ওর বুকে ঘুষি মারল ক্যাট। ব্যথাও লাগল। অ্যাই! আমাকে নিয়ে মজা করবে না। ক্যাটের বলার ভঙ্গির আড়ালে থাকা হাসিটুকু মনকও টের পেল।
ক্যাটকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ও। ঠিক আছে। আপাতত আমরা এটাকে গোপন রাখব।
মনককে জড়িয়ে ধরে চুমো খেল ক্যাট। আবেগে ভরা গভীর চুমো নয়, স্রেফ ধন্যবাদস্বরূপ। জড়িয়ে রাখা বাধন খুলল ওরা। তবে একে অন্যের আঙুল ধরে রইল। এগিয়ে চলল সামনে।
উজ্জ্বল আলোয় এসে পড়ল ওরা। স্মিথসোনিয়ান ক্যাসল, এখানেই ওদের আসার কথা। পাথুরে লাল ছাদ, টাওয়ার, টাওয়ারের চুড়ো এগুলো অন্ধকারের মধ্যে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে রয়েছে। শহরের সেকেলে চেহারার পরিচয় বহন করছে এই ভবন। মূল ভবনটিকে স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউশন-এর ইনফরমেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হলেও ওটার ঠিক নিচেই সিগমা ফোর্সের সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘটি। এর আগে নিচের এই অংশটিকে বোমা হামলার সময় মানুষজনের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। DARPAর গোপন মিলিটারি ফোর্সকে আড়াল করছে ভবনের এই অংশ। স্মিথসোনিয়ান-এর এই প্রাণকেন্দ্রে মিলিটারি বৈজ্ঞানিকরা ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে।
ভবনের নিচতলায় পৌঁছুতেই মনকের হাত থেকে নিজের আঙুল ছাড়িয়ে নিল ক্যাট।
ওকে লক্ষ করল মনক, দুশ্চিন্তা এখনও ওর মনে খুঁতখুঁত করছে।
সবকিছু মিটমাট হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এখনও ক্যাটের আচরণে একধরনের নিরাপত্তাহীনতাবোধ লক্ষ করছে ও। বাচ্চার চেয়েও বড় কোনো বিষয় আছে কী?
আমি যতক্ষণ না নিশ্চিত হচ্ছি।
কীসের নিশ্চিত?
বিষয়টি সিগমা কমান্ডের ভূগর্ভস্থ অফিসে যাওয়ার পথ জুড়ে মনকের মনে খচখচ করতে লাগল। তবে দুশ্চিন্তার নতুন বহর যোগ হলো লোগান গ্রেগরির বক্তব্য শোনার পর।
ওই এলাকা এখনও ঝড়ের কবলে ডুবে আছে। বজ্রসহ ঝড়ের তাণ্ডব চলছে পুরো বঙ্গোপসাগরে। একটি ডেস্কের পেছনে বসে লোগান ব্যাখ্যা করলেন। দেয়ালে একসারি এলসিডি কম্পিউটার স্ক্রিন শোভা পাচ্ছে। ওগুলোর মধ্যে দুটোতে তথ্য দেখাচ্ছে। এশিয়ার উপরে থাকা স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি সরাসরি দেখাচ্ছে এটা।
স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত একটি ফটো ক্যাটের কাছে দিল মনক।
আশা করা যায়, সূর্য উদয়ের আগেই আমরা আরও কিছু জানতে পারব। বললেন লোগান। ভোরের দিকে আং গেলু একজন মেডিক্যাল স্টাফকে নিয়ে মঠের দিকে রওনা করেছিলেন। ঝড় শুরু হওয়ার আগেই গিয়েছিল তারা। এখনও অনেক বেলা বাকি। ওখানে মাত্র দুপুর। তাই আশা করা যায়, শীঘ্রি আমরা আরও কিছু জানতে পারব।
