তাহলে কী হবে এখন?
দেখে তো মনে হচ্ছে অনেক কাহিনি হবে। বলল মনক।
গ্রে নরম হতে নারাজ। টিভোলি গার্ডেনস-এ কানের কাছ দিয়ে বেঁচে যাওয়া ঘটনা মনে করিয়ে যদিও এখন মেয়েটিকে ভয় দেখাতে পারে তাহলে? আচ্ছা, তোমার জঘমের কী খবর?
রাগে ফিওনার নাক ফুলে উঠল। কী আর করব? নতুনের মতো তাজা আছে। তরল ব্যান্ডেজ লাগানো আছে, এই তো।
ও এই ব্যান্ডেজ নিয়ে সাঁতার কাটতে পারবে, বলল মনক। এটা ওয়াটারপ্রফ!
গ্রে বন্ধুর দিকে তাকাল। কথা সেটা না।
তাহলে কী? ফিওনা জানতে চাইল।
ওর দিকে ফিরল গ্রে। এই মেয়ের কোনো দায়-দায়িত্ব ও আর নিতে চায় না। বাচ্চা মেয়েদের দেখাশোনা করার মতো সময় নেই ওর।
আসলে ও ভয় পাচ্ছে, তুমি যদি আবার আঘাত পাও, শ্রাগ করে মনক বলল।
শ্বাস ফেলল গ্রে। ফিওনা, ঠিকানাটা বলে ফেলল।
আগে গাড়িতে উঠব, তারপর বলব। এখানে বসে বসে ডিমে তা দিতে পারব না।
দিন নষ্ট, বলল মনক। আজকে বোধহয় আমরা ভিজেই যাব।
সকালের আকাশ বর্তমানে চকচকে নীল হলেও উত্তর দিকে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। ঝড় হতে পারে।
ঠিক আছে। বেশ। দরজা থেকে মনককে সরে যাওয়ার জন্য ইশারা করল গ্রে। ফিওনার ওপর অন্তত মনক নজর রাখতে পারবে।
জেটের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো তিন জন। কাস্টমসের ঝামেলা ইতোমধ্যে মিটিয়ে রাখা হয়েছে। ভাড়া করা বিএমডব্লিউ বাইরে অপেক্ষা করছে ওদের জন্য। মনকের কাঁধে একটা ব্যাকপ্যাক, একই জিনিস গ্রের কাঁধেও আছে। গ্রে ফিওনার দিকে তাকিয়ে দেখে ফিওনার কাঁধেও একটা ব্যাকপ্যাক! আজব….
এটা বাড়তি ছিল, ব্যাখ্যা করল মনক। চিন্তার কিছু নেই। ওরটায় অস্ত্র, বোমা কিছুই নেই। অন্তত আমার তো তাই মনে হয়।
গ্রে মাথা নাড়ল। টারমাক পেরিয়ে পার্কিং গ্যারেজের দিকে এগোল ওরা। ব্যাকপ্যাকের মিল ছাড়াও ওদের তিনজনের পোশাকেও মিল আছে। কালো জিন্স, স্নিকার, সোয়েটার। পর্যটক হিসেবে এই পোশাক একটু ভিন্ন রকমের হয়ে গেছে। তবে নিজের পোশাকে বোম লাগিয়ে পরিবর্তন এনেছে ফিওনা।
গ্যারেজে পৌঁছুনোর পর গ্রে চুপিসারে নিজের অস্ত্র আরেকবার পরীক্ষা করে নিল। সোয়েটারের নিচে ৯-এমএম রেখে বাম হাতের কব্জির ওখানে কার্বোনাইজড ছোঁড়া ঢুকিয়ে রাখল। এছাড়াও ব্যাকপ্যাকে আছে : ফ্ল্যাশ গ্রেনেড, সি-৪ বিস্ফোরক, গুলির অতিরিক্ত ক্লিপস।
এবার আর কোথাও অপ্রস্তুত অবস্থায় যাচ্ছে না গ্রে।
অবশেষে গাড়ির কাছে পৌঁছুল ওরা। গাঢ় নীল রঙের বিএমডব্লিউ-৫২৫ আই। ফিওনা চালকের দরজার দিকে এগোল।
ওকে থামাল গ্রে। ফানি।
গাড়ির অপর পাশে গেল গ্রে। চিৎকার করে বলল, শটগান!
