খামিশি উঠে দাঁড়াল। এখানে আর বেশিক্ষণ বিরক্ত করতে চাচ্ছে না। ড, কেইনকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানানোর প্রয়োজন ছিল তাই এসেছিল। কাজ শেষ।
আমি যাচ্ছি তাহলে।
পলা উঠে ওকে স্ক্রিন ডোর পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। খামিশি বেরোতে যাবে এমন সময় ওকে ধরে থামালেন তিনি। আপনার কী মনে হয়, কী ছিল ওটা?
তার দিকে ঘুরল ও।
ওকে কীসে মেরে ফেলল? পলা জানতে চাইলেন।
সূর্যের আলো দেখল খামিশি। এরকম ঝকঝকে সকালে দানব নিয়ে কথা বলাটা মানাবে না। তাছাড়া এব্যাপারে কথা বলা নিষেধ আছে। চাকরিটা তো এখনও একেবারে চলে যায়নি।
পলার দিকে তাকিয়ে মিথ্যা এড়াল ও।
ওটা সিংহ ছিল না।
তাহলে কী…?
আমি সেটা খুঁজে বের করতে যাচ্ছি।
স্ক্রিন ডোর ঠেলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল ও। সূর্যের তাপে ওর মরিচাধরা পিকআপ সেদ্ধ হচ্ছে। ওতে চড়ে বাসার পথ ধরল খামিশি।
এই নিয়ে আজ সকালে একশ বারের মতো গতকালের ভয়ঙ্কর ঘটনা মনে পড়ল। উকুফার সেই চিৎকার এখনও ওর কানে বাজছে… সেই চিৎকারের দাপটে ইঞ্জিনের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে না ও। সিংহ নয়। ওটা সিংহ, খামিশি সেটা জীবনেও বিশ্বাস করবে না।
ওয়ার্ডেনদের জন্য নির্মিত সারি সারি বাসাগুলোর কাছে পৌঁছে গেল ও। লাল ধুলো উড়িয়ে উঠোনে সামনের গেইটে গিয়ে থামল।
খুব ক্লান্ত। কয়েক ঘণ্টার বিশ্রাম প্রয়োজন।
তারপর সত্য অনুসন্ধান করতে নামবে।
ইতোমধ্যে ও জেনে গেছে কোথা থেকে তদন্ত শুরু করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ওকে।
উঠোনের বেড়ার দিকে এগোতে গিয়ে দেখল, গেইট একটু খোলা রয়েছে। প্রতিদিন বেরোনোর আগে সবসময় গেইটের ছিটকানি লাগিয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, গতরাতে ওকে যখন পাওয়া যাচ্ছিল না তখন হয়তো কেউ এসে খোঁজ নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
তবে খামিশির ইন্দ্রিয়জ্ঞান এখনও কমেনি… জঙ্গলে সেই প্রথম চিৎকার শোনার পর থেকে ওর ইন্দ্রিয়গুলো খুব সতর্ক হয়ে আছে। ওর সন্দেহ আছে, আর কখনও স্বাভাবিক হতে পারবে কি-না।
গেইট দিয়ে ভেতরে ঢুকল ও। ওর সামনের দরজা তো বন্ধই মনে হচ্ছে। চিঠির বক্সে থাকা চিঠিগুলোও বেশ ঠিকঠাকভাবে আছে। কেউ হাত লাগায়নি। সিঁড়িতে এক পা ফেলে ফেলে এগোল ও।
উঠতে উঠতে ভাবল, এখন সাথে একটা অস্ত্র থাকলে সুবিধে হতো।
গুঙিয়ে উঠল মেঝেরবোর্ড। আওয়াজটা ওর পায়ের নিচ থেকে আসেনি… বাসার ভেতর থেকে এসেছে।
খামিশির মন ওকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করল।
কিন্তু না। এবার আর পালাবে না। একই ভুল দুইবার করবে না ও।
বারান্দায় উঠে একপাশে দাঁড়িয়ে দরজার হাতল ঘুরিয়ে চেক করল।
খোলা।
দরজা ঠেলে খুলল ও। মেঝেরবোর্ড আবার গুঙিয়ে উঠল বাসার পেছন দিক থেকে।
কে? কে ওখানে? খামিশি হাঁক ছাড়ল।
.
