মোটামুটি এই হলো জায়গা, বলল পেইন্টার, স্ক্রিনে হাত দিয়ে দেখাল ও। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে ক্যাসলের বিস্তৃতি দেখে বিস্মিত না হয়ে পারল না। পাহাড়ের চুড়োর দিকে গর্ত করে ক্যাসল এগিয়ে গেছে। সিগন্যাল আসছে দূরবর্তী প্রান্ত থেকে। তবে এটা নিখুঁত নয়। স্যাবোটাজকারী তার স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করলে ভোলা জায়গায় যেতে হবে।
সোজা হলেন অ্যানা। ওখানে একটা হেলিপ্যাড আছে।
ঘোত শব্দ করে সায় দিল গানথার।
স্ক্রিনে থাকা সিগন্যাল পালসগুলো হঠাৎ করে ধসে পড়ল। সে কথা শেষ করেছে, বলল পেইন্টার। আমাদেরকে দ্রুত এগোতে হবে।
গানথারের দিকে ফিরল অ্যানা। ক্লাউসের সাথে কথা বলে ওর লোকজনকে হেলিপ্যাডের কাছে থাকতে বলল। এখুনি!
দেয়ালে থাকা ফোন রিসিভারের কাছে গিয়ে লকডাউন করল গানথার। প্ল্যান হলো : সিগন্যাল পাঠিয়ে চেক করা হবে কার কাছে স্যাট-ফোন আছে।
অ্যানা পেইন্টারের দিকে ফিরলেন। আপনার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ। আমরা এখান থেকে সার্চ শুরু করব।
আমি হয়তো আরও একটু সাহায্য করতে পারব। ল্যাপটপে ব্যস্ত হাতে টাইপ করছে পেইন্টার। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম্বারটির ও মাথা রাখল। আপনাদের কাছ থেকে একটা পোর্টেবল স্যাটেলাইট ফোন নিতে হবে।
হাতে ফোন দিয়ে আপনাকে আমি এখানে বসিয়ে রেখে যেতে পারি না, বলতে বলতে নিজের কপালের দুপাশ আঙুল দিয়ে চেপে ধরলেন তিনি। মাথাব্যথা হচ্ছে।
আমাকে এখানে রেখে যেতে হবে না। আমিও আপনাদের সাথে হেলিপ্যাডে যাচ্ছি।
কাজ সেরে এগিয়ে এলো গানথার। বরাবরের মতো মুখ হাঁড়ি করে রেখেছে।
ওকে হাতের ইশারায় সরে যেতে বললেন অ্যানা। তর্ক করার মতো সময় নেই আমাদের। তবে দুই ভাই-বোনের ভেতরে নীরবে কথা হয়ে গেল। পেইন্টারের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন অ্যানা।
আঙুল ডলতে ডলতে পেইন্টার তার পিছু নিল। ওর নখগুলো এখন জ্বলে যাচ্ছে। প্রথমবারের মত নখের দিকে নজর দিল ও। ভেবেছিল নখগুলো লাল হয়ে গেছে কিন্তু অবাক হয়ে খেয়াল করল ওগুলোর রং ফ্যাকাসে, রক্তশূন্য।
ফ্রস্টবাইট?
ক্যাসলের একটি ফোন ওর হাতে দিল গানথার। পেইন্টারের মনোযোগ দেখে মাথা নাড়ল সে। নিজের একহাত সামনে বাড়িয়ে দিল। প্রথমে পেইন্টার কিছু বুঝতে না পারলেও পরে খেয়াল করে দেখল গানখারের শেষ তিন আঙুলে কোনো নখ নেই।
হাত নামিয়ে আনার পিছু পিছু এগোল গানথার।
নিজের আঙুলগুলো আর একটু ডলে ডলাডলি বন্ধ করল গ্রে। আচ্ছা, তাহলে এগুলো ফ্রস্টবাইট নয়। কোয়ান্টাম রোগের প্রভাব। বেল থেকে যেসব বিকৃতি হয়েছিল সেগুলো মনে করল ও : হাতের আঙুল, কান, পায়ের আঙুল নেই।
হাতে আর কত সময় আছে?
