এখানে সর্বশেষ জন্ম নিয়েছিল গানথার।
বিশালদেহি গানধারের দিকে নির্দেশ করে বললেন অ্যানা।
ভ্রু কুঁচকালেও গানথার ঠিকই নিজের হাতার কাপড় সরিয়ে একটি কালো ট্যাটু বের করে দেখাল।
Sonnekonige-দের চিহ্ন। বললেন অ্যানা। দায়িত্ব, গর্ব ও সফলতার প্রতীক।
হাতা নামিয়ে ট্যাটু ঢেকে ফেলল গানথার।
গতকাল রাতে একজন গার্ড গানথারকে উদ্দেশ্য করে কী যেন বলেছিল? মনে করার চেষ্টা করল পেইন্টার।
Leprakonige
অনুবাদ করছে কুষ্ঠরোগী হয়। না, শব্দটা তাহলে কুষ্ঠরাজা হবে। রাজা সুর্যের বীরকে ব্যঙ্গ করে হলেও সম্মান দিয়েছিল গার্ডটি। গানথার এই প্রজাতির শেষ মানুষ। ধীরে ধীরে বিলুপ্তের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ওর জন্য শোকপ্রকাশ করবে কে?
লিসা আর পেইন্টারের দিকে চোখ ফেরানোর আগে কয়েক মুহূর্ত গানথারের দিকে তাকিয়ে রইলেন অ্যানা।
হয়তো শোকপ্রকাশ করার জন্য একজন থাকবে।
লিসা মুখ খুলল। এখনও পেইন্টারের হাত ধরে রেখেছে। একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলুন তো… দ্য বেল… কীভাবে এরকম পরিবর্তন আনল? আপনি বলেছিলেন তারা এলোমেলোভাবে হলেও এরকম রূপান্তর বারবার করতে চাচ্ছিলেন।
মাথা নাড়লেন অ্যানা। হ্যাঁ। শুধু বেল-এর প্রভাব-এর ওপরেই আমাদের গবেষণা থেমে থাকেনি। এটা কীভাবে হয় সেটা নিয়েও আমাদের পর্যবেক্ষণ চলছিল।
কতদূর এগোতে পেরেছিলেন? প্রশ্ন করল পেইন্টার।
এটা কীভাবে কাজ করে সে-সম্পর্কে আমরা প্রাথমিকজ্ঞান লাভ করতে পেরেছিলাম।
তাই? বিস্ময়ে চোখ পিট পিট করল ক্রো।
অ্যানার ভ্রু-তে ভাজ পড়ল। হ্যাঁ, কেন নয়? সেটাই তো স্বাভাবিক। পেইন্টার আর লিসা দুজনের দিকে চোখ ঘুরিয়ে আনলেন। বেল বিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করে।
.
সকাল ৭টা ৩৫ মিনিট।
লুহুলুই-আমফলোজি গেম প্রিজার্ভ।
কে ওখানে? খামিশি আবার হাঁক ছাড়ল। ও দরজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। কেউ একজন ঢুকে বেডরুমের পেছনের অংশে গিয়ে ঘাপটি মেরে আছে।
কিংবা সেটা মানুষ না হয়ে কোনো প্রাণীও হতে পারে।
এদিককার বাসা-বাড়িতে প্রায়ই বানর ঢুকে পড়ে, মাঝে মাঝে অন্য বড় প্রাণীও ঢোকে।
খামিশি এখনও ভেতরে ঢুকতে নারাজ। ভেতরে দেখার চেষ্টা করল ও, কিন্তু পর্দার কারণে কিছুই দেখতে পেল না। সূর্যের আলোর ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে এসে এখন ঘরের হালকা অন্ধকারে চোখ কাজ করছে না।
দরজার কাছে থেকেই লাইট জ্বালানোর জন্য সুইচের দিকে হাত বাড়াল খামিশি। আঙুল দিয়ে হাতড়ে সুইচ পেতেই লাইট জ্বালিয়ে দিল। রুম ও রান্নাঘরের কিছু অংশ আলোকিত করে দিল একটি লাইট। তবে সেই আলোতে অনাহুত ব্যক্তিটিকে দেখা গেল না।
তবে রুমের পেছন দিক থেকে একটা হাতাহাতির মতো আওয়াজ এলো।
কে…?
