গলির কোণায় গিয়ে পৌঁছাল গ্রে। ধোঁয়া আর মানুষের হল্লা থেকে দূরে চলে এসেছে। ফিওনাকেও টেনে নিয়ে এসেছে সাথে করে। অস্ত্রধারীকে খুঁজছে।
পেয়েও গেল। একজন নারী।
কাছেই আছে। রাস্তার ওপাশে আধ-ব্লক পেছনে।
এই সাদা চুলঅলি মহিলা নিলাম অনুষ্ঠানেও ছিল। তার পরনে শোভা পাচ্ছে আঁটোসাটো কালো স্যুট, দৌড়-ঝাঁপের জন্য এরকম পোশাক খুবই উপযোগী। হাতে সাইলেন্সর লাগানো পিস্তল। হাঁটুর কাছে ওটা নামিয়ে ওদের দিকে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে আসছে। এক হাত রেখেছে কানে, ঠোঁট নড়ছে।
রেডিও।
ল্যাম্পপোস্টের নিচ দিয়ে তাকে এগোতে দেখেই গ্রে বুঝতে পারল, ও ভুল করেছে। এই মহিলা নিলাম অনুষ্ঠানে ছিল না। সেই মহিলার চুল আরও বড় ছিল, চেহারা আরেকটু রোগা ছিল।
হয়তো তার বড় বোন।
অন্যদিকে ঘুরল গ্রে।
ও আশা করছিল ফিওনা এতক্ষণে দৌড়ে গলির অর্ধেকে চলে গেছে। কিন্তু দেখা গেল, মাত্র ১৫ ফুট দূরে একটি মরচে ধরা সবুজ রঙের ভেসপা স্কুটারের দুপাশে পা দিয়ে কী যেন করছে সে।
কী করছ তু…?
দেখি চড়া যায় কি-না। পার্স খুলে একটি ক্রু-ড্রাইভার বের করে স্কুটারের পেছনে রাখল।
জলদি ওর পাশে গেল গ্রে। এটার ওপর চুরিবিদ্যা ফলানোর মতো সময় নেই। কিন্তু।
কাঁধের ওপর দিয়ে গ্রের দিকে তাকাল ফিওনা। স্কুটারকে স্টার্ট দেয়ার জন্য অন্ধের মতো বিভিন্ন তারের মধ্যে ওর আঙুলগুলো হাতড়ে বেড়াচ্ছে। দুটো তার দিয়ে চেষ্টা করল। কেশে উঠে, চিৎকার দিয়ে থেমে গেল ইঞ্জিন।
ধেৎ…
ফিওনা বেশ ভালই চেষ্টা করছিল…. কিন্তু ওর ওপরে আর ভরসা করা যাচ্ছে না।
গ্রে ওকে পেছনে যাওয়ার ইশারা করল। আমি চালাব।
শ্রাগ করে পেছনের সিটে গেল ফিওনা। স্কুটারে চড়ে গ্রে ওটার স্টার্টারে লাথি মেরে ইঞ্জিন চালু করার চেষ্টা করল। হেডলাইট অফ করে অন্ধকার গলিতে নেমে গেল ও। ঠিক নেমে যাওয়া বলা যায় না, স্কুটারকে টেনে-টুনে নিয়ে গেল আরকী।
চালু হ রে বাবা, বলল গ্রে।
দুই নম্বর গিয়ারে তুলে দাও, ফিওনা বলল। এই বুড়ো জিনিসের ভেতর থেকে শক্তি বের করতে হলে কৌশল খাটাতে হবে।
পেছনের সিটে বসা কোনো মাতব্বরকে আমার প্রয়োজন নেই।
মুখে বললেও গ্রে ঠিকই ফিওনার কথা শুনে ক্লাস চেপে গিয়ার বদলাল। চমকে ওঠা বাচ্চা ঘোড়ার মতো লাফ দিল স্কুটার। গলির ভেতর দিয়ে দ্রুত এগোল ওরা। স্তূপ আর ডাস্টবিনের বিভিন্ন ময়লার ওপর দিয়ে ঝাঁকি খেতে খেতে এগোল।
সাইরেনের আওয়াজ হলো ওদের পেছনে। গ্রে পেছনে তাকাল। দমকলের গাড়ি গলিমুখে এসে দাঁড়িয়েছে, ওটার আলো ঝিকমিক ঝিকমিক করছে, বিস্ফোরণের আগুন নেভাতে হাজির হয়েছে। ঘাড় ফেরাবার আগেই ল্যাম্পপোস্টের আলোতে একটি শরীরে অবয়ব দেখল গ্রে।