ক্যাটের দিকে এক পলক তাকাল মনক। ডিরেক্টরের তদন্ত সম্পর্কে ব্রিফ করা হলো ওদের। বিগত তিন দিন যাবত পেইন্টার ক্রোর সাথে কমান্ডের কোনো যোগাযোগ নেই। লোগান সাহেবের চোখ-মুখের হাল দেখে বোঝা যাচ্ছে এই ব্যক্তি পুরোটা সময় জেগে কাটিয়ে দিয়েছে। বরাবরের মতো তার পরনে নীল স্যুট আছে, তবে কনুই আর হাঁটুর অংশটুকু একটু দুমড়ে গেছে ওটার। সিগমার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ব্যাপারটিকে একটু দৃষ্টিকটু বলা চলে। শুকনো সোনালি চুল আর পেটা শরীরে সবসময় তাঁকে তরুণ মনে হলেও আজ রাতে বোঝা যাচ্ছে তার বয়স চল্লিশেরও বেশি। ঘোলা চোখ, ফ্যাকাসে মুখ আর কুঁচকে থাকা চামড়ার কারণে তার বয়স ফুটে উঠেছে আজ।
গ্রের কী খবর? ক্যাট প্রশ্ন করল।
দৃঢ় টেপে মোড়া একটি ফাইলকে ডেস্কের ওপর রাখলেন লোগান। ভঙ্গিটা এমন, আগের প্রসঙ্গ নিয়ে তার আর কিছুই বলার নেই। দক্ষতার সাথে দ্বিতীয় আরেকটি ফাইল নিয়ে সেটা খুললেন লোগান। এক ঘণ্টা আগে কমান্ডার পিয়ার্সের জীবনের ওপর হামলা হয়েছিল।
কী? সামনে ঝুঁকল মনক, অনেকটা হঠাৎ করেই। তাহলে এসব আবহাওয়ার রিপোর্ট কীসের জন্য?
শান্ত হও। পিয়ার্স নিরাপদে আছে, ব্যাকআপের জন্য অপেক্ষা করছে। লোগান বললেন। কোপেনহ্যাগেনে ঘটে যাওয়া ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশগুলো শোনালেন তিনি। গ্রে কীভাবে বেঁচেছে সেটাও জানিয়ে দিলেন। মনক, আমি ঠিক করেছি, তুমি কমান্ডার পিয়ার্সের সাথে যোগ দেবে। ডালস-এ একটি জেট প্লেন তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। ৯২ মিনিট পর ফ্লাইট।
মনককে মানতেই হবে, লোগান সাহেব একজন দক্ষ লোক। মিনিট বলে দিলেন অথচ ঘড়ির দিকে একবার তাকানোরও প্রয়োজনবোধ করলেন না।
ক্যাপ্টেন ব্রায়ান্ট, ক্যাটের দিকে ফিরে বললেন লোগান। আর এই সময়টুকু তোমাকে এখানে চাই। আমরা এখান থেকে নেপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। কাঠমাণ্ডুতে আমাদের অ্যাম্বাসিতে ফোন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তোমার আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা প্রয়োজন পড়বে।
অবশ্যই, স্যার।
দুশ্চিন্তা করার স্মিথসোনিয়ান ফয়ত্ব পালন
ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চে ক্যাটের পদবী উন্নতি হওয়ার কারণে মনক হঠাৎ তৃপ্তিবোধ করল। ক্যাট এরকম সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তে লোগানের ডান হাত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। বাইরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার চেয়ে স্মিথসোনিয়ান ক্যাসলের এই ভূগর্ভস্থ অফিসে নিরাপদে থাকবে ক্যাট। দুশ্চিন্তা করার একটি জায়গা কমল।
মনক দেখল ক্যাট ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ওর তাকানোর ভঙ্গিতে রাগের ছটা, মনে হচ্ছে ও মন্কের মন পড়তে পারছে। মনক নিজের চেহারা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল।
