কেইন নোটগুলো টেবিলের ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রাখল। তুমি একটা বুড়ো মাকড়সা। খুব ভাল করেই জানো এ টাকার বেশির ভাগ তোমার কাছেই ফিরে আসবে, হয় তোমার হোটেলের বারে কিংবা জুয়ার টেবিল থেকে।’
স্কিরোজ আবার হেসে উঠল, তার সারা মুখ এমনভাবে কেঁপে উঠল যে দুই চোখ প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেল। তারপর সে দুপায়ে খাড়া হলো।
‘এবার যেতে হবে। দরজার দিকে এগিয়েই তারপর একটু থামল। ‘একটা জরুরি খবর প্রায় ভুলেই বসেছিলাম। সে ধীরে ধীরে ঘুরল, “আজ বিকেলের জাহাজে এডেন থেকে একজন মহিলা এসেছেন। একজন আমেরিকানমিসেস কানিংহাম, বেশ সুন্দরী। তিনি তোমাকে খুঁজছিলেন।
কেইনের দেহ শক্ত হল। হঠাৎ অবাক হয়ে তার ভ্রু কুঁচকে উঠল। কানিংহাম নামেতো কাউকে আমি চিনি না।’
স্কিরোজ কাঁধে একটা ঝাঁকি দিয়ে বলল, তিনি তোমাকে চেনেন অথবা তোমার সম্পর্কে জানেন সম্ভবত। আমার হোটেলে উঠেছেন। আমি তাকে বলেছিলাম তোমার সাথে আজ আমার দেখা হবে। তখন তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন তোমাকে একটা খবর দিতে। তুমি যেন আজ তার সাথে হোটেলে গিয়ে দেখা করো। জরুরি একটা ব্যাপারে।
কেইন টেবিলে দুহাত রেখে একটু সামনে ঝুঁকে ভ্রু কুঁচকে টেবিলের দিকে তাকিয়ে রইল। খানিকক্ষণ থেমে স্কিরোজ বলল, “আসছো তাহলে?
কেইন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড় কাত করে বলল, “অবশ্যই যাবো। আজ সন্ধায় যে কোন একসময় যাবো।’
স্কিরোজ মাথা নাড়ল। আমি তাই জানাবো তাকে। সে মৃদু হাসল। এত দুশ্চিন্তা করছো কেন। তিনি হয়তো একজন টুরিস্ট। সম্ভবত তোমার লঞ্চ ভাড়া নিতে চান, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য।
কেইন ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। হয়তো তোমার কথাই ঠিক। কিন্ত তার মনে হল, এটা কারণ হতে পারে না–অন্তত এই মুহূর্তের জন্য। স্কিরোজ চলে যাবার পর সে বাংকে শুয়ে উপরে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে অতীতের দিকে পেছনে ফিরে খুঁজতে চেষ্টা করল রুথ কানিংহামকে, কিন্তু কোন ফলোদয় হলো না। এই নামে কাউকে মনে পড়ল না।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল তিনটা বেজেছে। আরও কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে লম্বা একটা শ্বাস ফেলে মেঝেতে পা নামাল। তারপর পোশাক পরতে শুরু করল।
ফেডেড জিন্স আর সোয়েট শার্ট পরে উপরে ডেকে গেল। পিরু রেইলে হেলান দিয়ে চোখ বুজে ঢুলছিল। কেইন তাকে আস্তে ঠেলা দিতেই সে সাথে সাথে জেগে উঠে দাঁড়াল। আমি তীরে যাচ্ছি, তুমি কী করবে? কেইন বলল।
পিরু বলল, না এখন নয় পরে যাবো। আমি ডিঙিতে করে আপনাকে জেটিতে পৌঁছে দিয়েই আবার ফিরে আসবো। এটাই ভাল হবে। সেলিম আবার হয়তো আসবে।’
কেইন সায় দিয়ে বলল, তোমার কথায় যুক্তি আছে। যদি সে আসে তবে তুমি বালিশের নিচে আমার কোল্ট রিভলবারটা পাবে। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে মোটেই ইতস্তত করো না। এখানে আমার অনেক বন্ধু আছে, ওর চেয়েও বেশি।