শুটার।
গ্রে গতি বাড়িয়ে দিল। স্কুটারকে একটি লম্বা কন্সট্রাকশন বিমের পাশে নিয়ে শুটারের কাছ থেকে নিজেদের আড়াল করল ও। দেয়ালের পাশ ঘেঁষে এগোলে গলির মাথা থেকে সোজা গুলি খেতে হতো।
ওদের সামনে বড় রাস্তার আলো দেখা যাচ্ছে। ওটাই ওদের একমাত্র ভরসা।
সামনে খেয়াল রাখতে রাখতে গ্ৰে দেখল দ্বিতীয় আরেকটি অবয়ব হাজির। পাশ দিয়ে একটি গাড়ি যেতেই ওটার হেডলাইটের আলোতে তার সাদা চুলগুলো রুপোলি দেখাল। পুরুষ। পরনে কালো লম্বা ডাস্টার জ্যাকেট। পেছনের জনের জাত ভাই হাজির। কোট সরিয়ে একটি শটগান বের করল সে।
ওই মহিলা নিশ্চয়ই একে রেডিওতে বলে অ্যামবুশ করার জন্য সেট করেছে।
শক্ত করে ধরে থাকো! গ্রে হাঁক ছাড়ল।
এক হাত শটগান উঁচিয়ে ধরতেই গ্রে খেয়াল করল এই ব্যক্তির অন্য হাত ব্যান্ডেজ করা। কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত। যদিও তার চেহারায় ছায়া ঢাকা রয়েছে, তবুও গ্রে বুঝতে পারল লোকটা কে।
এই ব্যক্তি গ্রিট্টি নেয়ালকে খুন করেছিল।
বারটেলের আক্রমণের স্বীকার হওয়ার পর সেগুলোর জঘমে এখন ব্যান্ডেজ করে এসেছে।
শটগান গ্রের দিকে তাক করা হলো।
হাতে সময় নেই।
হাতল ঘুরিয়ে স্কুটারটিকে লোকটার দিকে হেঁচড়ে স্কিড করাল গ্রে।
ঝলসে উঠল শটগান। পাশের বাড়ির দরজায় ছররা গুলি হামলে পড়ল।
প্রচণ্ড ভয়ে চিৎকার করে উঠল ফিওনা।
তবে গুলি ছোঁড়া হয়েছে ওই একবারই। স্কুটারকে ছুটে আসতে দেখে শুটার একপাশে সরে গেছে। গলির সামনের অংশ ফাঁকা হওয়ার পর স্কুটার তুলল গ্রে। সিমেন্টের রাস্তার ওপর রাবারের টায়ার আর্তনাদ করে উঠল। রাস্তায় ওঠার সময় একটি অডি গাড়ির ড্রাইভার কয়েকবার হর্ন দিয়ে সতর্ক করল ওকে।
গ্রে রওনা হলো।
হাতের মুঠো ঢিলা দিল ফিওনা।
ধীর গতিতে এগোনো গাড়ির ভেতর দিয়ে চলল ওরা, রাস্তা ঢালু হয়ে নেমে যেতেই ওদের গতি বাড়তে শুরু করল। নিচে এই রাস্তা দিয়ে একটি ক্রসরোডের সাথে গিয়ে শেষ হয়েছে। তীক্ষ্ণ বাঁক নেয়ার জন্য ব্রেক চাপল গ্রে। একটি ক্যাবল স্কুটারের পেছনের টায়ারের পাশ থেকে লাফিয়ে উঠল।
ব্রেকের ক্যাবল।
স্কুটার যখন হেঁচড়ে যাচ্ছিল তখন নিশ্চয়ই এটা খুলে গেছে।
গতি কমাও? গ্রের কানের কাছে চিৎকার করল ফিওনা।
ব্রেক নেই! গ্রে জবাব দিল। সাবধান!
ইঞ্জিন বন্ধ করে স্কুটারকে এদিক-ওদিক দুলিয়ে, ঘুরিয়ে গতি কমানোর চেষ্টা করল ও। পেছনের চাকাটিকে একটু ঘষটে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেই রাবার থেকে ধোঁয়া বেরোল।