সকাল ৮টা ৫২ মিনিট।
হিমালয়।
এটা দেখো।
হঠাৎ চমকে জেগে উঠল পেইন্টার। ওর দুই চোখের মাঝ অংশ মাথাব্যথায় দপদপ করছে। বিছানা গড়িয়ে উঠল ও, শরীরে পুরোপুরি পোশাক পরা আছে। কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেও পারেনি। ঘণ্টা দুই আগে গার্ডদের পাহারায় রুমে ফিরেছে ও আর লিসা। অ্যানা তার কিছু কাজ সারতে আর পেইন্টারের অনুরোধে কিছু জিনিস আনতে গেছেন।
কতক্ষণ ঘুমালাম? প্রশ্ন করল পেইন্টার। মাথাব্যথা ধীরে ধীরে কমছে।
জানি না। আমি তো বুঝতেই পারিনি তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। ফায়ারপ্লেসের সামনে থাকা টেবিলের পাশে আড়াআড়ি পা রেখে লিসা বসে আছে। কিছু কাগজ রাখা আছে টেবিলে। তবে মিনিট ১৫ হতে পারে… কিংবা ২০। বাদ দাও, এগুলো দেখ।
পেইন্টার উঠে দাঁড়াল। লাটিমের মতো চক্কর দিয়ে উঠল পুরো রুম, তারপর আবার স্থির হলো। ওর অবস্থা ভাল নয়। এগিয়ে গিয়ে লিসার পাশে বসল ও।
ক্রো দেখল, কয়েকটি কাগজের ওপর লিসার ক্যামেরা বসে আছে। সহযোগিতার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অ্যানাকে নিকন ক্যামেরা ফেরত দেয়ার জন্য বলেছিল লিসা।
ক্রোর দিকে একটি কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলল, দেখ।
কাগজে কিছু চিহ্ন এঁকেছে সে। পেইন্টার ওগুলোকে চিনতে পারল। লামা খেমসার দেয়ালে এসব এঁকেছিলেন। লিসা নিশ্চয়ই ক্যামেরায় থাকা ছবিগুলো দেখে দেখে এগুলো এঁকেছে। কাগজে প্রত্যেকটি চিহ্নের নিচে সঙ্গতিপূর্ণ অক্ষরও লেখা আছে।
SENPINAMENSGM SCHWARZESONNE
খুব সাধারণ কোড। প্রত্যেকটা চিহ্ন একটা করে বর্ণ বোঝাচ্ছে। তবে একটু এদিক ওদিক করে নিতে হয়েছে, এই আরকি।
schwarze Sonne শব্দ করে পড়ল ক্রো।
কালো সূর্য। এখানকার প্রজেক্টের নাম।
আচ্ছা, তাহলে লামা খেমসার এই প্রজেক্ট সম্পর্কে জানতেন। ক্রো মাথা নেড়ে বলল। সন্ন্যাসী এখানে জড়িত হয়েছিলেন হয়তো।
আর সেটা আঘাতও করেছে। ক্রোর কাছ থেকে লিসা কাগজ নিয়ে নিল। পাগমলামোর ফলে হয়তো তার ভেতরে থাকা পুরোনো ক্ষত জেগে উঠেছিল। অতীতে ফিরে গিয়েছিলেন।
কিংবা এমনও হতে পারে, এই ক্যাসলের সাথে সমঝোতা করে এতদিন চলছিলেন তাঁরা।
যদি তা-ই হয়ে থাকে… তাহলে দেখ, সমঝোতা করার বিনিময়ে তারা কী পেয়েছেন। বলল লিসা। আমরাও কী তাহলে এরকম প্রতিদান পাব?
আমাদের হাতে আর কোনো উপায় নেই। বেঁচে থাকতে হলে এভাবেই বাঁচতে হবে। নিজেদেরকে তুলে ধরতে হবে দরকারি হিসেবে।
আর তারপর? আমাদের যখন আর দরকার থাকবে না তখন?
পেইন্টার কোনো ছল করল না। আমাদের মেরে ফেলবে। সহযোগিতা করে আমরা আমাদের আয়ু একটু বাড়াচ্ছি, এই তো।
