মাথা নাড়লেন অ্যানা। আর নাৎসিরা আপনাদের ম্যানহ্যাটেন প্রজেক্টের বিপরীতে এই এনার্জী নিয়েই কাজ করতো।
লিসার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। শক্তির অফুরন্ত উৎস। যদি এটা আবিষ্কার করা। সম্ভব হলে তো তাহলে যুদ্ধের মোড়ই ঘুরে যেত।
এক হাত উঁচু করে লিসাকে শুধরে দিলেন অ্যানা। কে বলল তারা সেটা আবিষ্কার করতে পারেনি? ইতিহাসে আছে যুদ্ধের শেষ কয়েক মাসে নাৎসিরা বেশ ভাল এগোচ্ছিল। তাদের দুটো প্রজেক্ট ছিল। নাম : Feuerball আর Kuselblitz, এগুলো সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী রেকর্ড ব্রিটিশ টি-ফোর্সে পাওয়া যেতে পারে। তবে আবিষ্কারটা হতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফ্যাসিলিতে বোমা হামলা, বিজ্ঞানীদের খুন, রিসার্চ চুরিসহ নানান ঘটনার পর যতটুকু বাকি ছিল সেগুলো বিভিন্ন জাতির ডিপ ব্ল্যাক প্রজেক্টের করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে।
কিন্তু দ্য বেল তো হারায়নি, বলল পেইন্টার। আলোচনাকে মূল প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে এলো। ও এই কথাবার্তাকে অযথা ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে দেবে না।
ঠিক, দ্য বেল হারায়নি। অ্যানা সায় দিলেন। আমার দাদু ক্রোনস প্রজেক্টের মূল জিনিস নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি প্রজেক্টের নতুন নাম রেখেছিলেন: Schwarze Sonne.
অর্থাৎ-কালো সূর্য, জার্মান থেকে অনুবাদ করল পেইন্টার।
Sehr gut.
কিন্তু এই বেল জিনিসটা কী? ক্রো জানতে চাইল। কী করে এটা?
এটাই আপনাকে অসুস্থ করে দিয়েছে, বললেন না। আপনার কোয়ান্টাম লেভেলে ক্ষতিসাধন করেছে ফলে কোনো ওষুধ আর ওখানে পৌঁছে আরোগ্য এনে দিতে পারবে না।
আর একটু হলেই হোঁচট খাচ্ছিল পেইন্টার। কথাটুকু হজম করতে কিছু সময় দরকার। কোয়ান্টাম লেভেলে ক্ষতিসাধন করেছে। এর মানে কী?
সিঁড়ির শেষ ধাপে চলে এসেছে ওরা। কড়িকাঠ দিয়ে বেষ্টনী দেয়া। এছাড়াও দুজন রাইফেলধারী গার্ডও আছে। অবাক হয়ে ক্রো খেয়াল করল, ছাদের দিকে থাকা সর্বশেষ বাঁকের পাথর কেমন যেন দগ্ধ হয়ে রয়েছে।
গুহার মতো দেখতে ভল্টের পেছনের একদম শেষ পর্যন্ত পেইন্টারের দৃষ্টি পৌঁছুল না তবে ও ঠিকই তাপমাত্রা অনুভব করতে পারল। এখানকার প্রত্যেকটি তল কেমন যেন কালচে হয়ে আছে। একসারি বকানন-কুঁজানো দেহ ঢেকে রাখা হয়েছে তেরপল দিয়ে। সবকটি মৃত।
একটু আগে হয়ে যাওয়া বিস্ফোরণ তাহলে এখানেই হয়েছিল।
বিস্ফোরণ এলাকার ভেতর থেকে ছাইয়ে কালো হয়ে যাওয়া একজনকে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। কালো হয়ে গেলেও তাকে বেশ ভাল করেই চেনা যাচ্ছে। গানথার। এই বিশালদেহি লোক সন্ন্যাসীদের মঠে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে তারা তাদের কর্ম ফল পেতে শুরু করেছে।
বিস্ফোরণের বদলে বিস্ফোরণ।
বেষ্টনী পার হলো গানথার। অ্যানা ও কালাউস ওর সাথে যোগ দিল। গানথার আর কালাউসকে পাশাপাশি দেখে এই দুই বিশালদেহির মধ্যে মিল খুঁজে পেল পেইন্টার। শারীরিক মিল নয়, দুজনের কঠিন মনোভাব আর বিদেশিভাবে মিল আছে।
কালাউসের দিকে মাথা নাড়ল গানথার।
কিন্তু কালাউস কোনো পাত্তা দিল না।
গানখারের দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে হড়বড় করে জার্মান ভাষায় কথা বলছেন অ্যানা। পেইন্টার অতগুলো কথার ভেতর থেকে মাত্র একটি শব্দ বুঝতে পারল। জার্মান আর ইংরেজিতে শব্দটির মানে একই।
স্যাবোটাজ।
আচ্ছা, তাহলে এই ক্যাসলের সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছে না। কোনো বিশ্বাসঘাতক আছে নাকি? যদি থাকে তাহলে কে সে? কী চায়? উদ্দেশ্য কী? সে কী ওদের বন্ধু নাকি শত্রু?
পেইন্টারের দিকে তাকাল গানথার। তার ঠোঁট নড়ছে, কিন্তু ও কী বলছে সেটা পেইন্টার ধরতে পারল না। মাথা নাড়লেন অ্যানা, গানরের কথার সাথে একমত নন। গানথার চোখ সরু করলেও শেষমেশ মাথা ঝাঁকাল।
পেইন্টার জানে, ওকে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে।
শেষবারের মতো ক্রোর ওপর একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে যেদিক থেকে এসেছিল আবার সেদিকে চলে গেল গানথার।
আমি আপনাদেরকে এটাই দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছি। ধ্বংসলীলার দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন অ্যানা।
দ্য বেল, ক্রো বলল।
ধ্বংস হয়ে গেছে। স্যাবোটাজ করে ধ্বংস করে দিয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকাল লিসা। এই বেল-ই তাহলে পেইন্টারকে অসুস্থ করেছে।
এবং সেই অসুস্থ থেকে সুস্থ হওয়ার একমাত্র উপায় ছিল এটা।
পেইন্টার ধ্বংসস্তূপ পর্যবেক্ষণ করল।
আপনাদের কাছে বেল-এর কোনো প্রতিলিপি কিংবা কপি আছে? জানতে চাইল লিসা। কিংবা আপনারা কি আরেকটা বেল বানাতে পারবেন?
অ্যানা মাথা নাড়লেন। গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদানের কোনো কপি পাওয়া সম্ভব নয়। জেরাম-৫২৫। আজ এই ৬০ বছর পর এসেও আমরা ওটার কোনো কপি কিংবা নতুন করে তৈরি করতে পারিনি।
তাহলে বেল নেই তো চিকিৎসাও নেই, বলল ক্রো।
কিন্তু একটা সুযোগ হয়তো আছে… যদি আমরা একে অপরকে সাহায্য করি। অ্যানা তার একটি হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমরা যদি একসাথে কাজ করি… তাহলে আমি প্রতিশ্রুতি রাখব।
ক্রো তার সাথে হাত মেলালেও এখন মনে মনে দ্বিধায় ভুগছে। এখানে কেমন যেন একধরনের কৌশল, চাতুরীর গন্ধ পাচ্ছে ও। কিছু একটা আছে যেটা অ্যানা ওকে এখনও বলেনি। তার সব কথা… ব্যাখ্যাগুলো যেন ওদের ভুল দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ভ্রান্ত করছে। আর ওকে-ই বা এখন ডিল করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হলো কেন?
