও মৃদু হেসে দরজা বন্ধ করে চলে গেল।
.
০৬.
করিডোর দিয়ে হেঁটে সিঁড়ির মাথায় পৌঁছতেই পেছনে একটা দরজা খোলার ক্লিক শব্দ হল। একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল, এত তাড়াতাড়ি তোমার আর মিসেস কানিংহামের মধ্যে বোঝাঁপড়া হয়ে গেলো?
স্কিরোজ তার প্রাইভেট কামরার দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, দাঁতের ফাঁকে শক্ত করে একটা চুরুট কামড়ে ধরে রেখেছে, মুখে মৃদু হাসির আভা। কেইন ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। ভাবলাম খুঁজে দেখি তিনি আসলে কিসের পেছনে ছুটছেন।
