লোগান উঠে দাঁড়ালেন। তাহলে তোমরা দুজনে নিজেদের কাজ বুঝে নাও। অফিসের দরজা খুলে বিদেয় করলেন ওদের।
ওদের পেছনে দরজা বন্ধ হওয়া মাত্র ক্যাট মনকের হাত শক্ত করে প্যাচিয়ে ধরল। তুমি ডেনমার্কে যাচ্ছ?
হ্যাঁ, তো?
তাহলে ওটার…? ক্যাট ওকে মেয়েদের ওয়াশরুমে ওকে টেনে নিল। এত রাতে এখানে কেউ নেই। একদম ফাঁকা। বাচ্চার কী হবে?
আমি বুঝতে পারছি না। কীজন্য…?
যদি তোমার কিছু হয়ে যায়?
চোখ পিটপিট করে ক্যাটের দিকে তাকাল ও। কিছুই হবে না।
মনকের আরেক হাতের হাত সরিয়ে যান্ত্রিক হাত বের করে দেখাল ক্যাট। তুমি তো সুপারম্যান নও।
মনক নিজের হাত টেনে নিয়ে পেছনে আড়াল করল। ওর মুখ গরম হয়ে উঠেছে। মাছি মারার মতো সহজ অপারেশন এটা। গ্রে ওর কাজ করবে আমি ওকে সাহায্য করব। ওদিকে র্যাচেলও আসছে। ওদের দুজনের মাঝে আমাকে হয়তো কাবাব মে হাড়ি হতে হবে। আর তারপর দি। প্রথম ফ্লাইট ধরে আমরা ফিরে আসব, ব্যস।
অপারেশন যদি এত সহজই হয় তাহলে অন্য কেউ যাক। আমি লোগানকে বলব, এখানে তোমার সাহায্য লাগবে।
হ্যাঁ, তুমি বললেই তিনি শুনবে!
মনক…
আমি যাচ্ছি, ক্যাট। প্রেগনেন্সির ব্যাপারটা তুমিই গোপন রাখতে চাচ্ছ। আমি তো পুরো দুনিয়াকে জানিয়ে দিতে চাই। যা-ই হোক, আমাদের দুজনেরই ডিউটি আছে। তুমি তোমারটা করো, আমি আমারটা। বিশ্বাস রাখো, আমি বেপরোয়া কিছু করব না। ক্যাটের পেটের ওপর হাত রাখল মনক। আমাদের তিনজনের জন্য নিজেকে সাবধানে রাখব।
ক্যাট ওর হাতের ওপর হাত রেখে শ্বাস ফেলল। হুঁ।
হাসল মনক। ক্যাটও হাসল। কিন্তু ক্যাটের চোখে দুশ্চিন্তার ছায়া ঠিকই দেখতে পেল মনক। দুশ্চিন্তার বিপরীতে ওর কাছে মাত্র একটি জবাব আছে।
কাছে এগিয়ে এল ও। দুজোড়া ঠোঁট পরস্পরকে চুমো খেল। ফিসফিস করল ওরা। কথা দিলাম।
কীসের কথা দিলে? ক্যাট জানতে চাইল।
সবকিছু। জবাব দিল মনক। আরও গভীরভাবে চুমো খেল।
একদম মন থেকে কথা দিয়েছে ও।
তুমি এটা গ্রেকে জানাতে পারো, চুমো শেষ করে বলল ক্যাট। তবে হ্যাঁ, ওকে বলো আর কাউকে যেন না বলে।
সত্যি? মন্কের চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কিন্তু পরমুহূর্তেই সন্দেহে সরু হয়ে গেল ও দুটো। কেন?
ওর পেছনে গিয়ে আয়নামুখী হলো ক্যাট। মনকের পাছায় চাপড় মেরে বলল, যাতে সে-ও তোমার খেয়াল রাখে।
ঠিক আছে।
আয়নায় নিজের চেহারা দেখে নিল ক্যাট। আচ্ছা, এখন আমি তোমার সাথে কী
করব?
ওর কোমর জড়িয়ে ধরে মনক বলল, মিস্টার গ্রেগরি সাহেবের মতে আমার হাতে এখনও ৯২ মিনিট সময় আছে।
.