মাথানিচু করে আশেপাশে তাকাল ফিওনা।
গ্রে ওকে সোজা করে পেছনের দরজার দিকে নিয়ে গেল। মনক আসলে সামনের সিট চেয়েছে।
মনকের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটল ফিওনা। বদ।
দুঃখিত, বাবু। অত ফটফট কোরো না, বুঝেছ?
গাড়িতে উঠে বসল ওরা। ইঞ্জিন চালু করে ফিওনার দিকে ফিরল গ্রে। কোথায় যেতে হবে?
মনক ইতোমধ্যে একটা ম্যাপ বের করে ফেলেছে।
ওর কাঁধের কাছে ঝুঁকে এলো ফিওনা। ম্যাপে একটা আঙুল রাখল।
শহরের বাইরে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ২০ কিলোমিটার যেতে হবে। আমি ভ্যালির বারেন নামক গ্রাম হচ্ছে আমাদের গন্তব্য।
তারপর? ঠিকানা কী?
ফানি, একটু আগে শোনা কথার পুনরাবৃত্তি করল ফিওনা। নিজের সিটে হেলান দিল।
রিয়ার ভিউ মিররে তাকাল ও। ফিওনার চেহারা ওখানে দেখা যাচ্ছে। জোরপূর্বক তথ্য আদায় করতে চাওয়া বেচারি ওর প্রতি অসন্তুষ্ট।
তবে চেষ্টাকারীকে দোষও দিতে পারছে না।
রওনা করার জন্য গ্রেকে ইশারা করল ফিওনা।
অগত্যা কোনো উপায়ন্তর না দেখে গ্রে ওর নির্দেশ মেনে নিল।
***
পার্কিং গ্যারেজের দূরবর্তী অংশে একটা সাদা মার্সেডিজ রোডস্টারে বসে আছে দুজন। বাইনোকুলার নামিয়ে লোকটি চোখে ইটালিয়ান সানগ্লাস পড়ল। পাশে বসা যমজ বোনকে উদ্দেশ্য করে মাথা নাড়ল। ডাচ ভাষায় ফিসফিস করে স্যাটেলাইট ফোনে কথা বলল বোন।
বোনের অন্য হাত ভাইয়ের হাতে। বুড়ো আঙুল দিয়ে আলগোছে ট্যাটুর ওপর দিয়ে মেসেজ করে দিচ্ছে ভাই।
বোন তার ভাইয়ের আঙুলে চাপ দিল।
ভাই নিচ দিকে তাকিয়ে দেখে বোনের এক আঙুলের নখ দাঁত দিয়ে কাটার পর একটু এবড়োখেবড়ো হয়ে আছে। বিশ্রী লাগছে দেখতে।
ভাইয়ের নজর বুঝতে পেরে নিজের নখ লুকোনোর চেষ্টা করল ও। বিব্রতবোধ করছে।
যদিও লজ্জা পাওয়ার কিছুই নেই। ওর ভাই জানে, কতটা টেনশন আর প্রেশারে থাকলে এভাবে দাঁত দিয়ে নখ কাটা পড়ে। গতকাল রাতে ওরা ওদের বড় ভাই হ্যাঁনকে হারিয়েছে।
সামনের গাড়িতে থাকা চালকটি তাকে খুন করেছে।
পার্কিং গ্যারেজ থেকে বিএমডব্লিউকে বের হয়ে যেতে দেখে চোখ সরু করল ফিউরি। জিপিএস ট্রান্সপন্ডার লাগানো আছে। গাড়িটাকে ট্র্যাক করা যাবে।
বুঝেছি, ফোনে বলল বোন। যেমনটা আশা করা হয়েছিল… বইয়ের সূত্র ধরে এগোচ্ছে ওরা। নিঃসন্দেহে ওরা এখন বারেন গ্রামের হিরজফিল্ড এস্টেট-এ যাবে। ওদের জেটটাকে নজরদারিতে রেখে আমরা রওনা দেব। সবকিছু তৈরি।
ফোনের ওপাশের কথা শুনতে শুনতে ভাইয়ের দিকে তাকাল ও।
হ্যাঁ, বলল ও, ফোন আর ভাই দুজনকে উদ্দেশ্য করে, আমরা ব্যর্থ হব না। ডারউইন বাইবেল আমাদের-ই হবে।
ভাই মাথা নেড়ে সায় দিল। বোনের হাত ছেড়ে দিয়ে ইগনিশনের চাবি ঘুরাল সে।