পাহাড়ের দূর প্রান্তে এগোতে এগোতে গানথারকে পর্যবেক্ষণ করল পেইন্টার। এই লোক সারা জীবন মাথার ওপর মৃত্যুঘণ্টা নিয়ে কাটিয়ে দিলো। দীর্ঘস্থায়ী রোগ তার শরীরে বাসা বেঁধে বসে আছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি পাগল হয়ে যাওয়া। পেইন্টারও সেদিকেই এগোচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বিষয়টা পেইন্টারকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে… তবে ভয়টা যতটা না শারীরিক তারচেয়ে বেশি মানসিক।
আর কতক্ষণ ঠিকভাবে বাঁচবে ও?
গানথার ওর মনের কথা বুঝতে পেরে বলল, অ্যানার কিছু হতে দেব না আমি। এই রোগ থামানোর জন্য যা দরকার হয় করব। গর্জনের মতো শোনাল ওর কণ্ঠ।
পেইন্টারের মনে পড়ল, এরা তো দুই ভাই-বোন। এদের ঠোঁটের বাক, থুতনি আর ড্র-তে মিল আছে। অবশ্য এরা ভাই-বোন এটা জানার আগপর্যন্ত এই মিলগুলো পেইন্টারের চোখে পড়েনি। তবে মিল বলতে এটুকুই। অ্যানার চুল কালো কুচকুচে, চোখগুলো তীক্ষ্ণ। তার সাথে গানথারের মিল নেই। অবশ্য গানখারের জন্ম হয়েছে বেল-এর অধীনে। Sonnekonige এর শেষ বংশধর।
হলওয়ে পার হয়ে সিঁড়িতে পা রাখতে রাখতে পেইন্টার পোর্টেবল ফোনের পেছনের অংশ খুলে ফেলে পকেটে ভরল। ব্যাটারি খুলে নিয়ে ওটার সাথে অ্যামপ্লিফায়ারের আন্টেনার তার পৌঁছিয়ে নিল ও। আচমকা সিগন্যাল পাঠানো হবে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য, তবে ওতেই কাজ হয়ে যাবে।
কী এটা? গানথার জানতে চাইল।
জিপিএস স্নিফার। কল করার সময় অ্যামপ্লিফায়ারে স্যাবোটেজকারীর ফোনের চিপ সম্পর্কিত তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যদি তাকে কাছে পাই তাহলে এই রেকর্ড ব্যবহার করে ধরে ফেলা সম্ভব।
ঘোঁত ঘোত করল গানথার।
দেখা যাক সামনে কী হয়।
চওড়া প্যাসেজে গিয়ে সিঁড়ি শেষ হয়েছে। এতটাই চওড়া যে এখানে চাইলে ট্যাঙ্ক নামিয়ে দেয়া যাবে। স্টিলের পুরোনো রাস্তা সোজা এগিয়ে গেছে পাহাড়ের ভেতরে। এই রাস্তার শেষ প্রান্তে হেলিপ্যাড় অবস্থিত। মূল ক্যাসল থেকে বেশ দূরে সেটা। একটি ফ্ল্যাটবেড কারে চড়ল ওরা। হ্যান্ডব্রেক ছেড়ে ইলেকট্রিক মোটর চালু করল গানথার, ফ্লোর প্যাডেলে চাপ দিল। এই বাহনে কোনো সিট নেই। স্রেফ ঘের দেয়া। প্যাসেজের দিকে এগোচ্ছে ওরা। পেইন্টার রেইল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আলো জ্বলছে ওদের মাথার ওপর।
এটা তাহলে আপনাদের সাবওয়ে সিস্টেম… বলল পেইন্টার।
এটাকে জিনিসপত্র আনা-নেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়, ব্যথার চোটে অ্যানা কুঁচকে রেখেছেন। এখানে আসার সময় পিল নিয়েছেন দুটো। ব্যথা কমানোর জন্য?