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট।
হিমালয়।
পেইন্টারের পর হামাগুড়ি দিল লিসা।
পাহাড়ি ছাগলের মতো দক্ষতা প্রদর্শন করে ঢাল ও বরফ শিলার ভেতর দিয়ে লিসাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল ক্রো। ভারি তুষারপাত হচ্ছে ওদের ওপর। মাথার ওপরে মেঘের স্কুপ থাকার কারণে আলো কমে গেছে, কয়েক ফুট পরে কী আছে দেখা যাচ্ছে না। দিনের বেলাতেই কীরকম অদ্ভুত ধূসর জ্যোৎস্নার মতো আলো। তবে ওরা অন্তত বরফঅলা দমকা বাতাসের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। ওরা যে গিরিপথ ধরে নিচে নামছে বাতাস বইছে ঠিক তার উল্টো দিকে।
বাতাসের কবল থেকে বাঁচতে পারলেও এই হিমশীতল ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। পারকা আর গ্লোভস থাকা সত্ত্বেও লিসা কাঁপছে। ওরা রওনা হয়েছে এক ঘন্টাও হয়নি। মঠে আগুন লাগায় ওখানকার তাপমাত্রা একটু গরম ছিল, তবে সেটা এখন অতীত। ওর মুখের কয়েক ইঞ্চি চামড়া বেরিয়ে আছে, ঠাণ্ডা বাতাস যেন ওইটুকু জায়গাতেই ঝামা ঘষে দিচ্ছে।
পেইন্টারের অবস্থা আরও খারাপ। এক জোড়া মোটা প্যান্ট, পশমি দস্তানা পরেছে ও। এক মৃত সন্ন্যাসীর শরীর থেকে খুলে নিয়েছে এগুলো। ওর মাথায় কোনো হুডও নেই। মুখের নিচের অংশে একটি স্কার্ফ বেঁধে রেখেছে, ব্যস। ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে ওর শ্বাস সাদা ধোয়া হয়ে বেরোচ্ছে।
আশ্রয় খুঁজতে হবে ওদের।
দ্রুত।
লিসা ঢালে একটু পিছলে যেতেই ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল ক্রো। ওরা গিরিপথের নিচে পৌঁছে গেছে। ঢালু দেয়াল দিয়ে ফ্রেমবন্দীর মতো হয়ে আছে জায়গাটি।
টাটকা তুষার জমেছে এখানে। ওগুলোব গভীরে পা ডুবে যাচ্ছে। স্নো-শু ছাড়া এই বরফ মাড়িয়ে যাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
লিসার উদ্বেগ আঁচ করতে পেরে একদিকের সরু অংশ দেখাল পেইন্টার। ঢালের একটি অংশ সামনে বেরিয়ে ঝুলে আছে। ওখানে গেলে এই বৈরি আবহাওয়ার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। পা টেনে টেনে ওটার দিকে এগোল ওরা।
ঝুলন্ত অংশের নিচে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হয়ে গেল।
পেছনে তাকাল লিসা। ইতোমধ্যে তুষার এসে ওদের পায়ের ছাপ ঢেকে দিতে শুরু করেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে কোনো পায়ের ছাপ আর দেখা যাবে না। কেউ ওদের খুঁজতে এলে, এই বিষয়টি ওদের সাহায্যই করবে। তারপরও লিসার কেমন যেন অস্বস্তি লাগল। মনে হলো, ওদের অস্তিত্বই যেন মুছে যাচ্ছে।
সামনে ঘুরল ও। আমরা কোথায় যাচ্ছি সে-সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণা আছে? লিসা দেখল ওর গলার আওয়াজ ফিসফিসিয়ে বেরোচ্ছে। অবশ্য নিজেরা কোন অজানার উদ্দেশে যাচ্ছে সেই ভয়ে নয়, ঝড়ের ভয়ে আপনা আপনি ফিসফিস করে বলেছে ও।
খুব বেশি কিছু জানি না, বলল পেইন্টার। সীমান্তের এই অংশটুকু ম্যাপে ওভাবে চিহ্নিত করা নেই। এর অধিকাংশ জায়গায় এখনও মানুষের পা পড়েনি। হাত নেড়ে বলল ও। এখানে যখন প্রথম এসেছিলাম তখন স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত কিছু ছবিতে চোখ বুলিয়েছি। কিন্তু ওগুলো বাস্তব পরিস্থিতিতে তেমন কাজে আসবে না। এখানকার ভূমি খুব বেশি অসমতল। পর্যবেক্ষণ করা কঠিন।