একটা তীক্ষ্ণ কিছু ওর গলায় বিধে যাওয়ায় আর হাঁক ছাড়া হলো না। হতভম্ব হয়ে রুমের ভেতরে ঢুকল ও। আক্রান্তস্থানে হাত দিয়ে দেখল কিছু একটার পালক ওর গলায় বিঁধেছে। গলা থেকে পুরোটা বের করল খামিশি। দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাকিয়ে দেখল…
ডার্ট।
এরকম জিনিস সে বড় জম্ভ জানোয়ারকে কাবু করতে ব্যবহার করেছে অনেকবার।
কিন্তু এটা একটু আলাদা।
ডার্ট ওর হাত থেকে পড়ে গেল।
বিষ ওর মগজে পৌঁছে গেছে। এক দিকে কাত হয়ে গেল পুরো পৃথিবী। খামিশি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করল কিন্তু… পারল না।
কাঠের মেঝে ছুটে এলো ওর দিকে।
নিজেকে একটু সামলে নিতে পারলেও মাথা ঠিকই মেঝেতে সজোরে ঠুকে গেল। চোখের সামনে লাল-নীল-হলুদ আলোর ফুটকি দেখতে পেল খামিশি। মাথা বো বো করছে। ওই অবস্থায় থেকে ও দেখতে পেল মেঝেতে একটা রশি পড়ে আছে। ভাল করে তাকিয়ে দেখল ওটা রশি নয়।
সাপ। দশ ফুট লম্বা।
দেখেই চিনতে পারল।
ব্ল্যাক মাম্বা।
তবে সাপটি মৃত, কেটে দুভাগ করে ফেলা হয়েছে। একটা ম্যাচেটি (কুড়ালের মতো অস্ত্র) পড়ে রয়েছে কাছেই। ওর ম্যাচেটি।
শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসতেই আসল ঘটনা বুঝতে পারল ও।
ডার্টে বিষ মাখানো ছিল।
কিন্তু ও যেরকম ডার্ট ব্যবহার করে এটা ওরকম নয়। এই ডার্টে দুটো সূচ আছে। সাপের বিষদাঁতের মতো।
মরা সাপের দিকে তাকাল খামিশি।
সাজানো নাটক।
সাপের কামড়ে মৃত্যু।
পেছনের বেডরুমের মেঝে শব্দ করে উঠল। নিজের মাথাটা ঘোরানোর মতো শক্তি থাকায় দেখতে পেল, একটা কালো অবয়ব দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওকে ভাল করে দেখে নিচ্ছে সে। চেহারায় কোনো অভিব্যক্তি নেই।
না।
এর কোনো মানেই হয় না।
কেন?
খামিশির কাছে কোনো জবাব নেই।
অন্ধকার ওর ওপর নেমে এসে দূরে নিয়ে গেল।
দূরে… বহুদূরে…
০৮. মিক্সড ব্লাড
০৮. মিক্সড ব্লাড
ভোর ৬টা ৫৪ মিনিট।
প্যাডেরবন, জার্মানি।
তুমি এখানেই থাকছে, বলল গ্রে। চ্যালেঞ্জারের মেইন কেবিনে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে।
কচু, ফিওনা আপত্তি তুলল। দূরে সরল ও, গ্রের কথা মানতে নারাজ। মনক জেটের খোলা দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে নিজের হাত দুটো আড়াআড়িভাবে রেখে মজা নিচ্ছে।
আমি এখনও তোমাদেরকে ঠিকানাটা বলিনি, তর্ক শুরু করল ফিওনা। এক মাস সময় লাগিয়ে পুরো শহরের এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়ি খুঁজে মরতে হবে তোমাদের। আর সেটা না চাইলে আমাকে সাথে নাও। এখন সিদ্ধান্ত তোমাদের, কোনটা করবে।
গ্রের মুখ গরম হয়ে উঠল। এই মেয়ে যখন দুর্বল, বিপদগ্রস্ত ছিল তখনই কেন ও ঠিকানাটা জেনে নেয়নি। তারপর মাথা নাড়ল। দুর্বল আর বিপদগ্রস্ত জিনিস দুটো ফিওনার সাথে যায় না। এই মেয়ে সেরকম মানুষই নয়।