সে ডিঙ্গিতে চড়ে বসতেই পিরু দ্রুত দাঁড় বেয়ে পাথরের জেটির দিকে চলল। জেটিতে পৌঁছার সাথে সাথে কেইন লোহার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠল। উপরে উঠতেই তার নজরে পড়ল কয়েক ফুট দূরে একটা বড় পাথরের উপর বসে একজন মহিলা তার দিকে চেয়ে রয়েছে।
সে সামনে এগোতেই মহিলাটিও উঠে দাঁড়িয়ে তার দিকে এগোলো। পরনে সাদা সিল্কের দামী পোশাক, কষানি স্টাইলে মাথায় একটা নীল স্কার্ফ জড়ানো, চোখে সানগ্লাস। চশমা খুলতেই সে সাথে সাথে চিনতে পারল ইনিই সেই মহিলা যার সাথে গতরাতে কানতারা জাহাজে দেখা হয়েছিল।
একটু অনিশ্চয়তার হাসি, সেই সাথে একটু বিহ্বলতা তার কণ্ঠে, আবার আপনি? কিন্তু আমিতো ক্যাপ্টেন গ্যাভিন কেইনকে খুঁজছি।’
‘আমিই সেই লোক।’ কেইন বলল। আপনি নিশ্চয়ই মিসেস কানিংহাম, তা আপনার জন্য কী করতে পারি আমি?
মহিলাটি বেশ অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে মাথা নাড়ল। এডেনের আমেরিকান কনসাল মি. এন্ড্রুজ আমাকে বলেছেন আপনাকে খুঁজে বের করতে। তিনি বলেছেন আপনি একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ, দক্ষিণ আরব সম্পর্কে একজন বিশেষজ্ঞ।
সে একটু মৃদু হাসল। আমার ধারণা আমার চেহারা দেখে আপনার সে রকম মনে হচ্ছে না। এভুজ দুটোই সঠিক বলেছেন। আমি একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ আর দক্ষিণ আরব সম্পর্কে আমি কিছুটা জানি। তা আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
মহিলা বন্দরের দিকে তাকাল, ভুরু সামান্য কুঁচকে রয়েছে। তারপর ফিরে কেইনের দিকে ঠাণ্ডা ধুসর চোখে তাকিয়ে বলল, আপনি আমার স্বামীকে খুঁজে বের করুন। এ কাজের জন্য যত টাকা লাগে আমি দিতে রাজি আছি।’
কেইন একটা সিগারেট বের করে ধীরে ধীরে ধরাল। কত টাকা দেবেন?
মহিলা কাঁধে একটা ঝাঁকি দিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে বলল, “এখন পাঁচ হাজার ডলার আর যদি তাকে খুঁজে পান, তখন আরো পাঁচ হাজার।
কয়েক মুহূর্ত ওরা দুজন পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর কেইন একটা লম্বা শ্বাস নিল। চলুন একটা কোল্ড ড্রিংকস খেতে খেতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাক। আমি একটা ভাল জায়গা চিনি। তারপর সে মহিলার বাহু ধরে দুজনে জেটি থেকে সামনে এগোলো।
০৫. হোটেলে যাওয়ার পথে
০৫.
হোটেলে যাওয়ার পথে ওদের মাঝে খুব একটা কথা হলো না। রুথ ক্যানিংহাম সানগ্লাস খুলে আগ্রহ নিয়ে চারপাশ দেখতে থাকল, এই ফাঁকে কেইন মহিলাটি সম্পর্কে ভাবতে লাগল।
জেটি পার হয়ে ওয়াটারফ্রন্ট ধরে যখন ওরা হাঁটতে আরম্ভ করল, তখন কেইনের মনে হলো স্কিরোজ ভুল বলেছিল। মহিলা শুধু যে সুন্দরী তাই নয়–তিনি অসাধারণ সুন্দরী। সাধারণ একটা সুতির পোশাকেও হাঁটার ছন্দে তার হালকা পাতলা গড়নের সৌন্দর্য ফুটে উঠছিল। অনেক দিন পর কেইন এমন একজন মহিলার সাথে কথা বলল–অর্থাৎ তার নিজের পছন্দের।
